পদ্মা সেতু নতুন দিগন্তের সূচনা

আগের সংবাদ

প্রবাসীদের গলার কাঁটা পুরনো পাসপোর্ট!

পরের সংবাদ

দেশে আবারো করোনা বৃদ্ধি : মাস্ক পরুন, সুস্থ থাকুন

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২ , ১:২৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২২ , ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

দেশে ফের করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের খবর গণমাধ্যমে আসছে। গত মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিন দুই হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন তিনজন। যেভাবে সংক্রমণের হার বাড়ছে, তাতে আর কয়েক দিনেই দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ প্রেক্ষাপটে সরকার আবারো ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি নিয়ে গতকাল সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ছয় দফা আদেশ বাস্তবায়নের চিঠি দিয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা জরুরি। পাশাপাশি এ বিষয়ে জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে, তাদের সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির দেশে করোনার মতো দীর্ঘস্থায়ী মহামারি মোকাবিলা করা সহজ কাজ নয়। একদিকে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত, অন্যদিকে জীবিকা রক্ষার চেষ্টা করা- সব মিলিয়ে যে কোনো সরকারের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এরপরও আমরা বড় ট্র্যাজেডি এড়াতে পেরেছি। কারণ অনেক দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা এ পর্যন্ত সংক্রমণ মোকাবিলায় অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো করেছি। নতুন করে করোনার ঊর্ধ্বমুখীতে উদ্বেগ বাড়ছে- এটাই স্বাভাবিক। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৪৫ জনে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ২ হাজার ৮৭ জন। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬১ জনে। শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে টিকাদান কর্মসূচি আরো জোরালো হলে এ হার আরো কম হতো বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সরকার সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় সেটি বদল করে এখন ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১২ কোটি ৯ লাখের বেশি মানুষ করোনা টিকার এক ডোজ পেয়েছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৭৫.৭৫ শতাংশ। আর টিকার দুই ডোজ পাওয়া নাগরিকের সংখ্যা ১১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৭০.০৫ শতাংশ। বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ১৬২টি, যা মোট জনগোষ্ঠীর ২৪.২৪ শতাংশ। সে হিসাবে এখনো বুস্টার ডোজ পাননি ৪৬ শতাংশ মানুষ। বুস্টার (তৃতীয়) ডোজ প্রয়োগে দেশ এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। হাতে পর্যাপ্ত টিকা থাকলেও দ্রুত সময়ে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজ দেয়ার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা দৃশমান নয়। করোনা ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি দ্রুত সময়ে ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজের আওতায় আনতে হবে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, ভিড় এড়িয়ে চলার পাশাপাশি টিকা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। করোনার সংক্রমণ কমার পর আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে যে উদাসীনতা তৈরি হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশ্বের আক্রান্ত অন্যান্য জায়গা থেকেও যারা আসবে তাদের বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনোভাবেই স্ক্রিনিং ছাড়া যেন আক্রান্ত দেশের কোনো ব্যক্তি দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়