যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভে আকস্মিক সফরে বরিস

আগের সংবাদ

অষ্টাদশে গ্যালারি কায়া: দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী শুরু

পরের সংবাদ

বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় শিল্পকলার মঞ্চে উষ্ণতা ছড়াল ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২২ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৮, ২০২২ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের লেখায় ঘুরেফিরে নানাভাবে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ। নিজের লেখার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন সৈয়দ হক। এই লেখকের রচনায় নাটকের দল পালাকার মঞ্চায়ন করেছে রবীন্দ্রনাথভিত্তিক নাটক ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’।

মঞ্চসারথী আতাউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উষ্ণতা ছড়ালো নাটকটির বিশেষ মঞ্চায়ণের মধ্য দিয়ে। এটি ছিল ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’-এর ২৯তম প্রদর্শনী। কবিগুরুর ছিন্নপত্র অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হক রচিত এই নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন আতাউর রহমান। ১৮৮৯ থেকে ১৮৯৫ সময়কালকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের জীবনের সাধনা পর্যায় নামে পরিচিত। এ সাধনা ছিল রবীন্দ্রনাথের সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তার সৃষ্টিউৎকর্ষের অন্যতম নিদর্শন। এ সময়টায় তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন, কাছ থেকে দেখেছেন বাংলার মানুষ, একাত্ব হয়েছেন বাংলার বৈচিত্রময় প্রকৃতির সঙ্গে, যার চমৎকার চিত্র রয়েছে সেই সময় রচিত তার সব রচনাকর্মে, বিশেষত ছিন্নপত্রে। মোটকথা রবীন্দ্রনাথকে ঘিরেই নাট্য কাহিনীর আবর্তন। রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাতিজী ইন্দিরা দেবী চরিত্রটিও।

তৎকালীন বাংলাদেশ তথা শিলাইদহ-পতিসর-শাহজাদপুরের বিচিত্র মানুষ ও তাদের জীবনও উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরই হাত ধরে। পারিবারিক জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশের শিলাইদহ-শাহজাদপুর-পতিসরে আসেন বিলেত ফেরত রবীন্দ্রনাথ।

কিন্তু সেখানকার নায়েবের আয়োজন করা অভ্যর্থনায় আতিশয্য সহজ-সরল জীবনে অভ্যস্ত রবীন্দ্রনাথকে মুগ্ধ করে না, আর তাই তো রাজা সম্বোধন শুনে তিনি বলে ওঠেন, ‘কে রাজা? আমি তো রাজা নই’। উপস্থিত গ্রামবাসীকে বলেন, ‘আমি এসেছি তোমাদের সঙ্গে থাকব মিলব বলে’। অন্যদিকে কলকাতা থেকে আসার সময় রবীন্দ্রনাথ তার ভাতিজীকে কথা দিয়ে এসেছিলেন, বাংলাদেশে এসে যা কিছু দেখবেন তার সবই লিখে জানাবেন।

শিলাইদহ-শাহজাদপুর-পতিসরে বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপ নতুন করে আবিষ্কার করতে থাকেন রবীন্দ্রনাথ, মানুষদেরও আবিষ্কার করতে থাকেন নতুন রূপে। আর এসবের বর্ণনা চিঠি আকারে পৌঁছে যেতে থাকে ভাতিজীর কাছে। কলকাতায় বসে কাকার চিঠির বর্ণনা পড়তে পড়তে ইন্দিরার সামনে এসে উপস্থিত হয় বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ এবং প্রকৃতি। এসব বিষয়ই নাটকটিতে তুলে ধরেছেন সৈয়দ শামসুল হক।

‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ নাটকে কলাকুশলীরা হলেন শামীম সাগর, শাহরিয়ার খান রিন্টু, আমিনুর রহমান মুকুল, সোনিয়া আক্তার, শর্মীমালা, অধরা হাসান, অনিকেত পাল বাবু, ইভা খানসহ প্রায় ৩৫ জন শিল্পী।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়