প্রবাসীদের গলার কাঁটা পুরনো পাসপোর্ট!

আগের সংবাদ

রোহিতের করোনা, ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন বুমরাহ

পরের সংবাদ

ঢাকার তৃণমূলে আ.লীগের পদ পেলেন ৫৪ হাজার কর্মী

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২ , ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২২ , ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
  • থানা-ওয়ার্ডে পদ পাচ্ছেন আরো সাড়ে ১২ হাজার > সংগঠন গোছাতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নগর নেতারা

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা ঢাকা মহানগর। বর্তমানে সংগঠনটি মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখায় বিভক্ত। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর থেকে দীর্ঘ বছর ছিল সম্মেলনের জট। বছরের পর বছর সম্পূর্ণ কমিটি হতো না। এক কমিটি পার করেছে এক যুগের বেশি সময়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই দিন ৪৯টি থানা ও ১০৩টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষিত হয়। এর ৬ মাস পর ১২ সেপ্টেম্বর দুই ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়। কিন্তু ৬ বছরে থানা ও ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। প্রায় সাড়ে ১ হাজার ৪০০ ইউনিটে হয়নি কোনো কমিটি। হানিফ-মায়ার আমলে যে কমিটি হয়েছিল, তা দিয়েই চলছিল এসব ইউনিট। ফলে নতুনরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পায়নি। দলের সক্রিয়কর্মী হয়েও পরিচয় দেয়ার মতো ছিল না তাদের কোনো পদ। নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ক্ষোভ-অভিমান। সাংগঠনিকভাবে সংগঠনও খুব একটা শক্তিশালী ছিল না। বিগত কমিটিও সে রকম কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।

২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর আবু আহমেদ মন্নাফী ও হুমায়ুন কবিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং শেখ বজলুর রহমানকে সভাপতি ও এস এম মান্নান কচিকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ১ বছর পর ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ইউনিট দুটি। বর্তমানে দুই মহানগরীতে থানা ও ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়েছে। থানার সংখ্যা ৫০টি। আর ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৩৯টি। আর ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ৪৫২টি। দক্ষিণে ২৪টি থানা, ৭৫টি ওয়ার্ড এবং ৬৫০টি ইউনিট আছে। উত্তরে ২৬টি থানা, ৬৪টি ওয়ার্ড এবং ৮০২টি ইউনিট আছে। করোনা মহামারি কাটিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আর দক্ষিণ ইউনিটের সব কমিটি ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়, মহানগর ও থানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এসব সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই কমিটিগুলো করা হচ্ছে।

১৪৫২ ইউনিটে ৫৪ হাজার পদ : ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ৬৫০টি ইউনিট আছে। সম্মেলনের মাধ্যমে ৯৯ ভাগ কমিটি গঠন হয়েছে। চলতি মাসেই বাকি কমিটি গঠন শেষ করা হবে। ৬৫০টি ইউনিটের প্রত্যেকটিতে ৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোট পদ পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫০ জন দলীয় কর্মী। আর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ৮০২টি ইউনিটেই সম্মেলন শেষ হয়েছে। এসব ইউনিটেও ৩৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সর্বমোট দলীয় পদ পেয়েছেন ২৯ হাজার ৬৭৪ জন। সব মিলিয়ে দুই মহানগরীর ইউনিটগুলোতে দলীয় পদ পেয়েছেন মোট ৫৩ হাজার ৭২৪ জন।

থানা-ওয়ার্ডে পদ পাবেন আরো সাড়ে ১২ হাজার কর্মী : জুলাই থেকে ২৪টি থানা ও ৭৫টি ওয়ার্ডে সম্মেলন শুরু করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটের সম্মেলন শেষ করার টার্গেট নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরপর সম্মেলনে প্রাপ্ত তালিকা দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। তার সম্মতি পেলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। মহানগরীর প্রতিটি থানা কমিটি ৭১ সদস্যের। দক্ষিণের ২৪টি থানায় পদ পাবেন ১ হাজার ৭০৪ জন দলীয় কর্মী। আর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে ৬৯ জন। ৭৫টি ওয়ার্ডে দলীয় পদ পাবেন ৫ হাজার ১৭৫ জন। অন্যদিকে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ডের সম্মেলন গত ১০ জুন থেকে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ হয়েছে। চলতি মাসের শেষ অথবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এসব সম্মেলন শেষ করতে চায় সংগঠনটি। উত্তরের ২৬টি থানায় নতুন করে পদ পাবেন ১ হাজার ৮৪৬ জন। আর ৬৪টি ওয়ার্ডের কমিটিতে পদ পাবেন ৪ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ ৫০টি থানা ও ১৩৯টি ওয়ার্ডে সর্বমোট দলীয় পদ পাবেন ১২ হাজার ৬৫৮ জন। সেপ্টেম্বরে সব সম্মেলন শেষ করতে পারলে ওই মাসের শেষ অথবা অক্টোবর মাসে নতুন কমিটি পাবে মহানগরীর থানা ও ওয়ার্ডগুলো।

সাংগঠনিক টিমগুলো সক্রিয় : ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৮টি নির্বাচনী আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সমন্বয়ে ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। সংগঠন গোছাতে রীতিমতো মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। দফায় দফায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে সম্মেলন আয়োজনের কাজ করছেন। পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত যাছাইবাছাই করে কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। একইভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ২৬টি থানায় নগর নেতাদের সমন্বয়ে ২৬টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক প্রলয় সমাদ্দর বাপ্পী। এসব টিমের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা নগর নেতা, ওই এলাকার সংসদ সদস্য, থানা ও ওয়ার্ডের নেতাদর সমন্বয়ে ইউনিট কমিটিগুলো করা হয়েছে।

রি-আরএ/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়