নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

ঢাবি 'চ' ইউনিটে বহুনির্বাচনী অংশের ফলাফল প্রকাশ

পরের সংবাদ

১১৬ ধর্মীয় বক্তার শ্বেতপত্র যাচাই-বাছাইয়ে দুদক

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২২ , ৩:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২৩, ২০২২ , ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

এক হাজার মাদরাসার তথ্য-উপাত্তের ওপর তদন্ত করে ১১৬ ধর্মীয় বক্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে গণকমিশন নামে একটি সংগঠন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তালিকা জমা দিয়েছিল। গণকমিশনের সেই তালিকা আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যাচাই-বাছাই টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও উপপরিচালক আহসানুল কবীর পলাশ। মঙ্গলবার কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলেমদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য প্রকৃত বিষয়টি তুলে ধরে দুদক সচিব বলেন, সম্প্রতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ২২১৫ পাতার একটি শ্বেতপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করে। শ্বেতপত্রটি পরীক্ষা করে সংক্ষিপ্তসার কমিশনে উপস্থাপন করার জন্য দুদক থেকে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্বেতপত্রটি পরীক্ষা করে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করাই এই কমিটির দায়িত্ব। আলেমদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অনুসন্ধানের কোনো দায়িত্ব কমিটিকে দেওয়া হয়নি। এমনকি কমিশন থেকে কোনো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে গত ১১ মে এক হাজার মাদরাসার তথ্য-উপাত্তের ওপর তদন্ত করে ১১৬ ধর্মীয় বক্তার দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তালিকা জমা দিয়েছিল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয় গঠিত গণকমিশন। দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার কাছে এই শ্বেতপত্র ও ১১৬ সন্দেহভাজন ধর্মীয় বক্তার তালিকা তুলে দেওয়া হয়। গণকমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তালিকা জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছিলেন, আমরা ৯ মাস তদন্ত করেছি। বহু ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নিয়েছি। ২২শ’ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন গত মার্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমরা দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছি। তারা মানিলন্ডারিং করেছে। জামায়াত ও ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। সেই দুর্নীতির তথ্য দিলাম। তাদেরকে বাড়তে দেওয়া যায় না। দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্য তুলে ধরে সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেছিলেন, দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন অর্ধশতাধিক ওয়াজ ব্যবসায়ীর দুর্নীতির খোঁজ নিতে শুরু করেছেন। আমাদের রিপোর্ট দুদক আইন মতে ব্যবস্থা নেবেন। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামনুল হকসহ যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এর কয়েকদিন পর গত ২৩ মে দুপুরে দুদক চেয়ারম্যানের কা‌ছে স্মারকলিপি প্রদান করেন ইসলামি কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশের নেতারা। যেখানে ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব ও তহবিলের উৎস, কমিটির নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং গণকমিশনের শ্বেতপত্রসহ অতীতে তাদের প্রকাশিত শ্বেতপত্রের আর্থিক জোগান ও আয়-ব্যয় সম্পর্কে অনুসন্ধান করার অনুরোধ করেন তারা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসলামি কালচারাল ফোরামের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেছিলেন, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা কওমি মাদরাসা থেকে শিক্ষা নেয়। সরকারি অনুদান না নিয়ে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষিত জাতি গঠনে আমরা নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছি। অথচ আমাদের উৎসাহ না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তারা এসব হীন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সংঘাত ঘটাতে এসব কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে। যারা আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করছে, তাদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য আমরা দুদককে আহ্বান জানিয়েছি। পাশাপাশি তাদের আয়-ব্যয় ও অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে আমরা দুদককে অনুরোধ করেছি। স্মারকলিপি প্রদানে নেতৃত্ব দেন ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা গাজীপুর দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী।

রি-এমআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়