প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পাহাড় রক্ষা জরুরি

আগের সংবাদ

ঢাবির বার্ষিক বাজেট অধিবেশন আজ; বরাদ্দ বাড়ছে ৯০ কোটি টাকা

পরের সংবাদ

ডেঙ্গুর মৌসুম ও প্রাদুর্ভাব : এখনই সতর্ক হোন

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২২ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৬, ২০২২ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

গতকাল ভোরের কাগজের একটি খবরে প্রকাশ, রাজধানীতে বেড়েছে এডিস মশার প্রকোপ। ফলে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এখনই মশক নিধনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না হলে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে ১৭ জনই ঢাকার বাসিন্দা। নতুন ১৮ জনসহ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৭৫ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষায় এডিস মশার ঘনত্ব বাড়ে। গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না রাখলে সামাল দেয়া কঠিন হবে। ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ডেঙ্গু রোগে তখন ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়। করোনা মহামারির মধ্যে গত ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গু উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। চিকিৎসকরা বলছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এখনো ডেঙ্গুজ্বরের কোনো প্রতিষেধক বের করতে পারেনি সরকার। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এ মশা যত বেশি হবে ডেঙ্গুর হারও তত বাড়বে। উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। ২ বছর আগে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলাকালীন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। এরপর দুই সিটি মশক নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সেগুলো ছিল কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটির তেমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি। বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি মশা মারতে আগেভাগে প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। কর্মপরিকল্পনায় ডেঙ্গুর প্রাক মৌসুম, মূল মৌসুম এবং মৌসুম-পরবর্তী পরিকল্পনা একসঙ্গে লিপিবদ্ধ করে মাঠে নামার ঘোষণা দিলেও চোখে পড়ার মতো কার্যক্রম নেই। নগরবাসীর অভিযোগ, সকাল-বিকাল ওষুধ ছিটানোর কথা থাকলেও তা ছিটানো হচ্ছে না। যে পরিমাণ ছিটানো হচ্ছে তা কোনো কাজেই আসছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা পরিচালিত এক জরিপে উত্তর সিটির ৬৩টি এবং দক্ষিণ সিটির ৯৬টি বাড়িতে এডিস মশা অতিরিক্ত মাত্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২২টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন মাত্রার ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়। ঝুঁকি চিহ্নিত ওয়ার্ডগুলোতে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এডিস নিধন এবং এডিসের বংশবিস্তার রোধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়