টাকার মান ডলারের বিপরীতে আরও ৫০ পয়সা কমল

আগের সংবাদ

বানভাসিদের দুর্ভোগ লাঘবে পরিকল্পনাহীন সরকার: খন্দকার মোশাররফ

পরের সংবাদ

কুসিক নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে আদালতে যাচ্ছেন মনিরুল

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২২ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৮, ২০২২ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল ও গেজেট স্থগিত চেয়ে আবারও নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন পরাজিত মেয়র পদপ্রার্থী মো. মনিরুল হক ওরফে সাক্কু। আগামী ২২ জুলাইয়ের আগেই তিনি মামলা করবেন। মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিকেলে মনিরুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ মুহূর্তে তিনি মামলার জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করছেন।

মনিরুল হক বলেন, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাঁর এজেন্টদের ফলাফল বিবরণী না দিয়ে দ্রুত চলে যান। দিশাবন্দের নতুন ও পুরোনো ভবন ভোটকেন্দ্রে ফলাফলের তালিকায় যে স্বাক্ষর ও পিন নম্বর আছে, সেটি তাঁর এজেন্টদের নয়। শালবন বিহার কেন্দ্রে ভোটের ফলাফলে তাঁর এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টেরও নেই। ফলাফল ঘোষণার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার অবৈধ হস্তক্ষেপ ও কালক্ষেপণের কারণে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মনিরুল হক বলেন, ‘এটি উপস্থিত শত শত সাংবাদিক দেখেছেন। তাই আমি চার কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানাই। একই সঙ্গে গেজেট স্থগিত করারও আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাব।’

নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারবেন। আপিল করার ১৮০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে আপিল ট্রাইব্যুনালে রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।

গত ২৩ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আরফানুল হক রিফাত, ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ৯টি সংরক্ষিত ৯টি ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন নির্বাচনের চারটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল ও গেজেট স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেন মো. মনিরুল হক। ওই আবেদনে মনিরুল হক বলেন, ১০১টি ভোটকেন্দ্রে মনিরুল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৬২৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মনিরুল। এরপর প্রকাশ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা অজ্ঞাত টেলিফোন পেয়ে পাঁচ মিনিটের জন্য সময় চান, তাঁর চেয়ার থেকে উঠে যান এবং ফলাফল স্থগিত করেন। তখন মনিরুল হক ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট প্রতিবাদ করেন। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ৪৫ মিনিট ফল স্থগিত রাখেন। তারপর ফলাফল একটি একটি করে ঘোষণা না করে অঘোষিত বাকি চার কেন্দ্রের ফলাফল ১০১টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে যোগ করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরফানুল হককে ৫০ হাজার ৩১০ ভোট দেখিয়ে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। ১৬ জুন আরফানুল হককে সরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন বাংলাদেশ গেজেটে মেয়রসহ নবনির্বাচিতদের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। মনিরুলের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটের চার দিন পর ব্যাখ্যা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়