বন্দুক তাক করে পেশাদার খুনি, অল্পের জন্য বাঁচলেন সালমান খান

আগের সংবাদ

ঢাবিতে তরুণীর জামা খামচে ছিঁড়ে গালি দিতে দিতে পালালো বাইক আরোহী

পরের সংবাদ

ইমারত নির্মাণ করলে সোকওয়েল ও সেফটিক ট্যাংক থাকতে হবে: তাপস

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২২ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২২ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

ঢাকা শহরে যে কোনো ধরনের ইমারত নির্মাণ করলে সেখানে অবশ্যই সোক-ওয়েল ও সেফটিক ট্যাংক থাকতে হবে। না থাকলে সেসব স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

শুক্রবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স ও বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যে নর্দমাগুলো করা হয়েছে, সেই নর্দমাগুলো শুধু পানি নিষ্কাশনের জন্য। সেগুলো পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নয়। পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে ঢাকা ওয়াসা। যেহেতু ওয়াসা পয়ঃবর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেনি সেহেতু ঢাকাবাসী পয়োবর্জ্যের সংযোগগুলো আমাদের নর্দমায় দিয়ে দেয়। যার কারণে এই নর্দমাগুলো থেকে পয়োবর্জ্য খালে গিয়ে পৌঁছায়। ফলে খালের পানি কালো। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী পহেলা জুলাই থেকে আমরা সেটা কঠোর বাস্তবায়নে যাবো। ঢাকা শহরে যেকোনো ইমারত নির্মাণ করলে তাহলে অবশ্যই অবশ্যই সেখানে সোক ওয়েল থাকলে হবে, সেফটিক ট্যাংক থাকতে হবে। এটা আবশ্যকীয়। এটার আইন আছে। আমরা সেই আইনের কঠোর বাস্তবায়নে যাবো।

খালগুলো শুধু বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বদলে পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনের মাধ্যমে হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আমাদের খালগুলোর যে পানি তা দেখলে আপনাদের কারো ভালো লাগবে না। কারণ আমাদের সকল পয়োবর্জ্য নিষ্কাশন হয় এসব খাল দিয়ে। অথচ খালগুলো দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কথা। কিন্তু সেখানে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য যোগ হয়ে খালগুলো পয়ঃনিষ্কাশনের একটি ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টেকসই শহর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ সময় সব শহরের মতো দৈনন্দিন ভিত্তিতে ঢাকা শহরেরও সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কর্মযজ্ঞ শেষ করার একটি সুনির্দিষ্ট সময় থাকা আবশ্যক উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, করোনাকালে জনজীবন যখন স্তব্ধ ছিল তখন প্রকৃতিকে নবোদ্যোমে জেগে উঠতে আমরা দেখেছি। কারণ প্রকৃতির বিশ্রাম করার সময় লাগে। তেমনি ঢাকা শহরের ব্যবস্থাপনার জন্য সময় প্রয়োজন। আমরা সারাদিনই ঢাকার ওপর অত্যাচার করবো এবং ঢাকা আমাকে সুন্দর পরিবেশ উপহার দেবে- সেটা কামনা করা যৌক্তিক নয়। পৃথিবীর সব শহরেরই একটি সময়সীমা আছে, ঢাকা শহরের কোনো সময়সীমা নেই। সুতারাং এ বিষয়ে আমরা সকলের সাথে আলাপ করছি। আগামী ১ জুলাই হতে ঢাকা শহর রাত আটটার পর বন্ধ করার জন্য আমরা উদ্যোগ নেবো। অবশ্য রেস্তোরাঁ ও অত্যাবশ্যকীয় যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদী যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও অভিযোজন বিবেচনায় নেয়া হবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস জানান। সেজন্য এ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও মতামত গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।

সেমিনারে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের টিম লিডার ড. আইনুন নিশাত জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ফজলে রেজা সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদ উল্লা খন্দকার, জিআইজেড বাংলাদেশের অ্যাডাপটেশন অব আরবান এরিয়াস টু ক্লাইমেট চেইঞ্জের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড. ডানা দে লা ফন্টেইন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অঞ্চল ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২১ এর প্রকাশনা উন্মোচন এবং অঞ্চল ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২৩ এর ঘোষণা প্রদান করা হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়