সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই

আগের সংবাদ

দারিদ্র্য দূরীকরণে চাই টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা

পরের সংবাদ

শিক্ষকের মৃত্যু যেন একটি জাতির সম্মানের অপমৃত্যু; অনশনে ঢাবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২ , ১১:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৩০, ২০২২ , ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

রাজধানী সাভারের আশুলিয়ায় হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা যেন একটি জাতির সম্মানের অপমৃত্যু বলে উল্লেখ করেছেন ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অনশন করা ঢাবি শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল রনি।

বুধবার (২৯ জুন) দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী দেশে চলমান শিক্ষক হেনস্তা ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ ও খুনীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন। এতে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

তবে রাতে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতুকে গ্রেপ্তার করলে তারা রাত সাড়ে আটটায় অনশন ভঙ্গ করেন।

অনশন করা শিক্ষার্থীরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী চৌধুরী শামিম আফফান, পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ ও মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল রনি, বাংলা বিভাগ ও মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম। তিনজনই ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দর্শন বিভাগ শিক্ষার্থী জাবেদ মুন্না ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম পারভেজ। তারা দুজনেই ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ ও সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী। এছাড়াও সংহতি জানিয়ে অনশনে অংশগ্রহণ করেন সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সাটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান, ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রুমিন আয়াত।

অনশনে অংশ নেওয়া ঢাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল বলেন, একজন শিক্ষক একটি জাতি উন্নয়নের কারিগর। শিক্ষকদের অপমান অপদস্ত জাতির জন্য ভালো কিছু বহন করেনা। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের বাজে ঘটনা যাতে না হয় সেজন্য আমরা অনশনে বসেছি।

এসময় ঢাবির পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা রনি বলেন, শেষ কয়েকদিন ধরেই আমরা শিক্ষকদের অপমানসূচক ও অবমাননাকর ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করছি। সাভারের ঘটনায় এটা একজন শিক্ষকের মৃত্যু নয় বরং জাতির সম্মানের অপমৃত্যু। যা জাতির জন্য লজ্জা ও অপমানের। আমরা জিতুর মতো কুলাঙ্গারের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করে প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করছি।

ঢাবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, দেশ গড়ার কারিগর হলো শিক্ষক। নড়াইল ও সাভারের ঘটনা দুটি প্রকাশ্যে ও জনসম্মুখে করা হয়েছে। আজ চট্টগ্রামের এক শিক্ষক আত্মহত্যা করে মারা গেল। এটা জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অশনি সংকেত। যে বয়সে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে থাকার কথা সেই বয়সে তারা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করছে। সারাদেশে কিশোর গ্যাঙ এর এটা কুফল বলে আমি মনে করি। প্রশাসন যেন জিতুর মতো বখাটেকে গ্রেপ্তার করে বর্তমান প্রজন্মকে শক্ত বার্তা দেয়।

অনশনে অংশ নেওয়া গ্রিন ইউনিভার্সিটির এলএলবির শিক্ষার্থী রুমিন আয়াত বলেন, একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে শাসন করতেই পারে। তাই বলে কি সে শিক্ষককে হত্যা করবে? আবার, সামান্য ঘটনার জেরে প্রশাসনের মানুষদের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানো মোটেও সংযত নয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে অনশনে বসেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার যেন হয়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়