মায়ের শততম জন্মদিনে পা ধুয়ে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

‘কুমিল্লায় অলৌকিকভাবে নির্বাচনের ফল পাল্টেছে’

পরের সংবাদ

পদ্মা সেতু হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের হাব: স্পিকার

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২২ , ৩:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১৮, ২০২২ , ৫:২২ অপরাহ্ণ

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, পদ্মা সেতু আমাদের দেশে বহুমাত্রিক অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেছে। এই সেতু বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অনন্য অবদান। এই এলাকায় শিল্প বিপ্লব ঘটবে। সারাদেশে বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পদ্মা সেতু দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে অভূতপূর্ব যোগাযোগ স্থাপন করবে। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়ে থাকব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

শনিবার (১৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক মিলনায়তে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি এ সেমিনারের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. সামসুল আলম, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, অর্থনীতিবিদ ড. এম খলিকুজ্জামান। সেমিনারের সঞ্চালনা করেন শবনম আজিম।

স্পিকার বলেন, নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে। এই সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ভালোবাসা, আমাদের আবেগ, আমাদের আত্মা মর্যাদা। এই সেতু আমাদের বিজয়ের প্রতীক, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক, হার না মানার প্রতীক। আমাদের তরুণ প্রজন্ম প্রস্তুত। পদ্মা সেতুর স্পিড ধারণ করেই তারা এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মসিউর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্নয়ন করতে পিছপা হন না। মানুষের আত্মবিশ্বাস আর চেতনার যে উন্নয়ন, সেটাই বড় বিষয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. সামসুল আলম বলেন, পদ্মা সেতু থেকে প্রতি বছর টোল আদায় হবে ১ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। ৩৫ বছরে সুদসহ টোল আদায় হবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এই সেতু আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই সেতুতে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হয়নি। শত বছরের সাহসিকতার প্রতীক এই পদ্মা সেতু। আমরা ১০টি মেগা প্রকল্প নিয়েছি। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি।

ড. আইনুন নিশাত বলেন, শুরুতে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকা অর্থায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। যখন প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করব। কাজ শুরু হয়। তখন তারা ফিরে এসেছিল অর্থায়ন করতে। প্রধানমন্ত্রী নেয়নি। এটা অনেক বড় সাহসের। কোনো প্রকল্পের পেছনে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট না থাকলে, সেই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। পদ্মা সেতু এত নিখুঁত ছিল। সেখান থেকে অন্য প্রকল্পগুলো শিক্ষা নিতে পারে। তিনি বলেন, খবরের কাগজে যে খরচ দেখানো হচ্ছে, সেখানে অনেক আগের হিসাবও দেখানো হচ্ছে।

ড. নিশাত বলেন, মংলা বন্দর ভুল জায়গায় হয়েছে। এর ভবিষ্যৎ নেই। এটি সরাতে হবে। তাহলেই পদ্মা সেতুর সফলতাটা পুরোপুরি আসবে। আগামী ৫/৭ দিন বন্যার পানি আরো বাড়বে। সুরমা নদীর পানি বাড়বে। আমাদের বড় বড় প্রকল্প অবশ্যই লাগবে। তবে অনর্থক বড় প্রকল্প যেন নেয়া না হয়। পদ্মা সেতুর কোয়ালিটি নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজড করা হয়নি। পরিবেশ এর বিষয়ে কম্প্রোমাইজড করা হয়নি। এটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।

অর্থনীতিবিদ ড. এম খলিকুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতু শেখ হাসিনা সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই সেতু আমাদের মর্যাদার প্রশ্ন। এই সেতু হওয়ার ফলে মানুষ ও পণ্যের পরিবহন খরচ এখন কমে আসবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়