ঢাকার ৭শ’ কেন্দ্রে কলেরা টিকা শুরু, চলবে ২ জুলাই পর্যন্ত

আগের সংবাদ

আদালতে মুসার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পরের সংবাদ

বাজেট বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২২ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৬, ২০২২ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ

বিগত কয়েক অর্থ-বছরে প্রতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য টাকার অংকে বাজেট বরাদ্দ বাড়ে। তবে মোট জিডিপির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থ-বছরের বাজেটে তা দশমিক ৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। মোট বাজেট বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় বাড়ানোর তুলনায়ও এ বরাদ্দ কম। অন্যদিকে এ বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একেক ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা একেকরকম। বেশিরভাগক্ষেত্রেই তারা জাতীয় সরকারের বরাদ্দের উপর নির্ভরশীল, নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ ও সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে, আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ব্যতিরেকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। তাই করোনা-উত্তর আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধারেও স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থ-বছরের জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে রবিবার ঢাকার সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকারের জন্য বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব বলেন। গভার্নেন্স এডভোকেসি ফোরামের চেয়ারপার্সন ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। গভার্নেন্স এডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়কারী মহসিন আলীর সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম।

সভায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবউননেছা; পরিকল্পনা কমিশনের রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুবিভাগের উপ-প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার; ইউএনডিপির ডেমোক্রেটিক গভার্নেন্স পোর্টফলিওর প্রোগ্রাম এনালিস্ট মো. মোজাম্মেল হক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ শাহান; দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি তপন বিশ্বাস প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা এতে বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আজকের এ আলোচনা সময়োপযোগী এবং আমাদের সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। আমাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও আমলাতান্ত্রিক বিন্যাসের অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ পরিকল্পনা মন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, সরকারের দিক থেকে এ বিশ্লেষণকে মেনে নিয়ে এগিয়ে গেলে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে ড. আসিফ শাহান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় লক্ষ করা য়ায়, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কারণে আমালাতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক কোঅপারেশন প্রয়োজন, কনফ্লিক্ট নয়। বাস্তবতার আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রসর হতে হবে।

প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতি এখন একাধারে করোনা মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও বৈষম্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন- এরকম বৈপরিত্যমূলক সঙ্কট ও সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে। এ পরিস্থিতিতে আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সরকারকে সহযোগী ভূমিকা পালন করতে হবে, যথাযথ বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। বরাবরের মতো এ অর্থ-বছরেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় তা ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বেশি। যদিও মোট জিডিপির তুলনায় তা আসলে কমে গিয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দই কেবল বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ ২শতাংশের আশেপাশে বা তারও কম থাকছে সাম্প্রতিককালে, যা খুবই অপ্রতুল।

বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতার ক্ষেত্রে নগর স্থানীয় সরকারগুলো গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে। তিনি প্রস্তাব করেন, করোনা-উত্তর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর স্থানীয়করণে স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রকৃতঅর্থে স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বমর্যাদা ও সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি যেসব সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করেন, তারমধ্যে রয়েছে- জাতীয় সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুদানের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করতে হবে; মধ্যমেয়াদে স্থানীয় সরকারে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করতে হবে; স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যগত সীমারেখা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে; নিজস্ব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; কর শিডিউল আধুনিকায়ন করতে হবে; কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কর/রাজস্ব ভাগাভাগি পদ্ধতিকে যুক্তিসংগত করতে হবে; করোনা-উত্তর পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমে স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করতে হবে; টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের স্থানীয়করণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে সক্রিয় করে তুলতে হবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়