ইভটিজিংয়ে বাধা দেয়ায় শিক্ষক খুন : এই সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে

আগের সংবাদ

পাচারকৃত অর্থ ফেরত প্রসঙ্গে

পরের সংবাদ

অসহায়-দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোই মানবতা

প্রদীপ সাহা

কলাম লেখক

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৯, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ

প্রতি বছরই আমাদের দেশে কমবেশি বন্যা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি স্মরণকালের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। একের পর এক এক এলাকা ভেসে গেছে, বেড়ে চলেছে বানভাসি মানুষের সংখ্যা। যেদিকে চোখ যায়, দেখা গেছে শুধু পানি আর পানি। জনপদগুলো মনে হয় একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। পানির স্রোতে ভেসে গেছে বাড়িঘর, গাছপালা, সবকিছু। ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু, ধর্ম-বর্ণ সবাই সমান কাতারে অবস্থান করেছে। জানা যায়, সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে এবার। সিলেট বিভাগের পর উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলাও পরপর বন্যাকবলিত হয়েছে। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের ১৫টি জেলার ৭৩টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। গণমাধ্যমের বদৌলতে বন্যার ভয়াবহতার ছবি দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়েছি। মানুষ ছুটেছে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অপেক্ষা করেছে খাবারের জন্য। মর্মান্তিক এসব দৃশ্য সহজেই বুঝিয়ে দেয়- তারা কত অসহায়! বর্তমানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছে ওখানকার মানুষ। এখনো না খেয়ে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে তারা। পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় বিচ্ছিন্ন।
বন্যাকবলিত এলাকায় আশ্রয় এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পত্রিকার একটি সংবাদে জানা যায়, পানিবন্দি এসব মানুষের দুর্ভোগের সময় একশ্রেণির মুনাফালোভী চক্র বানভাসি অসহায়দের গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দিতে নৌকা ভাড়া প্রায় ৫০ গুণ বাড়িয়ে আদায় করেছে। অর্থাৎ যেখানে ভাড়া ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, সেখানে তারা ভাড়া নিয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। ৫ টাকার মোমবাতির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেছে ১০০ টাকা। ভাবা যায়! কোথায় হারিয়ে গেছে আমাদের মানবতা! তবে এমন ঘৃণিত কাজের পাশাপাশি ভালো কাজেরও প্রমাণ পাই আমরা। সেনাবাহিনী তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় অনবরত উদ্ধার করেছে এবং করছে পানিবন্দি মানুষকে। বানভাসি মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের পানিবন্দি মানুষের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ইত্যাদি। ভবনের মালিকরাও বিপর্যস্ত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন, যথাসাধ্য তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। এটাই মানবতা। এই যে মানবতা, অসহায়-দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো- এখানেই সত্যিকার মানুষের পরিচয়, আর মানুষের বেঁচে থাকার সার্থকতা।
বন্যাকবলিত এলাকায় এই সংকট নিরসনে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা অবশ্যই জোরালো এবং নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এবং বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্নভাবে এসব বানভাসি মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু শুধু সরকার কিংবা এসব সংগঠনের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, এসব অসহায় মানুষের পাশে আমাদেরও দাঁড়াতে হবে। একটি কথা না বললেই নয়। শুধু ফেসবুকে আপলোড করা কিংবা ছবি তোলার জন্য যেন ওদের পাশে ক্ষণিকের জন্য আমরা কেউ না দাঁড়াই। বন্যার্তদের সাহায্য করার মিথ্যা সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে আমরা যেন কেউ প্রতারণা করে কারো কাছ থেকে সাহায্য না ওঠাই। মানবিকতার কথা ভেবে এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে সত্যিকারভাবে আমাদের দাঁড়াতে হবে। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বানভাসি এসব মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এটাই হবে আমাদের একমাত্র দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

প্রদীপ সাহা : কলাম লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়