শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান চলাকালে হাজির মৃত ছেলে!

আগের সংবাদ

বাতাসে লাশের গন্ধ স্বজনের চোখে জল

পরের সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং : এ সামাজিক ব্যাধি রুখতে হবে

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২২ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২২ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

গ্যাং কালচার সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের প্রধান শহরগুলোতে কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা এই কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপে দিন-রাত আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুলিশে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না নগরবাসী। সর্বশেষ গত ১৭ মে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর এলাকার রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ধ্রæব নিহত হয়। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সুব্রতকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ল্যাম্প-পোস্টের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করে। ১৬ জন সন্ত্রাসী মিলে লোহার রড, বাঁশ, রামদা ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নির্যাতন চালায়। এর আগে ১১ মে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফতুল্লার দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকায় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে এবং দোকানপাটে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় মিরাজুল ইসলাম দীপু হামলাকারীদের বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গত ১৩ মে রাতে বোয়ালিয়া খাল এলাকায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক অগ্রবাণী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রশিদ চৌধুরী ও পথচারী মো. জসিম। গত ১৪ মে বন্দরে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত হয় শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল ইসলাম রিফাত (১৫)। এ হামলার ঘটনায় ছাত্রের মা শাহনুর বেগম বাদী হয়ে বারপাড়া লাঙ্গলবন্ধের ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। নারায়ণগঞ্জে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কিশোররা আগামীর ভবিষ্যৎ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কিশোর সন্ত্রাস নতুন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীতে প্রতি মাসে গড়ে ২০টি হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর বেশিরভাগ ঘটনায় কিশোর অপরাধীরা জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিথিল পারিবারিক বন্ধন, মা-বাবার সন্তানকে সময় না দেয়া, সামাজিক অবক্ষয়, স্বল্প বয়সে স্মার্টফোনসহ উন্নত প্রযুক্তি উপকরণের নাগাল পাওয়া, সঙ্গদোষ ইত্যাদি কারণে কিশোরদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া কিশোরদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা দেয়া, যৌক্তিকতা বিচার না করেই সব আবদার পূরণ করা এবং সন্তান কী করছে সে বিষয় পর্যবেক্ষণ না করায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে এবং কেউ তাদের অসৎ কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। এজন্য সবার আগে পরিবার তথা মা-বাবাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানরা কী করে, কার সঙ্গে সময় কাটায়- এসব খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের অযৌক্তিক আবদার পূরণ করার আগে ভাবতে হবে। স্কুল কারিকুলামের বাইরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা এবং যুক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। কিশোর অপরাধ রুখতে ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। যারা ইতোমধ্যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়