এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে ৩টি প্রাণ

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপ মঞ্চে অস্ট্রেলিয়া, বিদায় পেরুর

পরের সংবাদ

১৫৫ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড নাজমুন নাহারের

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২২ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৪, ২০২২ , ১:০৭ অপরাহ্ণ

বিশ্বশান্তির বার্তা দিয়ে প্রথম মুসলিম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ১৫৫ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়লেন নাজমুন নাহার। গত ২৯ মে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে নাজমুন নাহার ১৫৫তম দেশ হিসেবে তাজিকিস্তান সফর করেন।

গেল মাসের ২৯ মে নাজমুন নাহার তাজিকিস্তানে ‘পৃথিবীর ছাদ’ খ্যাত পামির মালভূমিতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ১৫৫ দেশ ভ্রমণের এই ইতিহাস গড়েন। এ সময় বিশ্বশান্তির বার্তা নিয়ে দেশটিতে হাজির হন তিনি।

তাজিকিস্তানে বিশ্বশান্তির বার্তা দেন নাজমুন। ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্ন এবং সাহস কখনও মানুষকে থামিয়ে রাখতে পারে না- তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন নাজমুন নাহার। লড়াকু সৈনিক নাজমুন লাল সবুজের পতাকা নিয়ে পৃথিবী ভ্রমণ করছেন গত ২১ বছর ধরে। পৃথিবী ভ্রমণের সময় বহুবার মৃত্যুমুখে পতিত হয়েও সব বাধা-প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এগিয়ে চলছেন আমাদের নাজমুন।

তাজিকিস্তানের মাটিতে বিশ্বের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষার বার্তা দেন নাজমুন। ছবি: সংগৃহীত

২০২১ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের পতাকা হাতে আফ্রিকার দেশ সাওটোমে ও প্রিন্সিপ ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে বিশ্ব ভ্রমণের মাইলফলক রচনা করেন নাজমুন নাহার। তারপর চলতি বছরের শুরুর দিকে আফ্রিকা, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার নতুন দেশ সফরের জন্য আবার বেরিয়ে পড়েন তিনি। তারুণ্যের এই অগ্রপথিক নাজমুন নাহার এবার অভিযাত্রা করেছেন ইরাক, সান মারিনো, মরিশাস, উজবেকিস্থান ও তাজিকিস্তান পর্যন্ত। বেঙ্গল এয়ারলিফটের সিস্টার কনসার্ন বেঙল ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের সৌজন্যে তিনি এই পাঁচটি দেশ ভ্রমণ করেন। ইতোমধ্যে প্যারাগন বাংলাদেশের সৌজন্যে তিনি আফ্রিকার পাঁচটি দেশ সফর করেছেন।

তার পুরো বিশ্বভ্রমণ অনেক অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর। এবারের পাঁচটি দেশ তিনি পুরোপুরি ভিন্ন রুটে ভ্রমণ করেছেন। উজবেকিস্থান ও তাজিকিস্তানের পৃথিবীখ্যাত সিল্করুট ভ্রমণ করেছেন নাজমুন। এছাড়া উজবেকিস্তানের তাশখন্দ, সমরখন্দ, বুখারা শহরের মতো বিখ্যাত ঐতিহাসিক শহরগুলো তিনি ভ্রমণ করেছেন।

তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তান পামির করিডোরের পৃথিবীর ছাদের ভয়ংকর এক হাজার কিলোমিটার টানা সড়ক পথে দুর্গম পথে বেয়ে ভ্রমণ করেছেন। এরই মধ্যে পামিরের রাজধানী খরোগসহ পৃথিবীর ছাদের মুরগাব, ইশকাশিম, ওয়াকাহান মত পামিরের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করেন-যা পৃথিবীর ছাদের অংশজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে।

গত ৩ জুন মধ্য এশিয়ার বিখ্যাত গণমাধ্যম তাজিকিস্তানের এশিয়া প্লাস পত্রিকায় নাজমুনের বিশ্ব ভ্রমণের ওপর এক বিশেষ সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। নাজমুন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এভাবেই গৌরবের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বিশ্ববাসীর কাছে! পিস টর্চ বিয়ার আর অ্যাওয়ার্ডসহ দেশে-বিদেশে নাজমুন ৫০টিরও বেশি সম্মাননা অর্জন করেছেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। নাজমুন পৃথিবীর ১৪টি দেশে মাকে নিয়ে ভ্রমণ করেছেন, বিশ্বের বাকি সব দেশে নাজমুন একাই ভ্রমণ করেছেন। তার ভ্রমণের বেশিরভাগ দেশ ছিল সড়কপথে। তিনি সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

নাজমুন নাহারের জন্মস্থান বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর সদরে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসাহ ছিলেন দাদা, বাবা ও বই। নাজমুন নাহারের লক্ষ্য বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাংলাদেশের পতাকাকে নিয়ে যাবেন।

২০০০ সলে ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার’ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্ব ভ্রমণের সূচনা হয়। ২০১৮ সালের ১ জুন শততম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের ওপর।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়