দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হারল ভারত

আগের সংবাদ

অগ্নি-দুর্ঘটনার শেষ কোথায়?

পরের সংবাদ

শিশুশ্রম বন্ধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হোক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২২ , ১:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১৩, ২০২২ , ১:১১ পূর্বাহ্ণ

দেশে বিপজ্জনক ও নিকৃষ্টতম শিশুশ্রম বিদ্যমান। সরকারের হিসাবেই প্রায় ১৭ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। শিশুশ্রম রোধে সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগ যেন কাজে আসছে না। দিন দিন যেন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। এমতাবস্থায় গতকাল বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হলো। ‘সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি’ প্রতিপাদ্যে দেশজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ‘আইএলও’ শিশুশ্রম নিরসন সনদ-১৮২ গ্রহণের পর থেকেই প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও আমাদের সবার দায়িত্ব শিশুদের অধিকার রক্ষা করা। দেশের কয়েক লাখ শিশু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শিশুদের নির্যাতনের খবর আমরা পাই। কর্মক্ষেত্রে শিশুরা শিকার হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের। এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য হলো, কেউ পেছনে থাকবে না। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই শিশুশ্রম বন্ধ করা প্রয়োজন। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশু শ্রমিক আছে আমাদের মতো এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে। সর্বশেষ গবেষণার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে সাড়ে ৩৪ লাখ শিশু কর্মরত ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ শিশুর কাজ শিশুশ্রমের আওতায় পড়ে। বাকিদের কাজ অনুমোদনযোগ্য। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ছিল ১২ লাখ ৮০ হাজার। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছিল ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু। তাদের কাজের বৈশিষ্ট্য স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট হুমকিস্বরূপ। শিশুশ্রম নিরসনে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটি লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ২০২২ সালের মার্চ মাসে এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এডুকো) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিশুশ্রম বেড়ে ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। করোনাপরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রায় ৫৬ শতাংশ শিশু শ্রমিক সংসারে বাবা-মাকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন কাজ করেছে। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা কাটাতে না পারায় ৪৬ শতাংশ শিশু শ্রমিক স্কুলে ফেরেনি। বাংলাদেশ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন (এসডিজির) লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম দূর করতে চায়। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজে নেয়া যাবে না। ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কাজে নেয়া যাবে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া যাবে না। আর শিশুদের জন্য ৩৮ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া নিষিদ্ধ করা হয়। জানা গেছে, ১৭ লাখ শিশু যারা পূর্ণকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে তাদের মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। সব মিলিয়ে দেশে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কোনো না কোনোভাবে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত আছে। শিশুশ্রম রোধ করতে হলে শিশু শ্রমিকদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। শিশুশ্রম নিরসনের মতো এত বড় কাজ হয়তো শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতসহ সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের বিরত রাখার জন্য ব্যবসায়ীরাও উদ্যোগ নিতে পারেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়