আইডিআরের নতুন চেয়ারম্যান জয়নুল বারী

আগের সংবাদ

আগামী নির্বাচন নিয়ে জনগণের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে: খসরু

পরের সংবাদ

নিদের্শনা মেনে চাকরিতে ফেরানোর দাবি ছাঁটাইকৃত ব্যাংকারদের

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২২ , ৩:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১৫, ২০২২ , ৩:২২ অপরাহ্ণ

করোনাকালে কর্মী ছাঁটাই না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক তাদের অনেক কর্মীকে চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে পদত্যাগে বাধ্য, আবার কাউকে ছাঁটাই করেছে। বেআইনিভাবে পদত্যাগে বাধ্য ও ছাঁটাই করা কর্মকর্তাদের বহালের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্তপূর্বক প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সার্কুলার জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করার পরও অনেক ব্যাংক তাদের কর্মীদের বহাল করছে না। এসব ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মীরা মানবন্ধন করে চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য হওয়া কর্মীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের আলোকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি তুলেন।

বুধবার (১৫ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা এ দাবি তুলেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, বেআইনিভাবে পদত্যাগে বাধ্য ও ছাঁটাই করা কর্মকর্তাদের বহালের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্তপূর্বক প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সার্কুলার (বিআরপিডি সার্কুলার নং- ২১ তারিখ ১৬-০৯-২০২১) জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করার পরও অনেক ব্যাংক তাদের কর্মীদের বহাল করছে না। অন্যায় চাকরিচ্যুতিতে ব্যাংকগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখা কয়েক হাজার অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক তাগাদা দেয়ার পরও বেশির ভাগ ব্যাংকের শীর্ষনির্বাহীরা সার্কুলার অনুযায়ী কর্মীদের বহালে বিভিন্নভাবে কালক্ষেপণ করছেন। এর প্রেক্ষিতে অনতিবিলম্বে কেন্দ্রয়ী ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে আবেদনকারী কর্মকর্তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। ছাটাই হওয়া কর্মকর্তারা আরো জানান, করোনা মহামারীর সময়ে অন্যায় ও অমানবিক ভাবে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ছয় হাজারের বেশি কর্মকর্তাদের চাকুরীচ্যুত করেছে।

মানববন্ধনে চাকুরীচ্যুত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শাখাওয়াত নামের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাকে অন্যভাবে চাকুরীচ্যুত করা হয়। এইচআর থেকে কল করে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে। অপরাধের কথা জিজ্ঞেস করলে কোনো অপরাধ নেই বলে জানানো হয়। আমি চাকরি ছাড়াতে না চাইলে আমাকে হুমকি দিয়ে চাকরি ছাড়াতে বাধ্য করায়। এখন আমার পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। করোনা সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার প্রতিদান কি এটাই। আমার বয়স হয়ে গেছে। কোথাও এখন চাকরি পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই আমার একটাই দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে দ্রুত চাকরি ফিরিয়ে দেয়া হোক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানববন্ধনে অংশ নেয়া বেসরকারি আরেকটি ব্যাংক থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া এক নারী কর্মী জানান, কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে আমাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এইচআর থেকে ডেকে নিয়ে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে চাট পদত্যাগ করতে। করোনার সময় আমি এ বিষয়ে কোথাও যেতে পারিনি। নতুন করে চাকরিও পাইনি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসায় চাকরি পুর্নবহালের নির্দেশ দেয়। মেনে আমি পুর্নবহালের আবেদন করেছি। কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত আমাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়নি।

মানব বন্ধ‌নে লি‌খিতভা‌বে জানা‌নো হয়, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ ব্যাংক খাতের অভিভাবক সুধীজন, আমানতকারী ও বিবেকবান জনগণের সকলকেই অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের সাথে জানাচ্ছি, গত ২০২০ সনের মার্চে যখন বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, যখন করোনার অভূতপূর্ব ভয়াল থাবায় মানুষের জীবন যখন জীবন মৃত্যুর দোলাচলে দুলছিল, ঠিক তখনই কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক, কর্মী ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাদের বিভিন্ন স্তরের অনেক কর্মকর্তাকে পদত্যাগে বাধ্যকরনের নির্মম কার্যক্রম শুরু করেন এবং ধারাবাহিক ভাবে দীর্ঘদিন তা চলতে থাকে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যাবস্থাদির কারনে চাকুরী চ্যুতির তালিকার বাকী কর্মকর্তাগণ চাকুরীচ্যুতি থেকে রক্ষা পান।

বাধ্যতামূলক পদত্যাগকরনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বাধ্যকরনের বিষয়ে জানতে চাইলে বা প্রতিবাদ করলে স্ব স্ব ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান ও কর্মকর্তারা আমাদেরকে জানান, এটি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা এবং এ বিষয়ে তাদের করনীয় কিছু নেই।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, কোনরকম সুনির্দিষ্ট ও প্রমানিত অভিযোগ ছাড়া, অযৌক্তিক ভাবে ও আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকুরী হতে পদত্যাগ করতে রাজি না হলে বিভিন্ন ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন এবং রাজি না হলে -আমাদেরকে চাকুরী হতে বহিষ্কার বা টার্মিনেশন সহ প্রাপ্য সার্ভিস বেনিফিট থেকে বঞ্চিত করনের হুমকি প্রদান করেন। বারংবার এধরণের হুমকির পাশাপাশি দীর্ঘ সময় আমাদেরকে একাকী রুমে বসিয়ে রেখে, কারও কারও ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বলপূর্বক রেখে দিয়ে ও নানা ভাবে প্রচন্ড মানসিক চাপ প্রয়োগের ঘটনা ব্যাপক ভাবে ঘটেছে।

এদিকে ব্যাংকারদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছর বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই বিষয়ে বিশেষ পরিদর্শনে নামে। পরিদর্শনে দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোর মোট তিন হাজার ৩১৩ জন কর্মকর্তা ‘স্বেচ্ছায়’ চাকরি ছেড়েছেন। এর মধ্যে বয়স থাকার পরও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ দেখানো হয়েছে তিন হাজার ৭০ জনকে। এছাড়া ২০১ জনকে অপসারণ, ৩০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও ১২ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ দেখানো বেশির ভাগই জানিয়েছেন, পদত্যাগের জন্য মৌখিকভাবে তাদের একটি সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই তারিখের মধ্যে পদত্যাগ না করলে কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না— এ ভয় দেখানো হয়। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাধ্য হয়ে তারা পদত্যাগ করেন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়