পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ: জবি উপাচার্য

আগের সংবাদ

৭৪ বছরে আওয়ামী লীগ

পরের সংবাদ

বাংলাদেশের শিল্পকলায় বঙ্গবন্ধু স্বরূপেই আবির্ভূত: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২২, ২০২২ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাস থেকে তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের শিল্পকলায় বঙ্গবন্ধু স্বরূপেই আবির্ভূত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

বুধবার (২২ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্পকলায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুকে যখন ইতিহাস থেকে নির্বাসন দেয়ার একটা রাষ্ট্রীয় প্রয়াস শুরু হয়ে যায়, তখন কিছুদিনের জন্য তাঁর প্রতিকৃতি আঁকায় ছেদ পড়ল। তবে তখনও কোনো কোনো শিল্পী তাঁর ছবি এঁকে গেছেন।আবার যখন বঙ্গবন্ধু আপন মহিমায় বাঙ্গালির জীবনে ফিরে এলেন, তখন তাঁর প্রতিকৃতি আঁকার বা ভাস্কর্য গড়ার চর্চা বেশ প্রবল হয়ে দাঁড়াল। অর্থাৎ একটা সময় শিল্পকলায় বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি ছিল অনিয়মিত, অনেকটাই যেন আড়ালে। তারপরও পরম্পরাটা ব্যাহত হয়নি। এই পরম্পরার বিষয়টি প্রমাণ করে বঙ্গবন্ধুকে ভুলে যাওয়ার যে উদ্যোগ ১৯৭৫ সালের পর নেওয়া হয়েছিল, তা ছিল কতটা অর্বাচীন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ের শিল্পকর্মকে উদ্ধার করে সংকলনের গুরুত্বারোপ করে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন,আমি নিশ্চিত, ঊনিশ শ পঞ্চাশের দশক থেকে তাঁকে নিয়ে নানান শিল্পী কাজ করেছেন, হয়তো এগুলো এখনও আমাদের অগোচরে আছে। এমনকি ১৯৭৫ থেকে নিয়ে পরবর্তী কুড়ি একুশ বছরেও তাঁর প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে, ভাস্কর্যে তাঁর রূপায়ন ঘটেছে। আমরা যেসব শিল্পকর্মের হদিস পেয়েছি, তার পাশাপাশি আমাদের গোচরের বাইরে রয়ে যাওয়া শিল্পকর্মগুলি যদি আমরা উদ্ধার করতে পারি, তাহলে সেসব নিয়ে একটি ভাল সংকলন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হতে পারে। আমি আশা করি কোনো তরুণ গবেষক বা শিল্পলেখক এ কাজটি অচিরেই শুরু করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, লেখালেখির মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে জানছি। একজন লেখক বা শিল্পী যা তুলে ধরতে পারেন, ইতিহাসবিদের সেই স্বাধীনতা নেই।যিনি আঁকছেন তিনি ইতিহাসবিদের সীমাবদ্ধা অতিক্রম করার সুযোগ আছে। নিজস্ব অনুধাবনের আলোয় একজন লেখক বা শিল্পী যা তুলে ধরতে পার ইতিহাসবিদের সেই স্বাধীনতা নেই। থাকলেও সেটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টির পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ফকরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস এন্ড লিবার্টির রিসার্চ ফেলো হাসান নিটোল

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়