ক্যানসার মুক্তির ওষুধ, ট্রায়ালেই শতভাগ সফলতা

আগের সংবাদ

সীতাকুণ্ডে মানবতার প্রতিচ্ছবি

পরের সংবাদ

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সচেতনতা জরুরি

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২২ , ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৮, ২০২২ , ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অর্ধশত নিহত হওয়ার পর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠেছে। আমদানি-রপ্তানির সুবিধার্থে চট্টগ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে ১৯টি বেসরকারি ডিপো। এসব ডিপোর কোনোটিই গড়ে ওঠেনি নীতিমালা মেনে। রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণে উদাসীনতা আছে ডিপোগুলোর। অরক্ষিত অবস্থায় রাখার কারণেই সীতাকুণ্ড ডিপোতে এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল। ডিপোর শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ ব্যবস্থায় নিরাপদে রাখার নিয়ম থাকলেও সেসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করেনি বিএম ডিপোর মালিকপক্ষ। এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক দ্রব্যের গুদামে আগুন লেগে ১২৪ জন মারা গিয়েছিল। তখনো সারাদেশে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা আরো নিখুঁত করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। এটা দুঃখজনক। সরকার এ বিষয়ে কঠোর না হলে সামনে হয়তো আরো বড় ঘটনা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে। জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে সি-ফেয়ারার্স লিমিটেড নামে বেসরকারি আইসিডি চালুর মাধ্যমে দেশে বেসরকারি ডিপোর যাত্রা শুরু হয়। এরপর কোনো নীতিমালা ছাড়াই ২০২১ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছে মোট ১৯টি বেসরকারি ডিপো। ৩৮ বছর পর ঠিক হলো এসব ডিপো কীভাবে চলবে, তার নীতিমালা। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই নীতিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ‘বেসরকারি খাতে ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) ও কন্টেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা-২০২১’ নামে অভিহিত। নীতিমালা অনুযায়ী নতুন স্থাপিত আইসিডিগুলোকে অবশ্যই শহরের ২০ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করতে বলা হয়েছে। নতুন আইসিডি স্থাপনের ক্ষেত্রে নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গা, ভাড়া জায়গা বা লিজ নেয়া জায়গায় আইসিডি স্থাপন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ একর জায়গা এবং সাড়ে ৪ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার রাখার জায়গা থাকতে হবে। সিএফএসের আয়তন হতে হবে আইসিডির মোট আয়তনের ৫ ভাগের ১ ভাগ। আইসিডি স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ থাকলে অংশীদারিত্বে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন হতে হবে। এছাড়া আইসিডির মূল গেট জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ২০০ মিটার দূরে রাখতে হবে। কিন্তু এই নীতিমালাও মানছেন না কন্টেইনার ডিপোর কোনো মালিক। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, গত ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রায় সবই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে অবহেলাজনিত কারণে হয়েছে। যার সূত্রপাত হয়েছিল অনিরাপদ ও অবৈধ গুদামে কেমিক্যাল মজুতের কারণে। পরিসংখ্যানটি কত ভয়াবহ। এরপরও আমাদের টনক নড়ছে না। বাংলাদেশের শিল্প খাতে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় সেগুলোর ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব বিস্ফোরক অধিদপ্তরের। এ অধিদপ্তরের ভূমিকা জোরালো হওয়া দরকার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়