প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ জয়ে খুশি সাবিনারা

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যারা

পরের সংবাদ

পেস স্বর্গে ফের মিরাজের ঝলক

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২২ , ১০:৩৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৬, ২০২২ , ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম টেস্ট বেশ হেসে খেলে জিতেছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় টেস্টেও চালকে আসনে ক্যারিবিয়রা। প্রথম ইনিংসে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১১৬ ওভার শেষে ৭ উইকেটের বিনিময়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩৭৬ রান। এরই মধ্যে বাংলাদেশের করা ২৩৪ রানকে টপকে ১৪২ রানের লিড পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অ্যান্টিগা ও সেন্ট লুসিয়া দুই স্টেডিয়ামের পিচই পেসবান্ধব। তবে টাইগার স্পিনাররা যে যেকোনো মাঠেই তাদের দক্ষতার জানান দিতে পারেন। সেভাবেই ক্যারিবিয়দের মাটিতে আলো ছড়াচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অ্যান্টিগা টেস্টে যেখানে বাংলাদেশের ২০ উইকেট পেয়েছে স্বাগতিক পেসাররা সেখানে চার উইকেট পেয়েছে টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। সেন্ট লুসিয়াতেও কম যাচ্ছেননা। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবিয়দের ৭ উইকেটের মধ্যে ৩টিই নিজের ঝুলিতে নিয়েছেন মিরাজ।

রবিবার খেলা মাঠে গড়াতেই উইন্ডিজ জুঁটিতে আঘাত হাঁনেন তিনি। ৯৬ রানের জুটি ভেঙে দিয়েছেন মিরাজ। ১১৫ বল খেলে ২৯ রান করা জসুয়া দা সিলভাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেছেন এই টাইগার অফস্পিনার। মিরাজের ঘূর্ণি বল সুইপ করতে চেয়েছিলেন ক্যারিবীয় উইকেটরক্ষক। তবে বলকে পুরোপুরি মিস করে ফেলেন। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানানোর পর আর রিভিউ নেওয়ার দুঃসাহস দেখাননি সিলভা। এর আগে দ্বিতীয় দিন শরিফুলের পর দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেছেন মিরাজ। হাফসেঞ্চুরি করা অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। এরপর দিনের শেষ দিকে জার্মেইন ব্ল্যাকউডকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে হাফসেঞ্চুরি করতে দেননি। ২০৩ বলে ৪০ রান করে ফিরেছেন তিনি। মিরাজ ছাড়া এই ইনিংসে তিন উইকেট পেয়েছেন পেসার খালিদ আহমেদও।

দ্বিতীয়দিনে শরিফুল-মিরাজের আঘাতের পর জোড়া আঘাত করেছিলেন তিনি। তৃতীয় দিন মিরাজের তৃতীয় উইকেটে পর আলজারি জোসেফকে লিটস দাসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তিনি। মিরাজ-খালিদ বল হাতে নিজেদের প্রমাণ করে গেলেও ব্যাট হাতে রীতিমত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে টাইগার ব্যাটাররা। সাদা পোশাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ক্ষেত্রে তুলনামূলক শক্তিশালী সেখানেই দুর্বল বাংলাদেশ। প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল টাইগারদের টপ অর্ডারের। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডারের চার ব্যাটারের তিনজনই রান পেয়েছেন। এর মধ্যে অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ১০৭ বলে খেলেছেন ৫১ রানের ইনিংস। জন ক্যাম্পবেলও ছিল পঞ্চশের ঘরে। প্রথম দিন ১৬ ওভার ব্যাটিংয়ের পর দ্বিতীয় দিনে সারাদিন ব্যাটিং করে মাত্র ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনে পুরো ৯০ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৭৩ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা। এরপর তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে ১০ ওভার ব্যাটিং করতেই বৃষ্টির বাধা আসে। এই দশ ওভারের মধ্যে ২ উইকেটের বিনিময়ে স্কোরবোর্ডে আরো ৩৬ রান যোগ করেছে ক্যারিবিয়রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যক্তিগত ১৪০ রানে অপরাজিত আছেন কাইল মেয়ার্স।

সেন্ট লুসিয়ায় প্রথমদিন কোনোভাবেই সফরকারী বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো না। ব্যাটিং বিপর্যয়ের কবলে পরে দিনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সময় ব্যাট করতে পারেনি। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ১০ ওভার মোটামুটি সেট হয়ে গিয়েছিল দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। তবে ১৩তম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয় আউট হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরে ফেরা শুরু করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথম সেশনে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসানকে হারিয়ে ৭৭ রান তোলে টাইগাররা। ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই অভিষিক্ত অ্যান্ডারসন ফিলিপের ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেটের শিকার হন মাহমুদুল হাসান জয়।

এরপর মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগ দিয়ে আলজারি জোসেফের বলে আলগা শটে আউট হওয়ার আগে দাপুটে ব্যাটিং-ই করছিলেন তামিম ইকবাল। ৯ চারে সাহায্যে ৪৬ রান সংগ্রহ করে ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ফেরে পুরোনো চেহারায়। নাজমুল হোসেন ও আট বছর পর টেস্টে ফেরা এনামুল হক দুজনই আস্তে আস্তে থিতু হচ্ছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত আম্পায়ার্স কলের কবলে পড়েন দুজনই। ফিলিপের বলে এনামুলের নেওয়া রিভিউয়ে ইমপ্যাক্ট ছিল আম্পায়ার্স কল। কাইল মেয়ার্সের বলে আউট হওয়া শান্তও আম্পায়ার্স কলেরই শিকার হয়েছিল। সাজঘরে ফেরার আগে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ২৬ রান ও মুমিনুল হকের বদলে আসা এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩ রান। মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে দলীয় ১০৫ রানে উপর্যুপরি দুই উইকেট পড়ার পর উইকেট ধরে রাখতে পারেনি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। স্কোরবোর্ডে ২০ রান যোগ হতেই সাজঘর পথ ধরেছেন তিনিও। সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে ডেকে আনেন সাকিব। এরপর নুরুল হাসান সোহানও ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৭ রানে।

জোসেফের বাউন্সে পরাস্ত হয়ে জশুয়া ডি সিলভার হাতে ক্যাচ তুলে দেন সোহান। ১৩৮ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ এরপরও ২৩৪ পর্যন্ত যেতে পারে লিটন দাসের অর্ধশতক ও টেল-এন্ডে শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেনের ব্যাটিংয়ে ভর করে। ৬৬ বলে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করা লিটন জোসেফের শর্ট লেংথের বল তুলে মারতে গিয়ে মিড-অনে ধরা পড়েন। ক্যারিবীয়দের এরপর হতাশ করেন শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন। ১৭ বলে ৫ চারে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন শরিফুল। সিলসকে তুলে মারতে গিয়ে শরিফুল ফিরলে ভাঙে দুজনের ৩২ রানের জুটি। এরপর খালেদ আহমেদ অবশ্য খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি ইবাদতকে। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ২১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইবাদত। এটি শুধু টেস্ট নয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইবাদতের সর্বোচ্চ স্কোর।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়