প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহায়ক বাজেট: অর্থমন্ত্রী

আগের সংবাদ

জনগণের ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনে আদালতে যাবেন মেয়র আতিক

পরের সংবাদ

কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে গুলি, নিহত ২

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২২ , ৪:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২২ , ৬:৪১ অপরাহ্ণ

ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুন) দুপুরে এ ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পর হামলাকারী পুলিশ সদস্য নিজের গলায় গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন। হামলাকারী ওই পুলিশ সদস্যের নাম- ছোটুপ লেপটা। চার দিন আগে তিনি উপদূতাবাসের সামনে আউটপোস্টে নিরাপত্তার দায়িত্বে পালন করতে শুরু করেন। কলকাতার পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, ছোটুপ হয়তো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। উপদূতাবাসের কাউন্সিলর (কনস্যুলার) বশির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা এলাকায় কী করে এমন ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ উপদূতাবাস। কাউন্সিলর বশির উদ্দিন জানান, কলকাতা পুলিশ পরে ব্রিফ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।

বাংলাদেশে উপহাইকমিশনের পাশের রাস্তায় হাইকমিশনের ওই নিরাপত্তা কর্মী প্রথমে এক স্কুটি আরোহী নারীকে গুলি করে। ঘটনাস্থলে ওই নারী মারা যান। স্কুটির চালক আহত হন। পরে ওই নিরাপত্তা কর্মী আরও আট রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি আত্মঘাতী হন।

আত্মঘাতী ওই পুলিশ সদস্য ঘটনার শুরুতে এক নারী পুলিশ কর্মীকে উপদূতাবাসের গলিতে খুঁজতে থাকেন। তাকে খুঁজে না পেয়ে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন ওই পুলিশ সদস্য। তিনি হাতের কাছে থাকা এসএলআর বন্দুক দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে হামলাকারী পুলিশ সদস্য ছোটুপ লেপচা

তবে ঠিক কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছে ওই পুলিশ সদস্য তা নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।

আত্মঘাতী ওই পুলিশ সদস্য চারদিন আগে উপহাইকমিশনের আউটপোস্টে ডিউটিতে জয়েন করেন বলে জানা গেছে। এখনও পর্যন্ত কারও সঠিক পরিচয় পাওয়া যায় নি।

ঘটনার পর কড়েয়া থানার কর্মকর্তাসহ কলকাতা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, আত্মঘাতী পুলিশ সদস্য মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। প্রথমে ওই পুলিশ সদস্য রাস্তায় থাকা গাড়িগুলোতে গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময়ে এক নারী সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এক বাইক চালকও গুরুতর আহত হন।

এরপর রাস্তাতেই নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি করে আত্মঘাতী হন ওই পুলিশ সদস্য। হঠাৎ কেন ওই পুলিশ সদস্য এ কাজ করলেন, তা স্পষ্ট নয়। মানসিক চাপ না এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

আত্মঘাতী ওই পুলিশ সদস্য ও নিহত ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ এসে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত পুলিশ সদস্যের রাইফেলটিও উদ্ধার হয়েছে। তবে ঘটনার জেরে এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কলকাতা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

নিহত ওই নারীর নাম রিমা সিং। তিনি হাওড়ার দাশনগরের বাসিন্দা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভারতীয় পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, একজন নারীর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। এছাড়া আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে তাদের অবস্থা অনেকটা ভালো।

তিনি আরও বলেন, মৃত ছোটুপ লেপটা ফিফথ ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে এটা জানতে পেরেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ওই কনস্টেবল অবসাদে ভুগছিলেন বলে মনে করছেন তিনি।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়