বন্যায় দুর্বিষহ জীবন : সর্বহারা মানুষের পাশে দাঁড়ান

আগের সংবাদ

পদ্মা সেতু নতুন দিগন্তের সূচনা

পরের সংবাদ

শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও যথাযথ মূল্যায়ন হোক

মো. আব্দুল করিম গাজী

শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২২ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ

একটি দেশের শিক্ষার মান নির্ভর করে সেই দেশের শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্মত শিক্ষার ২০ শতাংশ নির্ভর করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ওপর। বাকি ৮০ শতাংশই নির্ভর করে যোগ্য শিক্ষকের ওপর। বর্তমান সময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, ছাত্র-শিক্ষকের সেই সোনালি দিনগুলো তেমন আর দেখা যায় না। যেসব ছাত্র শিক্ষকদের দেখামাত্রই চলন্ত বাইসাইকেলে থাকলেও নেমে যেত, শিক্ষককে সালাম দিত। মানুষ মনে করত নিশ্চয়ই এটা ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হবে। কিন্তু কালের আবর্তনে হারিয়ে গেছে এমন সব চোখ জুড়ানো দৃশ্য। ছোট বেলায় সবার বাংলা পাঠ্যপুস্তকে ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কাজী কাদের নেওয়াজের কবিতাটি ছোট বড় সবার মুখে মুখে ছিল।
বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধূলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
আজকের এই দিনে- এমন দৃশ্য খুব একটা বেশি দেখা যায় না।
‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ কিন্তু এমন শিক্ষা নয়, যে শিক্ষার কারণে শিক্ষক, সহপাঠী, সাধারণ মানুষ তার দ্বারা আক্রান্ত হয়। একজন সুশিক্ষিত শিক্ষার্থীর আচরণ দেখলেই যেন বোঝা যায় সে একজন আদর্শবান মানুষ। একটা শীতল বটগাছের মতো, যেখানে মানুষ প্রশান্তির নিশ্বাস নিতে পারে। এমন করে যদি ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হয়, তাহলে এর সুফল সমাজ, পরিবার এবং রাষ্ট্রের মধ্যে পজিটিভ প্রভাব ফেলবে। এমন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন শিক্ষক গর্ববোধ করেন। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রছাত্রীর কারণে, শিক্ষকরাও তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। আর এমন সব দায়িত্ব পালন করতে গেলে হুমকি, পুকুরে ফেলে দেয়াসহ কাউকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। এমন জঘন্য আচরণ যদি একজন শিক্ষককে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মেধাবী শিক্ষকরা এ শিক্ষকতা পেশায় আসতে চাইবেন না। আর এটার চাক্ষুষ প্রমাণও আমরা দেখতে পাচ্ছি। ক্ষমতার জোর খাটিয়ে ছাত্রদের দ্বারা শিক্ষককে হেনস্থা, অবমূল্যায়নসহ আরো অনেক নিচু মানসিকতার কাজ করতে দেখছি শিক্ষাক্ষেত্রে যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে বর্তমান পরিস্থিতিতে সব শিক্ষককে যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যারা এ ধরনের অন্যায় শিক্ষকদের সঙ্গে করবে, তাদের এমন শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করতে কেউ সাহস না পায়। আর কোনো প্রকার ক্ষমতা, টাকার জোর, দলীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেন এমন অপরাধ কেউ করতে না পারে, সেদিকে সরকার এবং কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

মো. আব্দুল করিম গাজী
শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়