সাক্কুর পরাজয় পাঁচ কারণে

আগের সংবাদ

ঢাবি 'চ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ

পরের সংবাদ

বরাদ্দ বাড়িয়ে ঢাবিতে ৯২২ কোটি টাকার বাজেট পাস

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২২ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৭, ২০২২ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক বাজেট অধিবেশনে ৯২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বাজেট পাশ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে (২০২১-২২) অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ছিল ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে নতুন অর্থবছরের এ বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ৯২২ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকার প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ ৬৭১ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা যা মোট ব্যয়ের ৭২.৮৫%; গবেষণা মঞ্জুরী বাবদ ১৫ কোটি ৫ লক্ষ টাকা যা মোট ব্যয়ের ১.৬৪%; অন্যান্য অনুদান বাবদ ৩৩ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা যা প্রস্তাবিত ব্যয়ের ৩.৬৪%; পণ্য ও সেবা বাবদ ১৭৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৮ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ১৯.৫২% এবং মূলধন খাতে ২১ কোটি ৯৫ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ২.৩৯% বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এবছরের বাজেটে পণ্য ও সেবা সহায়তা, পেনসন ও অবসর সুবিধা এবং অন্যান্য অনুদানের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কমানো হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা ও মূলধন অনুদানে।

নতুন এ অর্থবছরের মোট আবর্তক ও মূলধন বাজেটের ৮৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ আয় ধরা হয়েছে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) ইউজিসি থেকে যা টাকার অংকে ৭৮১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের মূল বাজেটে বিমক-এর অনুদানের তুলনায় ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বিমকের বরাদ্দ ৫০ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ৮৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে যা মোট বাজেটের ৯ শতাংশ। এবং বাজেটে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা যা মোট বাজেটের ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সভায় মোট ৫৩ জন সিনেট সদস্য বক্তব্য দেন। দীর্ঘ আলোচনায় সিনেট সদস্যরা বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বাড়ানো, ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের লিফ্টের সমস্যা নিরসন, রিটেক পরীক্ষার ফি কমানো, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, মেট্রোরেলে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ভাড়া নির্ধারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রিক্সা ভাড়া নির্ধারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত বাড়ানো, মোতাহের ভবন ও মোকাররম ভবনে ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসন, হলে যৌক্তিক টাকায় ভালো মানের খাবার, ডাকসু নির্বাচন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্লান দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়গুলো উঠে আসে।

এছাড়া ধারাবাহিক ডাকসু নির্বাচন এবং ক্যাম্পাসে সকল ধরনের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান সিনেটররা।

অধিবেশনের শুরুতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরমতসহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক, উদার ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক অসাধারণ পাদপীঠ। ভিন্নমত ও ধর্মদর্শনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ গঠনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বস্তুতান্ত্রিক অভাবনীয় উন্নয়নের এ যুগে অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ চর্চার প্রাসঙ্গিকতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা ও সুচিন্তিত পরামর্শের প্রত্যাশা কামনা করেন উপাচার্য।

রি-আরএল/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়