সাফল্য ও সংগ্রামে অগ্রযাত্রা

আগের সংবাদ

বন্যার্তরা চরম খাদ্য সংকটে

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : অর্জন অনেক আছে ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২২ , ২:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৩, ২০২২ , ২:২৬ পূর্বাহ্ণ

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আজ ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ইতিহাস, অর্জন, উন্নয়ন, গৌরব ও সৃষ্টির দল আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের আস্থার ঠিকানা। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার মতো গৌরব পৃথিবীতে আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাদের নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এই ভূখণ্ডে বাঙালির যত অর্জন তার মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগের অবদান। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীও পালন করেছে দলটি। পালন করেছে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী। পাকিস্তানের অধীনে থাকা পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন মুসলিম লীগের নেতাকর্মীদের অসাম্প্রদায়িক একটি অংশ বেরিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে নতুন দল গঠন করে। প্রতিষ্ঠার সময়ই দলের অসাম্প্রদায়িক নামকরণের দাবি উঠলেও সমাজ বাস্তবতা ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটি প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪ বছর পর ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ নামে বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামের ব্রত নিয়ে এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে দলটি অগ্রসর হয়। ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় ও স্বাধীনতার সংগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ’৭১-এ সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেয়। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালে সম্মেলন করে প্রবাসে থাকা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে হাসিনা দলের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সরকার গঠন করে। তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো। অর্জনের এই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একদিন পরেই যুক্ত হচ্ছে নতুন মাইলফলক। বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে। তবে অমসৃণ দীর্ঘ এই চলার পথে আওয়ামী লীগের সামনে এসেছে নানা বাধা-বিপত্তি, দুর্যোগ-দুর্বিপাক। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আওয়ামী লীগ কোথায় দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে প্রথম টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকলেও অসীম ত্যাগ ও আদর্শনির্ভর এই রাজনৈতিক দলটি স্বাধীন স্বকীয়তা নিয়ে সম্প্রীতির কর্মকাণ্ডে প্রশ্নও রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে তার সরকার সাফল্য পেয়েছে, এটা নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু রাজপথের চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পাশে রয়েছে, সেটা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। দলের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সব প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থান সাময়িক নিষ্ক্রিয় হলেও তারা থেমে যায়নি। ৭৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী দলটি অন্য দলের জন্য অনুসরণীয় হয়ে উঠুক- এমন প্রত্যাশা রইল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়