মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, পতনের মুখে শিবসেনা জোট সরকার

আগের সংবাদ

সহজ জয়ে উইম্বলডনের তৃতীয় রাউন্ডে জোকোভিচ

পরের সংবাদ

বেড়েই চলছে রাজস্ব ঘাটতি

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২ , ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২২ , ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

আদায় করতে হবে ৮০ হাজার কোটি টাকা > ঘাটতি ৩৬ হাজার কোটি টাকা > ঘাটতি নিয়েই শুরু হবে নতুন অর্থবছর

কয়েক বছর ধরে বাজেটের আকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অর্জন অযোগ্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণের এ রকম একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আর আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১১ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। চলতি জুন মাসে এই অর্থবছর শেষ হবে। সেই হিসাবে রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে চলতি মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায় করতে হবে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা যা এনবিআরের সক্ষমতা অনুযায়ী অসম্ভব বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ বছর শেষে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়বে সরকার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী এক মাসে বড়জোর ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব। তবুও প্রায় অর্ধ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু করতে হবে। আর আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকেও অযৌক্তিক বলছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছরই অর্জন অযোগ্য একটা লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। বছর শেষে তা কাটছাঁট করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এনবিআরের সক্ষমতা বিবেচনায় নেয়া হয় না। এসব কারণেই বছর শেষে বড় অঙ্কের ঘাটতির মুখে পড়তে হয় এনবিআরকে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের রাজস্ব আহরণের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নসহ নানা কার্যকরি উদ্যোগ নিলেও সুফল মেলেনি। গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আহরণের

প্রধান খাত হিসেবে বিবেচনায় নিলেও আদায়ে পিছিয়ে ভ্যাট। চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১১ মাসে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। আর এনবিআরের রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধির ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ হলেও ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।
আলোচ্য সময়ে আয়কর ও ভ্রমণ খাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৭৭ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১১ মাসে আয়কর খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বেড়েছে কাস্টমসের রাজস্ব আহরণ। আর আমদানি-রপ্তানি খাতে যে পরিমাণে রাজস্ব আহরণ হয় তা আমদানি খাত থেকেই হয়। যে কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের আমদানি খাতের খরচও বেড়ে যায়। যার উপর ভিত্তি করে আমদানি-রপ্তানি খাতে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে বলেও মনে করেন তারা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান ও গবেষণা বিভাগের তথ্য পর্যালোচনায় আরো দেখা গেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। আর আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি-রপ্তানি খাতে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এনবিআরের প্রবৃদ্ধির হিসাবে গত ১১ মাসে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্থাৎ ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ অর্জন হয়েছে আমদানি-রপ্তানি খাতে। আলোচ্য সময়ে এই খাতের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমদানি-রপ্তানি খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়