ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু শুক্রবার

আগের সংবাদ

‘কফি উইথ করণে’ আসতে চাইছেন না বলিউড তারকারা!

পরের সংবাদ

প্রেমিকার সামনে অপমানের প্রতিশোধ নিতে শিক্ষককে হত্যা করে জিতু

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২ , ১:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২২ , ২:১৩ অপরাহ্ণ

ঢাকার আশুলিয়াতে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি আশরাফুল আহসান জিতু ওরফে জিতু দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব বলছে, ঘটনার কিছুদিন আগে, ওই স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার জিতুর অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ভিক্টিম শিক্ষক প্রেষণা প্রদান করেন। এই ঘটনায় সে তার শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্রীর কাছে নিজের হিরোয়িজম দেখানোর জন্য তার উপর হামলার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোণে শিক্ষককে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গ্রেপ্তার জিতু তার কাছে থাকা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে অতর্কিতভাবে বেধড়ক আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে হত্যা করে।

বুধবার (২৯জুন) সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার (৩০জুন) দুপুরে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গত ২৫ জুন ঢাকার আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করে ওই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী আশরাফুল আহসান জিতু। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুন ভোরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ২৬ জুন একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর-৮৯। উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুলভাবে আলোচিত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব উক্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িতকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

খন্দকার মঈন বলেন, নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০১৩ সালে আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল এন্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ওই কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, চুলকাটা, ধুমপান করা ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত বিষয়ে প্রেষণা প্রদান করতেন।

এছাড়াও, তিনি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলাধুলা পরিচালনা করাসহ শিক্ষার্থীদের সুপরামর্শ, মোটিভেশন ও কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখতেন।

র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার জিতু তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সে শিক্ষা জীবনে বিরতি দিয়ে প্রথমে স্কুল পরে মাদ্রাসা ও সর্বশেষ পুনরায় স্কুলে ভর্তি হয়। সে ওই স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। সে স্কুলে সবার কাছে একজন উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মারামারিসহ স্কুলের পরিবেশ নষ্টের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও স্কুল চলাকালীন ছাত্রীদের ইভটিজিং ও বিরক্ত করত। স্কুল প্রাঙ্গণে সকলের সামনে ধুমপান, স্কুল ইউনিফর্ম ব্যতিত স্কুলে আসা-যাওয়া, মটর সাইকেল নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত। সে তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলে। পাশাপাশি গ্যাং সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে যত্রতত্র আধিপত্য বিস্তার করত। পরিবারের কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে গ্রেপ্তার জিতু তার অনুসারী গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের উপর চড়াও হতো ও বিভিন্ন সময় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে হামলা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে শোডাউন দিত বলে জানা যায়।

গ্রেপ্তারকে জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব কর্মকর্তা মঈন জানায়, ঘটনার কয়েকদিন আগে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার জিতুর অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ভিক্টিম শিক্ষক প্রেষণা প্রদান করেন। এই ঘটনায় সে তার শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ও ওই ছাত্রীর কাছে নিজের হিরোয়িজম প্রদর্শন করার জন্য তার উপর হামলার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, সে গত ২৫ জুন ২০২২ তারিখ একটি ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প স্কুলে নিয়ে আসে এবং তা শ্রেণি কক্ষের পিছনে লুকিয়ে রাখে ও তার শিক্ষককে আঘাত করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোনে শিক্ষককে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গ্রেপ্তার জিতু তার কাছে থাকা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে অতর্কিতভাবে বেধড়ক আঘাত করতে থাকে।

গ্রেপ্তার জিতু তার শিক্ষককে প্রথমে পিছন থেকে মাথায় আঘাত করে এবং পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার জিতু এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করলেও পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের আশংকায় সে এলাকা ত্যাগ করে। প্রথমে বাসযোগে মানিকগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতে থাকে। পরদিন সে তার অবস্থান পরিবর্তন করে আরিচা ফেরীঘাটে পৌঁছায় এবং ট্রলারযোগে নদী পার হয়ে পাবনার আতাইকুলাতে তার এক পরিচিতের বাড়িতে আত্মগোপন করে।

পরদিন ভোরে সে আবারও তার অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য আতাইকুলা থেকে বাসযোগে কাজিরহাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে লঞ্চযোগে আরিচাঘাট পৌঁছায় এবং সেখান থেকে বাসযোগে গাজীপুরের শ্রীপুরে ধনুয়া গ্রামে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে বলেও জানায় র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার মঈন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়