পদ্মা সেতু নিয়ে মিথ্যাচারে নিজের রেকর্ড ভাঙলেন ফখরুল

আগের সংবাদ

বুধবার ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি

পরের সংবাদ

টি-টোয়েন্টিতে ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন তামিম

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২২ , ৯:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৭, ২০২২ , ৯:২৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ক্রিকেটের টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই লাল-সবুজের জার্সিতে ওপেনিংয়ে আস্থা হয়ে থাকেন তিনি। বর্তমানে টাইগারদের ওয়ানডে ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অনেকটা সরে দাঁড়িয়েছেন। ২০২০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার পর দেশের হয়ে আর কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি তামিম।

আইসিসি কর্তৃক আয়োজিত গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করেননি তিনি। তার পরিবর্তে নাঈম শেখ দলে সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন ভাবতে হয়েছে ক্রিকেট বোর্ড থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। এরই মধ্যে একাধিক তরুণকে সুযোগ দিলেও তারা প্রত্যাশা অনুসারে ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। এরপরও তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন তামিম।

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্দান্ত খেললেও সেই জানুয়ারিতেই ৬ মাসের জন্য টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এই ছয় মাস পূর্ণ হতে এখনো প্রায় দেড় মাস বাকি। কিন্তু ক্রিকেট পাড়ায় তার প্রত্যাবর্তন নাকি পুরোপুরি অবসর তা নিয়ে আলোচনা বেশ তুঙ্গে। আলোচনা-সমালোচনায় স্বয়ং তামিমসহ যোগ দিয়েছেন বিসিবি কর্মকর্তারাও। তামিম ভক্তরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে স্বপ্ন দেখছে তামিম আবার ফিরবেন।

এ নিয়ে গত রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টি নিয়ে যে পরিকল্পনা আমার, আমাকে তো বলার সুযোগই দেয়া হয় না। হয় আপনারা বলে দেন, না হয় অন্য কেউ বলে দেয়। ওই টাই চলতে থাকুক। আমার তো বলার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেছিলেন, এতদিন ধরে আমি ক্রিকেট খেলি, এতটুকু আমি ডিজার্ভ করি। আমি কি চিন্তা করি না চিন্তা করি এটা আমার মুখ থেকে শোনা। কিন্তু হয় আপনারা কোনো ধরণা দিয়ে দেন বা অন্য কেউ এসে বলে দেয়। যখন বলেই দেয় তখন আমার এখানে কিছু বলার নেই।

ব্যাটিং অ্যাকশনে তামিম ইকবাল

তামিমের এই অভিযোগের একদিন পরই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন পুরোপুরি ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে তামিম অভিযোগকে স্রেফ মিথ্যাচার বলেও অভিহিত করেছেন। টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়ে তামিমের সঙ্গে বোর্ড সভাপতির কোনো কথা হয়নি বলেই তিনি এই অভিযোগকে মিথ্যাচার বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরো বলেছেন, তামিমকে আমার বাসায় ডেকে আমি চারবার টি-টোয়েন্টি খেলতে অনুরোধ করেছি। বোর্ডের অন্য সদস্যরাও তাকে অনুরোধ করেছে, সে বলেছে খেলবে না। এখন দেখেন কী বলছে। তাকে অনেকবার ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও সে লিখিত দিয়ে বলেছে টি-টোয়েন্টি খেলবে না। তাই আমি বুঝতে পারছি না সমস্যাটা কোথায়। তাই সে যা বলে তাকে বলতে দিন, আমাদের হাতে যা প্রমাণ আছে, তা আমরা হাজির করব। এরপরও টি- টোয়েন্টিতে তামিমের ফেরার আশা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, আমরা চাই সে টি-টোয়েন্টি খেলুক। এখন সে কি খেলবে? সে কি বিশ্বকাপে খেলতে চায়? যদি খেলতে চায়, তাহলে তাকে আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের মতামত শুনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন তামিম। ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেছেন, আমার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি কথার সূত্র ধরে অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন বা মিডিয়ায় কিছু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে দেখতে পাচ্ছি। দুই দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে আমি স্পষ্ট করে বলেছি, আমার ঘোষণা আমি দেয়ার সুযোগ পাচ্ছি না, অন্যরাই নানা কিছু বলে দিচ্ছে।

এখানে বোর্ড কমিউনিকেট করেনি বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি, এরকম কোনো কথা আমি একবারও বলিনি। বোর্ড থেকে কয়েকবারই আমার সঙ্গে আলোচনা করেছে টি-টোয়েন্টি নিয়ে। আমি ৬ মাসের বিরতি নিয়েছি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে। এরপরও বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে কয়েক দফায়। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আমি কখনোই তুলিনি। আমি সেদিন অনুষ্ঠানে যা বলেছি, আজকে আবার বলছি, ‘টি-টোয়েন্টি নিয়ে আমার যে প্ল্যান, সেটা তো আমাকে বলার সুযোগই দেয়া হয় না। হয় আপনারা বলে দেন, নয়তো অন্য কেউ বলে দেয়। তো এভাবেই চলতে থাকুক। আমাকে তো বলার সুযোগ দেয়া হয় না। এতদিন ধরে আমি ক্রিকেট খেলি, এটা ডিজার্ভ করি যে আমি কী চিন্তা করি না করি, এটা আমার মুখ থেকে শোনা। কিন্তু হয় আপনারা কোনো ধারণা দিয়ে দেন, নয়তো অন্য কেউ এসে বলে দেয়। যখন বলেই দেয়, তখন আমার তো কিছু বলার নেই।’ এটুকুই বলেছিলাম।

এখানে কি উল্লেখ আছে যে কেউ যোগাযোগ করেনি? এরকম কোনো শব্দ বা ইঙ্গিত আছে? খুবই সাধারণ ভাষায় বলেছি, আমার কথা আমাকে বলতে দেয়া হচ্ছে না। ৬ মাসের বিরতি নিয়েছি, এর মধ্যেও মিডিয়া নানা কথা লিখে বা বলে যাচ্ছে, অন্যরাও কথা বলেই যাচ্ছেন। বোর্ডের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নিয়মিতই আছে এবং তারা খুব ভালোভাবেই জানে, টি-টোয়েন্টি নিয়ে আমার ভাবনা কোনটি। আমি স্রেফ নিজে সেই কথাটুকু বলতে চাই, সেই সময়টুকু চাই। সময় হলে আমার সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই আমি জানাব। ৬ মাস হতে তো এখনো দেড় মাসের বেশি বাকি। কিন্তু সেই সময়টার অপেক্ষা কেউ করছে না। এটাই দুঃখজনক।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়