পাঁচ বছর পর বাজারে আসছে এমারেল্ডের রাইস ব্রান অয়েল

আগের সংবাদ

উইম্বলডনে শুরুতেই বিদায় সাতবারের চ্যাম্পিয়ন সেরিনা উইলিয়ামসের

পরের সংবাদ

ভিটাহীন সংসার, আকাশ মাথায়

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২ , ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৯, ২০২২ , ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো পানির নিচে, সিলেট-সুনামগঞ্জে নতুন করে বাড়ছে পানি

‘ভিটাহীন সংসার, আকাশ মাথায়। নিচে তুমি হও অনিকেত, চোখেমুখে ভয় আর ভাসান ব্যথায়, দূরে ভাসে ঘর..প্রাণী..ক্ষেত। জাগাও হৃদয়-জমি আরও একবার, ফলবতী হোক প্রাণরাশি। ফিরে যাক উৎসের পারে পারাবার, ফের ঘর বাঁধো বানভাসি’- পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বাসিন্দা কবি শেখর করের লেখা কবিতার এই লাইনগুলোই যেন সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের প্রকৃত চিত্র। সবমিলিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ এবং পুনর্বাসন তৎপরতাও আশা জাগাচ্ছে না। এ অবস্থায় পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর আরেকটা অন্যরকম যুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বানভাসিরা। তবে নতুন করে পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের পথে পথে ঘুরে দেখা গেছে, গত ১২ দিন আগেও যাদের সাজানো সুখের সংসার ছিল। তারা আজ ছিন্নমূল। পথেই তাদের বাস। পথেই তাদের জীবিকা। রাস্তার পাশ ঘেঁষে ছোট ছোট ঘর। বাঁশের খুঁটি পুঁতে তাঁবুর মতো করে তৈরি করা হয়েছে সেসব। যেন যুদ্ধপরবর্তী শরণার্থী শিবির। কোনোটির ছাউনি ত্রিপলের। কোনোটি আবার মোটা পলিথিনের। কারো ছাউনি আবার পুরনো সিমেন্টের বস্তা কেটে সেলাই করে বানানো। কোথাও কোথাও একই ছাউনির নিচে মানুষ ও গবাদিপশুর একত্র বসবাস। পিকআপ ভ্যান কিংবা ট্রাক দেখলেই চলন্ত গাড়ির পেছন পেছন তীর্থের কাকের মতো হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সড়কে আশ্রয় নেয়া বানভাসি এসব মানুষ। বন্যাক্রান্ত এলাকায় এমন দৃশ্যই নির্মম বাস্তবতা।

নজিরবিহীন এই বন্যায় ভাসিয়ে নিয়েছে নদীর তীর, অসংখ্য ঘরবাড়ি। নিশ্চিহ্ন হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বেশির ভাগ সড়কের স্থানে স্থানে ভাঙন ছাড়াও রয়েছে বড় বড় গর্ত। উপজেলার অধিকাংশ পাকা ও কাঁচা সড়কের মাটি সরে গেছে, অনেক ব্রিজ-কালভার্ট ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে আছে। ফলে অফিসপাড়াসহ জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। অন্যদিকে বজ্রপাত, টিলা ধস, বানের পানিতে ভেসে যাওয়া ও নৌকাডুবিতে সরকারি হিসাবে ৫২ জনের প্রাণহানি ঘটলেও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরো বেশি বলে জানা গেছে। হাঁস-মোরগ ছাড়াও ভেসে গেছে শতাধিক গরু-ছাগল। ঢলে ভেসে যাওয়া স্থানীয় মৃত গবাদিপশুর পচা দুর্গন্ধে ক্রমেই দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ধসে গেছে বিপুলসংখ্যক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। পানি পুরোপুরি না কমায় বাঁচার তাগিদে ত্রাণের আশায় গৃহহীন পানিবন্দি ৫০ ভাগ মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে ডায়রিয়াসহ আমাশয় ও জ¦রে কাবু হচ্ছেন বানভাসি মানুষ।

বন্যা এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সিলেটে ৩৪২টি ও সুনামগঞ্জে ২৬৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ঠিক কতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাকবলিত হয়েছে তার পরিপূর্ণ হিসাব এখনো করেনি। তবে সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলের চার জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৫ হাজার ৫৪টি। এর মধ্যে গত বুধবার পর্যন্ত ৩ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত ছিল। এর মধ্যে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় ১ হাজার ১৪৮টি বিদ্যালয়। তবে বন্যায় প্লাবিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৮২৮। গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো বন্যার পানি রয়েছে।

ভয়াবহ বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৪১৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সিলেট সড়ক বিভাগে ক্ষতি হয়েছে ১৫৬ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে ১৮৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভাগের অধীনে ৬০০ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৮টি বিজ্র-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো বন্যার পানি পুরোপুরি না নামায় ক্ষয়ক্ষতির ঠিক পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে পুরোপুরি বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬০ কিলোমিটার সড়কে ১৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ সিলেট বিভাগের ১২টি সড়কে বন্যার পানি উঠেছে। এসব সড়কের ব্রিজ-কালভার্ট ও অ্যাপ্রোচ সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। প্রথম দফা বন্যায় বেশ কয়েকটি সড়কের অন্তত ৭৫-৮০ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৬৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। দ্বিতীয় দফা বন্যায় সব সড়ক তলিয়ে গেছিল এবং পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুল আলম বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বন্যায় ২৭২ কিলোমিটার সড়ক এবং তিনটি ব্রিজ কালভার্ট বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির আসল চিত্র পাব সব জায়গা থেকে পানি একবারে নেমে গেলে। এবারের বন্যায় এলজিইডির অধীন সড়ক ও সেতু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবীর বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সিলেট জেলার ৬০ ভাগ সড়ক প্লাবিত হয়েছে। এখনো ৪টি উপজেলার সড়কে পানি রয়েছে। সড়কগুলো থেকে পুরোপুরি পানি না নামলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ করা যাবে না।

এদিকে, বন্যাক্রান্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো প্রায় অনেক এলাকায় ঘরের ওপর দিয়ে বানের পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এই স্রোত বহু ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। অনেকেই ঘরের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন না। এখন জীবন বাঁচিয়ে কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে আবার কেউবা সড়ক-মহাসড়কের পাশে খুপরি ঘর তৈরি করে কিংবা ট্রাকে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কোথাও প্রাণচাঞ্চল্য নেই।

সিলেটের সালুটিকরের বাসিন্দা জুলি বেগম বলেন, বন্যার পানি তার বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এরপর তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার বারান্দায় ছিলেন। সেই মাদ্রাসায় আর থাকতে পারছেন না। কিন্তু কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। গত তিন দিন ধরে তিনি পথে পথেই ঘুরছেন।

বিশ্বনাথের লামাকাজি এলাকায় দায়িত্বরত বিশ্বনাথ থানার উপপরিদর্শক কুতুব উদ্দিন জানালেন, এবারের বন্যা হাওর জনপদে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। তিনি বলেন, গত শুক্রবার তারা বন্ধুরা মিলে ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে, টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশে। তারা দেখে এসেছেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মানুষের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বন্যা। এ কারণে তারা এখন আর ত্রাণ দেবেন না; বন্ধুরা মিলে প্রত্যন্ত এলাকায় ঘরবাড়ি মেরামত করে দেবেন বলে সংকল্প করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা দোয়ারাবাজার। সেখানে এখনো নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর থেকে সরেনি পানি। দিন যতই গড়াচ্ছে, দুর্ভোগ ততই বাড়ছে। পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশু-পাখিসহ জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসি লাখো মানুষ। শুধু দোয়ারাবাজার নয়, ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার তালিকায় রয়েছে শাল্লা, দিরাই, বিশ্বম্ভবরপুর, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, মধ্যনগর ও শান্তিগঞ্জ।

দোয়ারাবাজারের প্রত্যন্ত জনপদ আমবাড়ি গ্রামের জুলেখা বেগম সেদিনের বন্যার তাণ্ডবের কথা জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। বললেন, সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টিমুখর রাতে ৩ সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরের দিকে হঠাৎ তিনি টের পেলেন ঘরে পানির শব্দ। দেখেন জুতা ও ঘরের আসবাবপত্র পানিতে ভাসছে। স্বামীকে ডেকে নিজেই খাট থেকে নেমে দেখেন, ঘরে হাঁটু সমান পানি। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে সে পানি গলা সমান হয়ে যায়। জুলেখা বেগম জানালেন, সন্তানদের নিয়ে ভাসতে ভাসতে কোনো মতে সড়কে উঠতে পারেন তিনি। কিন্তু ঘরের কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। ভেসে যায় ঘরের সব। প্রায় ৫ দিন না খাওয়ার কষ্টে ছিলেন। পরে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলে কিছু শুকনো খাবার খেয়ে জীবন বাঁচান। তিনি জানালেন, এমন ভয়াবহতার শিকার গ্রামের প্রায় সবাই। এলাকার এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী জানালেন, পানির স্রোতের কাছে মুহূর্তেই সবকিছুই তছনছ হয়ে যায়। বানের পানিতে তার নিজের স’মিলের অসংখ্য ভারী কাঠ ভেসে গেছে। সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই এখন আর খুঁজে পাচ্ছেন না। বানের পানিতে শুধু তার নয়, প্রায় সব দোকানের মালামালই ভেসে গেছে। এ অবস্থায় পুঁজি সংকটে এক অসহনীয় অবস্থায় আছেন তারা।

গত সোমবার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ওই সড়কের পাশে ছাউনিতে গত ৭ দিন ধরে থাকছেন শান্তিগঞ্জের ছকিনা বেগম। তিনি জানালেন, ঘরে এখনো হাঁটু পানি। এজন্য ঘরে যাচ্ছি না। কিন্তু এখানে থাকলেও টয়লেটের খুব সমস্যা হয় মহিলাদের। ছকিনার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের থাকার ঘরটি ছিল টিনের ছাউনি আর টিন দিয়ে তৈরি বেড়ার। তাতে ছিল বাঁশের খুঁটি। সেই ঘরটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। আর উঠানে এখনো প্রায় কোমর সমান পানি। এখন কীভাবে ঘর ঠিক করব, তা জানি না। একই সড়কে থাকা সমর আলীও বললেন, তার ঘরে এখনো হাঁটু পানি থাকায় তিনি যাচ্ছেন না। গত রবিবার তিনি ঘরটি দেখেও এসেছেন। কিন্তু ঘর আর ঘরের জায়গায় নেই। ভিটেমাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপ। পানি নেমে গেলে কিভাবে ঘর উঠাবেন সে চিন্তায় ঘুম নেই তার। শুধু তারাই নয়, এমন শত শত বানভাসির বাস এখন সড়কে ছাউনি টানিয়ে। কোনো ত্রাণের গাড়ি এলে তাদের খাবার জুটে। নয়তো না খেয়েই ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত দেহ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয় অনিশ্চিত অন্ধকার দেখে দেখে। অপর একজন জানালেন, ক্যাম্পে আশ্রয় বা সড়কে অবস্থান নেয়া নারীরা রয়েছেন বেশি সংকটে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এক অনিশ্চিত অন্ধকারের মাঝে রয়েছেন।

এটি শুধু সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের চিত্রই নয়, সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও প্রায় একই চিত্রও। জেলার ১৩ উপজেলার মাঝে প্রায় সবকটি উপজেলার অধিকাংশ ডুবে আছে এখনো। বিশেষ করে বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটের অসংখ্য গ্রাম এখনো পানিতে টইটুম্বুর। কিছু এলাকায় পানি কিছু কমলেও বেশির ভাগ এলাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে গতকাল পর্যন্ত।

গোয়াইনঘাট উপজেলার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আবদুল কাদির বলেন, বহু রাস্তাঘাট এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। তাই অনেকেই সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এছাড়া বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকায় অসংখ্য অটোরিকশা পানির নিচে ছিল। এতে এসব যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একে তো কাজ করতে না পারায় চালকেরা বেকার, অন্যদিকে যানবাহন পানিবন্দি হয়ে বিকল হওয়ার টাকা-পয়সার চাপে পড়তে হয়েছে যানবাহন মালিকদের।

নতুন করে পানি বাড়ছে সিলেট-সুনামগঞ্জে : কয়েকদিনের রোদে সিলেট-সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার থেকে সুনামগঞ্জে বন্যার পানি আবারো বাড়তে শুরু করেছে। এর আগে গত সোমবার থেকেই উজানের ঢল নামা শুরু হয়। এতে নদনদীর পানি বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এদিকে ছাতক, দোয়ারাবাজারের পানি কোথাও বের হওয়ার জায়গা না পেয়ে কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। সুনামগঞ্জেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এরফলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ১০ সে.মি বেড়েছে। সবমিলিয়ে সুরমার পানি সুনামগঞ্জে বাড়লেও এখনো বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। অন্যদিকে ছাতকে পানি বেড়ে বিপদসীমার ৬০ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতকে বৃষ্টি হয়েছে ১৭০ মিলিমিটার ও সুনামগঞ্জে ৩৫ মিলিমিটার।

জানতে চাইলে সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ চৌধুরী গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও নতুন করে বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে পানি বাড়ছে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়