রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির অগ্রপশ্চাৎ

আগের সংবাদ

শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ

পরের সংবাদ

পাহাড়ধস রোধে স্থায়ী সমাধান দরকার

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২২ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২০, ২০২২ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

প্রতি বছরই বর্ষায় চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলাগুলোতে পাহাড়ধসে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটছে। বর্ষা এলে পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে পাহাড় ঢলের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানা যায়। তারপরও একের পর এক মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে। সর্বশেষ পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে আরো চারজন। গত শুক্রবার রাত ২টায় এবং পরদিন শনিবার ভোর ৪টায় নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ১ নম্বর ঝিল ও ফয়েজ লেক সিটি আবাসিক এলাকায় এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম মহানগর এবং আশপাশের এলাকায় পাহাড়ধসে ২৪৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করতে হয় ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বাটালি হিল ও বিভিন্ন স্থানে পাহাড়, দেয়াল ও ভূমিধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা। এত ব্যাপক আকারে না হলেও পাহাড়ধস এবং এতে হতাহতের ঘটনা কিন্তু প্রতি বছরই ঘটছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে- এর প্রতিকারে কী করতে পেরেছি আমরা? গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের প্রায় সাতশ একরে ছোট-বড় ১২টি পাহাড়ে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর রয়েছে এবং অবৈধ এসব ঘরে কমপক্ষে আড়াই লাখ মানুষ বাস করছে। এবার বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশে প্রশাসনের জোরালো তৎপরতা দেখা গেলেও কক্সবাজার, বান্দরবান এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে একের পর এক মর্মান্তিক প্রাণনাশের ঘটনা দেখতে হচ্ছে আমাদের। পাহাড়ধস ও প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়, তারা বিভিন্ন সুপারিশ করে কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের তেমন গরজ থাকে না। আরেকটি লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, পাহাড় ধসে প্রাণহানি-ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও পাহাড়ধস ঠেকানোর ব্যাপারে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। শুধু প্রাকৃতিক কারণেই পাহাড় ধসে পড়ছে তা কিন্তু নয়। নিয়ন্ত্রণহীন পাহাড় কাটা, পাহাড়ে স্থাপনা নির্মাণসহ আরো কিছু অপরিণামদর্শী মনুষ্য তৎপরতার পরিণামে ধসে পড়ছে পাহাড়। বর্ষায় প্রাণহানি ছাড়াও পরিবেশ-প্রকৃতিতে এর ভয়ংকর বিরূপ প্রভাব নিয়ে কারো কোনো চিন্তা আছে বলে মনে হচ্ছে না। পাহাড় কেটে চলছে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। দীর্ঘকাল ধরে পাহাড় কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড়ের গায়ে বেড়ে ওঠা গাছপালা উজাড়ের ফলে পাহাড়ের অবশিষ্ট মাটি আলগা হয়ে যায়। যার ফলে বৃষ্টি হলে পাহাড়ের গা বেয়ে তীব্র বেগে নেমে আসা ঢল আলগা মাটি ধুয়ে নিয়ে নিচে নামতে থাকে। ফলে পাহাড় হয়ে পড়ে দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ। ঘটে পাহাড়ধস। মারা যায় পাহাড়ের ঢালে বস্তিতে বাস করা নিম্ন আয়ের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষ। শুধু বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের ঢালের বসতি উচ্ছেদের ব্যবস্থা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, পাহাড়ধস ঠেকানোরও উদ্যোগ নিতে হবে। বন্ধ করতে হবে পাহাড় কাটা, পাহাড়ের বৃক্ষ উজাড়, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ। সর্বোপরি, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে সরকারের শীর্ষ মহলকেই এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এর কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়