গাইবান্ধায় বাড়ছে নদনদীর পানি, বন্ধ ১২৬ বিদ্যালয়

আগের সংবাদ

শিক্ষিকা থাকেন ভারতে, বেতন তোলেন বাংলাদেশে

পরের সংবাদ

পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

কুড়িগ্রামে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২ , ১০:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২১, ২০২২ , ১০:১৮ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার ও ধরলার ব্রিজ পয়েন্ট ২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে সবগুলো নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার পানি স্থায়ী হওয়ায় বানভাসিদের দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে । এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ডুবে যাওয়া ঘরবাড়ি ও নৌকায় অবস্থান করা মানুষজনের। এসব বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, শুকনো খাবার, ঔষধ ও শিশু খাদ্যের সংকটে পড়েছে বানভাসি মানুষজন। বন্যা কবলিত এলাকায় তীব্র হয়ে উঠছে গবাদি পশুর খাদ্য সংকটও।

রাস্তাঘাট পানির নীচে তলিয়ে থাকায় এবং স্রোতের তীব্রতায় ভেঙ্গে যাওয়ায় এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। কলাগাছের ভেলা এবং নৌকায় এখন যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তাদের। বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত লোকজন অভিযোগ করে বলেন, তারা কোন চিকিৎসা কিংবা ঔষধ পাচ্ছে না। কাগজ-কলমে মেডিকেল টিম থাকলেও বাস্তবে কোথাও তা দৃশ্যমান হয় না হচ্ছে না।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি ভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের তুলনায় একে বাড়েই অপ্রতুল। বন্যাকবলিত অধিকাংশ এলাকায় ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকই।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভগবতীপুর চরের জোহরা খাতুন জানান, চুলা জ্বালাতে পারছি না। ঘরের সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

উলিপুর উপজেলার বেগমগন্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে থাকায় নিজেরাই কষ্টের মধ্যে আছি। এ অবস্থায় গরু -ছাগলের খাবারও জোগাড় করতে পারছি না। কামলাও চলে না, ঘর দরজা ভেঙে যাচ্ছে আগামীতে কি করবো বুঝতে পারছিনা।

সদরের ধরলা সেতু এলাকার সওদাগার পাড়ার বেড়ি বাঁধ সংলগ্ন বন্যা কবলিত মানুষেরা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি দিন যাপন করলেও এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সরকারি ভাবে ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও কিছু এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাধ্যমত বন্যার্তদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজন পাচ্ছেন না বলে একাধিক জনপ্রতিনিধি সাংবাদিকদের বলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ৯ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩শ ৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুলস্ন্যাহ আল মামুন জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার ওপর কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বন্যার পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়