কুড়িগ্রামে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে

আগের সংবাদ

করোনা উর্ধ্বমুখী, মাস্ক পরার নির্দেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

পরের সংবাদ

শিক্ষিকা থাকেন ভারতে, বেতন তোলেন বাংলাদেশে

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২১, ২০২২ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

গত নয় বছর ধরে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদার। অথচ ভারতে বসবাস করলেও মাস শেষে তার সই করা চেকে দেশ থেকে বেতন তোলেন রিঙ্কুর স্বজনরা। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সখ্যতায় কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মর্মে মাসিক রিপোর্টও নিয়মিত জমা দেয়া হতো। শিক্ষিকার এই এরূপ কেলেঙ্কারি দ্বীপ এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

দ্বীপটিতে অবস্থিত ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চারজন শিক্ষককে। এত বড় অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যায় তার বেতন।

রিঙ্কু মজুমদার উপজেলার উত্তর চরঈশ্বর দাসপাড়া এলাকার সাবেক সহকারী শিক্ষক বারেন্দ্র দাসের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক চয়ন দাস, শোভা রানী, মল্লিকা দাস, নিশান বাবু, পাপন দাস ও অসীম দাসসহ কয়েকজন স্থানীয়ের ভাষ্য, আট-নয় বছর ধরে চরঈশ্বর রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদার স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ভারতে বসবাস করেন। পাঁচ-ছয় মাস পর পর তিনি দেশে আসেন এবং ব্যাংকে তার বেতন উত্তোলনের চেকে সই করে যান। পরবর্তীতে তার স্বজনরা তার সই করা চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করে ভারতে পাঠিয়ে দিয়ে আসছিলেন।

রিঙ্কু মজুমদারের এ অনিয়মের বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করা হলেও কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। কারণ তাদের সঙ্গে সখ্যতা রেখেই এমন অনিয়ম করে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদার।

স্থানীয়রা বলেন, সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভবরঞ্জন বাবু চরঈশ্বর রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদারের ভগ্নিপতি ছিলেন। যার কারণে ভবরঞ্জন বাবুর ছত্রছায়ায় প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদার দীর্ঘ বছর ধরে এই দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন। শিক্ষকতার নামে এমন নীতিহীন কর্মকাণ্ডকে তারা ভারতে টাকা পাচারের শামিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।

অভিভাবকরা বলেন, রিঙ্কু ম্যাডাম সম্ভবত আর চাকরি করবেন না। তবে এত বছর ধরে যে অন্যায়-অনিয়ম তিনি করেছেন, এর কোনো শাস্তি হয়নি ও তার ভগ্নিপতি শিক্ষা কর্মকর্তা ভবরঞ্জন বাবুরও বিচার হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিয়া উপজেলার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা ভবরঞ্জন বাবু বলেন, আমি অনিয়ম করার কাউকে এত সুযোগ করে দিইনি। আমি এখন ওই উপজেলায় দায়িত্বে নেই, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।

চরঈশ্বর রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপ কুমার দাস জানান, ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক মাসের অসুস্থতাজনিত ছুটিতে যান প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদার। কিন্তু আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে আসেননি তিনি। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা, স্লিপের টাকা, উপবৃত্তি, কন্টিজেন্সিসহ যাবতীয় কাজ আটকে আছে। তিনি আরো জানান, ৮-৯ বছর ধরে এমন অনিয়ম চলছে। করোনার আগের বছরগুলোতেও তিনি পাঁচ-ছয় মাস পর পর দেশে এসে তিন-চারদিন স্কুল করে জমে থাকা কাগজপত্রে সই দিয়ে আবার ভারত চলে যেতেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় আজ মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক রিঙ্কু মজুমদারকে শোকজ করা হয়েছে।

এতদিন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর ও চরতি বছরের জানুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান তিনি। এর আগে শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন ভবরঞ্জন বাবু। তিনি কেন ব্যবস্থা নেননি, সেটা তিনি জানেন। আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর গত ডিসেম্বর থেকে ওই প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দিয়েছি।

নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তার অজানা ছিল। সোমবার এ ঘটনার বিষয়ে জানার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে ঘটনার তদন্ত করিয়ে রিপোর্ট দিবেন।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়