পদ্মা সেতু সততা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক: মেয়র আতিক

আগের সংবাদ

স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পদ্মা সেতু, বাংলাদেশি হিসেবে আমি গর্বিত: অপু

পরের সংবাদ

ছত্রিশে ‘লা পুলগা’

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২২ , ১১:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৫, ২০২২ , ১১:১৫ অপরাহ্ণ

ফুটবল জাদুকর আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বব্যাপী ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সমর্থকদের থেকে সময়ে-অসময়ে ভালোবাসাও কম পান না। বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে পদার্পণ করা সেই আর্জেন্টাইন ছোট্ট শিশু ইতোমধ্যে ছত্রিশে পদার্পণ করেছে। গত ২৪ জুন দিনভর ৩৫তম জন্মদিন পালন করেছেন মেসি। এই জন্মদিনে স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তানকে নিয়ে ইবিজায় জন্মদিন পালন করেছেন তিনি। সঙ্গে ছিল বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ এবং কৈশোরের বন্ধু সেস ফ্যাব্রেগাস ও তার বান্ধবীও।

একসঙ্গে জন্মদিন পালনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ছবি আপলোড করে আবেগঘন ক্যাপশনে লিখেছেন, শুভ জন্মদিন, ভালোবাসা! তোমাকে যতটা ভালোবাসি এর চেয়ে বেশি ভালোবাসা যায় না। এরপর আর্জেন্টিনার রোজারিওতে একসঙ্গে ৫ হাজারের বেশি স্কুল বাল হ্যাপি বার্থডে গান গেয়ে শুনিয়েছে। যেখানে মেসি ও তার স্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্লাব সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও। জনপ্রিয় ফুটবল তারকা তার ভক্তকুলের মধ্যে কারো কাছে গোট হিসেবে পরিচিত। যার অর্থ সর্বকালের সেরা ফুটবলার।

আবার কারো কাছে মাছি নামে সমধিক পরিচিত। তবে মাছি নামের পেছনে একটি গল্প লুকিয়ে আছে। লিওনেল মেসির বিখ্যাত ডাক নামগুলোর মধ্যে ‘লা পুলগা’ অন্যতম। শৈশবেই গ্রোথ হরমোন ডিজঅর্ডার সমস্যা থাকায় আশপাশের মানুষের থেকে শারীরিক গঠনের জন্য লা পুলগা নামে তাকে ডাকা হতো। ধারণা করা হয়, তার দুই বড় ভাইয়ের মধ্য থেকে একজন তাকে লা পুলগিতা নামে ডাকত। সেখান থেকে ধীরে ধীরে লা পুলগা-সমধিক পরিচিতি পায়। স্প্যানিশ ভাষায় এই লা পুলগা’র অর্থ মাছি। শৈশবে অসাধারণ ফুটবল দক্ষতার সুবাদে বার্সেলোনায় নাম লেখানোর পরপরই এই লা পুলগা নামটি আরো পরিচিতি পেয়েছে। মূলত সংবাদ মাধ্যমগুলো অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা থাকা সত্ত্বেও চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং ও স্প্রিন্টিংয়ের সুবাদে স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমগুলো এই নাম ব্যবহার করেছে। কতিপয় স্প্যানিশ গণমাধ্যম তাকে লা পুলগা অ্যাটোমিকো নামেও অভিহিত করেছেন। লা পুলগা ছাড়াও মেসির আরো কিছু ডাকনাম আছে। তাকে পছন্দ করে ডাকা হয় লিও নামে। এটি তার পুরো নামের সংক্ষিপ্ত অংশ। অনেক ফুটবল ব্যক্তিত্ব, সতীর্থ ও বিশেষজ্ঞদের কাছে এই নামে তিনি পরিচিত। অনেকের ধারণা মেসির নাম রাখা হয়েছে আমেরিকান জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লিওনেল রিচির নামানুসারে। মেসিকে আরো ডাকা হয় মেসিয়াহ নামে। ১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করা এই ফুটবলারের শুরু হয়েছিল রোজারিওর ছোট্ট ক্লাব আবান্দেরাদো গ্রান্দিওলিতে। এরপর সেখান থেকে নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন কিছুদিন। শৈশবেই মেসির জায়গা হয়ে যায় স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনায়।

২০০৪ সালে ১৭ বছর ৩ মাস ২২ দিন বয়সে কাতালান ডার্বিতে এসপানিওলের বিপক্ষে বার্সার হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক হয়েছে মেসির। পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ডেকোর বদলি হিসেবে নেমে শেষ ৯ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরের বছর ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক ঘটেছে সর্বকালের এই সেরা ফুটবলারের। কিন্তু লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে নামার ৪৩ সেকেন্ডের মধ্যেই জাতীয় দলের প্রথম ম্যাচেই লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে কোনো গোল না পেলেও ২০০৬ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম গোল করেছেন লা পুলগা। এরপর থেকে আর কোনো বাধাই মেসিকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। কিছুদিন আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ১১০ নম্বরে থাকা এস্তোনিয়ার বিপক্ষে গতকাল আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টি করেছেন লিওনেল মেসি। যে কোনো দলের বিপক্ষে ৫ গোল করা মোটেই সহজসাধ্য নয়।

এস্তোনিয়ার বিপক্ষে আরেকবার মেসির পায়ে জাদু দেখেছে ফুটবল সমর্থকরা। মাত্র এক গোলের জন্য ডাবল হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও এই ৫ গোলের সুবাদে বেশ কয়েকটি নতুন রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৫৫টি হ্যাটট্রিক নিয়ে সর্বাধিক হ্যাটট্রিক করা ফুটবলারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেসি। ৬০টি হ্যাটট্রিক নিয়ে শীর্ষে আছেন রোনালদো। এই হ্যাটট্রিক পূরণের সুবাদে অনন্য রেকর্ড ছুঁয়েছেন আর্জেন্টিনার নাম্বার টেন। জাতীয় দলের হয়ে ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চার নম্বরে ছিলেন হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাস। হ্যাটট্রিকের সুবাদে প্রথমে তাকে ছুঁয়েছে মেসি। এরপর ম্যাচের বাকি ৭১ মিনিটে চতুর্থ গোল করে পুসকাসকে টপকে চতুর্থ স্থানে উঠে আসেন মেসি। পঞ্চম গোলের সুবাদে বর্তমানে ৮৬টি গোল নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। তার উপরে থাকা তিন ফুটবলারদের মধ্যে ১১৭ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন রেকর্ডবুকে মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

১০৯ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ইরানের আলি দাইয়ি ও ৮৯ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন মালয়েশিয়ার মোখতার দাহারি। ৫ গোলের সুবাদের পেছনে ফেলেছেন ফুটবলের রাজা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পেলেকেও। পেশাদার ফুটবলে পেলের স্বীকৃত গোলের সংখ্যা ৭৬৭টি। এস্তোনিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হতেই পেলের সমান সংখ্যক গোলের মালিক হয়েছেন। এরপর আরো দুই গোলের সুবাদের ৭৬৯ গোল নিয়ে পেলেকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। একই দিনে আরো রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন মেসি। ৭৬৯ গোল করা মেসি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩৩১ গোল। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত সরাসরি ১১০০ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি।

প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১১০০ গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। ১০৪৫ গোলে অবদান রেখে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সেই পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। ১০৪৫ অবদান রাখতে রোনালদোর খেলতে হয়েছেন ১১২১ ম্যাচ। অপরদিকে মাত্র ৯৭৪ ম্যাচেই ১১০০ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়