বাজেট ২০২২-২৩ : কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হতে হবে

আগের সংবাদ

অর্থ পাচার উৎসাহিত হবে!

পরের সংবাদ

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২২ , ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১২, ২০২২ , ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে সুযোগ দেয়া হয়েছে। কর দিয়ে যে কেউ দেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারবেন, এক্ষেত্রে কোনো সংস্থাকে প্রশ্ন না তুলতে অর্থমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়া ২০১৬ সালে এ ধরনের সুযোগ দিয়ে ৯৬০ কোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল। শুধু তাই নয়- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপের বহু দেশসহ ১৭টি দেশে এ ধরনের সুযোগ দিয়ে অর্থ ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন। মূলত বিদেশ থেকে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে চায় সরকার। এ জন্য আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ যেসব বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেছেন, নামমাত্র কর দিয়ে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনাই সরকারের উদ্দেশ্য। বাজেট উত্থাপনের পর থেকেই পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে আনতে বিশেষ কিছু মানুষকে দায়মুক্তির সুবিধা প্রদান নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে সিপিডি। সরকারের এমন উদ্যোগের পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকলেও অনেকেই মনে করছেন, কিছুটা হলেও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আসবে। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার একটি কৌশল হচ্ছে সম্পদ বিদেশে রেখেই তাদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করা। এটি হচ্ছে বাড়ি-গাড়ির মতো স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে। অন্যটি হচ্ছে নগদ অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে। বিদেশে ইতোমধ্যে যারা সম্পদ গড়েছেন, আয়কর রিটার্নে তারা তা দেখাতে পারবেন। এ জন্য তাদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। তবে কর দিতে হবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গেøাবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অর্থ পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালেই বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকা। পাচার হওয়া এই অর্থের পরিমাণ একই সঙ্গে আতঙ্ক এবং উদ্বেগের। কারণ যে পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তার বড় উৎস দুর্নীতি। দুর্নীতি ছাড়া এ পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হয়নি। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে, কিন্তু সেই উদ্দেশ্য কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করছে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলাপ-আলোচনার কথাও শোনা যায় জোরেশোরে। কিন্তু কার্যত সেই উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। মাত্র একবার ২০০৭ সালে আমরা একটি ঘটনায় মাত্র ২১ কোটি টাকা ফেরত আনার কথা জেনেছি। এর পর এ ধরনের উদ্যোগ আর নেয়া হয়নি বা হলেও তার সফলতার খবর আমরা জানতে পারিনি। দেখা যাক নতুন করে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগ কতটুকু সুফল পায়। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার আশা করছি। দেশে যে হারে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে এবং এর মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে, তাতে এসব লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে আবশ্যিকভাবেই কয়েকটি বিষয়ের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার, বৈষম্য হ্রাস এবং বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, অথচ তা রোধ করা যাচ্ছে না, এটা কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না। অর্থ পাচার রোধে অবশ্যই পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়