প্রতিশোধের ম্যাচে একই ব্যবধানে ঢাকা আবাহনীর জয়

আগের সংবাদ

কাতার বিশ্বকাপের চার ফেভারিট

পরের সংবাদ

রঙিন পোশাকে সাদা বলে আশা দেখছেন সাকিব

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২২ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৮, ২০২২ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ

ক্রিকেটের সাদা পোশাকে হাঁপিয়ে উঠেছে সাকিব-তামিমরা। বছরের শুরু থেকেই একের পর এক টেস্ট সিরিজ খেলে আসছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জানুয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ৪টি টেস্টে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যস্ত সময়সূচিতে টাইগারদের নেতিবাচক দিক তুলনামূলক বেশি প্রতিফলন হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই প্রথম টেস্ট জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছিল মুমিনুল বাহিনী। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ, ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হার।

এরপর অধিনায়কত্বের পরিবর্তন এনেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা পোশাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াতে পারেনি সাকিব বাহিনী। পরপর দুই ম্যাচেই হেরেছে বড় ব্যবধানে। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে সাকিব-তামিমরা। চার ইনিংসে মাত্র দুইবার দুই শতাধিক রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পেরেছে। প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ১০৩ রানে। তামিম, লিটন ও সাকিব ছাড়া কেউই সেদিন ডাবল ডিজিটে পা রাখতে পারেনি। দুই সিরিজেই বড় ব্যবধানে হেরেও রঙিন পোশাক নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বসী টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরেও দলের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত নন সাকিব আল হাসান। এক্ষেত্রে লাল বলের পরিবর্তে সাদা বলে আক্ষেপ মেটাতে মুখিয়ে আছেন সাকিব। ব্যাটারদের অভয় দিয়ে প্রশংসা না করলেও দলের বোলারদের প্রশংসা করেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। পেস বোলিং আক্রমণে টাইগার বোলাররা নিজেদের শক্তিশালী করে তুলছে। এই দুই ম্যাচে ১০ উইকেট পেয়েছে খালেদ আহমেদ। যেখানে এক ইনিংসে ফাইফারও অর্জন করেছেন তিনি। এছাড়া শরিফুল ও এবাদতও বেশ বোলিং করেছে। স্পিন আক্রমণে মেহেদী হাসান মিরাজও অনেকটা কার্যকরী দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট।

শুধু টেস্টই নয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ৩টি করে ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সে দুই সিরিজে অধিনায়ক না হলেও দলের খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রয়েছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের। সেজন্যই সাকিবের বিশ্বস সাদা বলের দুই সিরিজই জমবে। সাদা পোশাকে টাইগাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারলেও রঙিন পোশাকে যে কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ভয়ংকর হয়ে ওঠার সক্ষমতা রাখে। চলতি বছর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে চলতি বছর বাঘের গর্জন দিয়েছে। সেই গর্জনকে আরো জোরালো করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। প্রোটিয়াদের মাটিতে যেখানে ভারতের মতো শক্তিশালী দল নাস্তানাবুদ হয়ে এসেছে সেখানে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে এসেছে। পরিসংখ্যানেও খুব একটা পিছিয়ে নেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে দুদল। যেখানে ১৮ বার জিতেছে বাংলাদেশ ও ২১ বার জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া বাকি ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

টাইগারদের জন্য সবচেয়ে সুখকর বিষয় হলো- ২০১৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি। সর্বশেষ ১০ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে ক্যারিবীয়রা। ২০১৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে একবার হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এছাড়া আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া ট্রাইনেশন সিরিজের তিন ম্যাচের ৩টিতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরেছে ক্যারিবিয়রা। ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের শক্তির কথা ইতোমধ্যে কারো অজানা নয়। তবে টাইগারদের এখন মূল লক্ষ্য হলো টি-টোয়েন্টি সিরিজে। অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর চার মাসও নেই। আগামী ২২ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অষ্টম আসর। তাই সাদা পোশাকের দুঃখ-গ্লানি ভুলে গিয়ে রঙিন পোশাক নিয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জনের আহ্বান জানিয়েছে টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আগামী ডিসেম্বরের আগে সাদা পোশাকে টাইগারদের মাঠে নামতে হবে না। এই দীর্ঘ সময়ে ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে পারবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী সাকিব। তাই ঘরের মাঠে টেস্ট জয় দিয়েই প্রত্যাবর্তন করতে চান তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দ্বিতীয় টেস্টে ১০ উইকেটে হারের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আমরা এশিয়া কাপ খেলব। তারপর বিশ্বকাপ। আমাদের খুব বেশি সময় নেই। সেই জায়গা থেকে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ এটি। তিনি আরো বলেছেন, এই সিরিজ ভালো মানসিকতা অর্জনের সুযোগ আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দলের বিপক্ষে খেলতে পারা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এখানে ভালো করতে পারলে আত্মবিশ্বাসটা শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া এশিয়া কাপে কাজে আসবে। ভালো মাইন্ডসেট নিয়ে শ্রীলঙ্কা যেতে সাহায্য করবে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আগামী ২ জুলাই শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর ৩ ও ৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচই রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। এরপর ১০ তারিখ থেকে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ১৩ এবং ১৬ তারিখ সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডে খেলে দেশে ফিরবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়