অপপ্রচার পিছু ছাড়ছে না পদ্মা মহাসেতুর

আগের সংবাদ

উদ্ধারের অপেক্ষা আর ত্রাণের আকুতি

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সমাবেশে ১৯ দফা : প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কতদূরে?

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২ , ২:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২১, ২০২২ , ২:২৫ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তঃসীমান্ত এবং আঞ্চলিক সমস্যা। নানা কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। এ সংকটের সমাধান করা বিশ্বের দায়িত্ব। বিশ্ব নেতাদের ভূমিকা না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি অনেকটা থেমে গেছে। রোহিঙ্গারা দেশে ফেরত যেতে আগ্রহী হলেও উদ্যোগের অভাবে তা ভেস্তে যাচ্ছে। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরাসহ ১৯ দফা দাবিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। সমাবেশে ‘লেটস গো হোম, লেটস গো টু মিয়ানমার’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। গত রবিবার উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে পৃথকভাবে ১৯ ও ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। দাবির মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবেই সম্বোধন বা পরিচয়ের স্বীকৃতি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে করা, মিয়ানমার ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থানের সময়সীমা কমানো, রোহিঙ্গারা ঘরে ফেরার আগে তাদের সুরক্ষা দিতে আরটুপি (রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট) অবশ্যই আরাকানে থাকা, রোহিঙ্গাদের সম্পদ ফিরিয়ে দেয়া, জমি থেকে বায়েজাপ্তকৃত চিংড়ি পুকুর ও চারণভূমি রোহিঙ্গাদের ফেরত দেয়ার দাবি তুলেছেন। তাদের দাবিগুলো যুক্তিক। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে চারটি অন্তর্র্বর্তী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে)। ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি আইসিজের বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে ওই রায় দেন। এই রায়কে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, আইসিজের আদেশ নিঃসন্দেহে মিয়ানমারের ওপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত। তাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দুই দফা সময় দিয়েও তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত, চীন, রাশিয়ারও উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ নিয়মিত কূটনীতির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলেও সবাই চুপচাপ শুনছে, কোনো প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। এর মধ্যে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তা আমাদের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে। খুন, ধর্ষণ, মাদক পাচার, শিশু পাচার, ডাকাতি, অপহরণ, পতিতাবৃত্তিসহ সব ভয়ংকর অপরাধের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে রোহিঙ্গারা। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়