খালিদের জোড়া আঘাতে দিশেহারা উইন্ডিজ

আগের সংবাদ

পদ্মা সেতু সততা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক: মেয়র আতিক

পরের সংবাদ

বছরজুড়ে ধারাবাহিক লিটন

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২২ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৫, ২০২২ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

অ্যান্টিগার পর সেন্ট লুসিয়ায়ও টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নেমেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের মতো মাত্র ১০৩ রানে অলআউট না হলেও তামিম ইকবালকে ছাড়া কেউ উইকেটে থিতু হতে পারেননি। তামিম ইকবালও যে তার ব্যক্তিগত ইনিংসকে লম্বা করেছেন তাও নয়। হাফসেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যেতে থাকলেও মাত্র ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। সেন্ট লুসিয়ায় সাদা পোশাকে টাইগারদের নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দুই পরিবর্তন নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে নেমেছিলেন। সদ্য সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের পরিবর্তে দীর্ঘদিন পর দলে জায়গা পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়।

অপরদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবর্তে তরুণ পেসার শরিফুল ইসলামকে একাদশে ফিরিয়েছেন সাকিব। তবে তামিম ইকবাল ছাড়া টপ-অর্ডারের কোনো ব্যাটারই ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারেননি। উল্টোর স্বাগতিক পেসারদের নিকট পরাজয় স্বীকার করে একের পর এক ফিরেছেন সাজঘরে। টপ-অর্ডারে মাহমুদুল হাসান জয়, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত কেউই ত্রিশের ঘর অতিক্রম করতে পারেননি।

টপ-অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে মিডল অর্ডার যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তাও নয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একই রকম পরিস্থিতি থেকে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস মিলে দলকে একটি নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ এনে দিয়েছিল। কিন্তু ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এবার আসেননি মুশফিকুর রহিম। তাই মিডল অর্ডারে এই দুই ব্যাটারের জুটিও দেখেনি সেন্ট লুসিয়া। মুশফিকুর রহিম না থাকলেও একাই এগিয়ে যাচ্ছিলেন টাইগারদের সাদা পোশাকে মিডল অর্ডারের আস্থা লিটন দাস। তামিম ছাড়া দলের অন্য ব্যাটাররা যেখানে ত্রিশোর্ধ্ব রান তুলতে পারেননি সেখানে লিটন ক্যারিয়ারে আরেকটি হাফসেঞ্চুরি সংযোজন করেছেন। ৭০ বলে ৮ চারের সাহায্যে খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। এই ইনিংসের সুবাদে ইতোমধ্যে আরেকটি অদ্বিতীয় রেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস।

চলতি বছর সবার আগে সব ফরম্যাট মিলিয়ে হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন বাংলাদেশি এই ব্যাটার, যা ক্রিকেট বিশে^র অন্য কোনো ব্যাটার করতে পারেননি। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকেই বেশ ধারাবাহিক ছিলেন লিটন। কতিপয় ইনিংসে রানের দেখা না পেলেও আপন রূপে ফিরতে সময় নেননি তেমন একটা। গত জানুয়ারিতে কিউইদের মাটিতে প্রথম টেস্টে ইতিহাস রচনা করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ৮৬ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন দলকে। পরের ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রান করলেও দলকে জিতাতে পারেননি তিনি।

এরপর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফিরলেও পরবর্তী দুই ম্যাচে খেলেছেন ১৩৬ ও ৮৬ রানের ইনিংস। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক লিটন টি-টোয়েন্টিতেও কম যায়নি। আফগানদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে করেছেন ৬০ রান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১৩ রানেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তার। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ওয়ানডে ম্যাচে ৩৭.৬৭ গড়ে করেছেন ১১৩ রান। যেখানে এক ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। তবে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুই টেস্টে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। দুই টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে করেছেন ৮১ রান। তবে দেশে ফিরে ঘরের মঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন লিটন।

দুই টেস্টের চার ইনিংসে ২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ও একটি শতোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন। দুই টেস্টে করেছেন ২৯৩ রান। শ্রীলঙ্কার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাত্র ১৭ রান করার সুযোগ পেয়েছে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেছেন। সাজঘরে ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৫৩ রানে। লুসিয়া টেস্টে মাঠে নামার আগে লিটনের মোট রান ছিল ৯৯৬। প্রথম তিন ব্যাটার উইকেট পড়ার পর ব্যাট করতে নামেন লিটন। ব্যাটিংয়ে নামার সপ্তম বলেই বাউন্ডারি মেরে হাজার রানের মাইলফলকে প্রবেশ করেন তিনি। ২০২২ সালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় লিটনের পরে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৃত্য অরবিন্দ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২৩ ম্যাচে তার মোট রান ৯৪৫।

তিন নম্বরে রয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। ১০ ম্যাচের ১২ ইনিংসে করেছেন ৯১৩ রান। শীর্ষ দশে থাকা অন্যরা হলেনÑ পাকিস্তানের ইমাম-উল হক (৮৬৭ রান), আরব আমিরাতের চিরাগ সুরি (৭৭১ রান), শ্রীলঙ্কার নিশাঙ্কা (৭৬১ রান), উসমান খাজা (৭৫১ রান), নেপালের দিপেন্দ্র আইরি (৭১৮ রান), ওমানের জতিন্দর সিং (৭১৮ রান) ও দক্ষিণ আফ্রিকার টেম্বা বাভুমা (৭১২ রান)। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল লিটন দাসের।

এরপর থেকে সাদা পোশাকে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ৩৫ ম্যাচে ৫৯ ইনিংসে ৩৫.৪৭ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৯৩ রান। যেখানে ১৪টি হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি। বেশ টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের হয়ে বেশ ধারাবাহিক তিনি। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে অধিকাংশ ইনিংসেই বেশ ছন্দে ছিলেন তিনি। এই সুবাদে টেস্ট ক্যারিয়ারেরও সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছেন দিনাজপুরের এই কৃতী সন্তান। শেষ কয়েক ম্যাচের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সুবাদে ৬৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে আছেন লিটন দাস।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়