জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমে ভোট চায় আওয়ামী লীগ

আগের সংবাদ

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগরীর সব থানা, ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত

পরের সংবাদ

শিক্ষককে জুতার মালা: অবশেষে নড়াইলে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২২ , ৪:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৮, ২০২২ , ৪:২১ অপরাহ্ণ

নড়াইলে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গলায় জুতার মালা দিয়ে অপদস্ত করার ৯ দিন পর অবশেষে মামলা করেছে পুলিশ। গত সোমবার মামলার পর ওইদিন রাতেই পুলিশের সামনে শিক্ষককে অপদস্তের এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থীর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়। বলা হতে থাকে, ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। এ ঘটনায় গত ১৮ জুন দিনভর নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও সহিংসতা চলে।

এরপর পুলিশ পাহারায় ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি।

সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কোনো মামলা বা জড়িতদের চিহ্নিত করার বিষয়ে তৎপর ছিল না পুলিশ। এরই মধ্যে স্বপন কুমারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার তোড়জোড় শুরু করে কলেজ পরিচালনা কমিটি। এ ঘটনা জানতে পেরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ গত সোমবার বলেন, স্বপন কুমারকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন চেষ্টা করলেও মাউশি তাতে অনুমোদন দেবে না।

স্বপন কুমার ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়া নড়াইলের প্রশাসন অবশেষে নড়েচড়ে বসে। সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন। অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিন রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর।

গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে আছেন কলেজের পাশের মির্জাপুর বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী শাওন খান। লাল গেঞ্জি পরা ৩০ বছর বয়সী শাওনকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ভিডিওতে চিহ্নিত করা গেছে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুজন হলেন মির্জাপুর মধ্যপাড়ার মো. মনিরুল ইসলাম এবং মির্জাপুরের সৈয়দ রিমন আলী।

অন্যদিকে নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাহুল দেবের বিরুদ্ধে ঘটনার পরপরই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্বপন কুমারের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর বলেন, ‘ঘটনার দিন থেকে ওই এলাকায় একটি ক্যাম্প খোলা হয়েছে। তারা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছেন।

‘অধ্যক্ষ যে বাড়িতে আছেন, সেই বাড়িতে পুলিশ বসিয়ে রাখা হয়নি। তবে তার আশপাশে নিয়মিত পুলিশ আছে, তিনি আমাদের নলেজে আছেন। এ ছাড়া ওই ছাত্রের (ফেসবুকে পোস্ট দেয়া ছাত্র) বাড়ির আশপাশেও পুলিশ আছে। তাদেরও সার্বিক নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়