পদ্মা সেতু উদ্বোধন ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার

আগের সংবাদ

স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে নিজের গায়ে আগুন দিলেন চিকিৎসক

পরের সংবাদ

রাবিতে গভীর রাতে শিক্ষার্থীকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২২ , ৪:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৪, ২০২২ , ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) লতিফ হলের আরেক আবাসিক ছাত্রকে মারধরের পর বের করে দিয়েছেন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন। এ সময় তৌহিদ ও পারভেজ হাসান জয় তাকে মারধর করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করে তার সিট থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মুন্না ইসলাম। লতিফ হলের ২৪৮ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র তিনি।

মারধরে অভিযুক্ত পারভেজ নবাব আবদুল লতিফ হল শাখা বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে তৌহিদ ছাত্রলীগ কর্মী।

ভুক্তভোগী মুন্না অভিযোগ করেন, তিনি ছয়মাস আগে ওই কক্ষে ওঠেন। হল প্রশাসন তাকে ওই কক্ষ বরাদ্দ দেয়। গত রাতে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম ও তার অনুসারীরা তাকে সিট থেকে সরিয়ে ওখানে আরেক শিক্ষার্থীকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সিট থেকে নামতে না চাইলে তাকে তৌহিদ ও পারভেজ গলায় ধাক্কা দেন ও কিল-ঘুষি দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

মুন্না অভিযোগ করে আরও বলেন, আমার বাবা প্রতিবন্ধী, মা বেঁচে নেই। হল প্রাধ্যক্ষের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া মেনে হলে ওঠেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের কক্ষ থেকে আমাকে বের করে দেয়ার পর বিষয়টি মুঠোফোনে হলের প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। প্রাধ্যক্ষ আমাকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এভাবে কক্ষে ঢুকে জোরপূর্বক বের করে দেয়ার ঘটনায় আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবো।

হল থেকে বের করে দেয়ার সময়ের ঘটনার কয়েকটি অডিওতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বলতে শোনা গেছে, ‘এই তুই হল থেকে বের হ। বের হবি না? এই বেড থেকে বের করে দে। তোর অ্যালোট কোন রুমে। কে তোকে অ্যালোট দিছে?’ তাদের এই প্রশ্নের জবাবে মুন্নাকে বলতে শোনা গেছে, আমার এই কক্ষের কার্ড আছে। আমি আবাসিক শিক্ষার্থী।

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন বলেন, ওই কক্ষে মূলত আরেকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে থাকার জন্য মুন্নাকে বলা হয়েছিল। কারণ, ছাত্রলীগের পছন্দের ওই ছেলেকেও মানবিক কারণে হলে সিট দিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ। তার বিছানাপত্র ফেলে দেয়ার কথা নয়। এমনকি মারধর করার অভিযোগও ভিত্তিহীন।

রাত দুইটার দিকে ছাত্রলীগ সেখানে গেল কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের এই নেতাকর্মী বলেন, রাত দুইটা হবে না। এটা তার আরও আগে। আর আমরা তাকে (মুন্না ইসলামকে) বের করে দিইনি। ওখানে আমি নিজে যাইনি। দলের নেতাকর্মীরা গেছিলেন।

হলে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী তার জায়গায় থাকবে। মারধরের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আব্দুল লতিফ হলে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। হল প্রভোস্টের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারা।

এর আগে গত ১৪ জুন রাতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন এবং তার সহযোগী তাসকিফ আল তৌহিদের বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলে এবার এক আবাসিক ছাত্রকে মারধর করে বের করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়