পদ্মা সেতুর আনন্দ নষ্ট করতেই সীতাকুণ্ডে আগুন, সন্দেহ তথ্যমন্ত্রীর

আগের সংবাদ

পদবী পরিবর্তন করতে আইন সংশোধনী বিল

পরের সংবাদ

সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রুমিন ফারহানা

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২২ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৬, ২০২২ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৪৯ জন মারা গেছে, যার মধ্যে ১২ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং অন্তত পক্ষে আহত হয়েছেন ৫০০ জন। তিনি এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে কন্টেইনার ডিপোর মালিক চট্টগ্রাম দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব ওর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা এ দাবি জানান। একই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাও এ ঘটনার জন্য দায়ি কন্টেনার ডিপোর মালিকসহ যারা অনৈতিকভাবে এ ধরনের বিস্ফোরক রেখেছিল তাদের শাস্তির দাবি জানান।

রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশে দুর্ঘটনাগুলোর একটা বড় উদাহরণ- নীমতলী অগ্নিকাণ্ড। ২০১০ সালে এ অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ১২৪ জন মানুষ। কিন্তু দুঃখের বিষয় এত মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেলেও সেখানে কোনো মামলা দায়ের হয়নি, হয়েছে একটা জিডি। আবার এই জিডির তদন্ত কাজ এখনো চলমান। এ ঘটনার কোনো শাস্তি বা বিচার হয়নি। এরপর চুরিহাট্টায় ক্যামিক্যাল বিস্ফোরণে মারা যায় ৭৭ জন। এ দুটি ঘটনার জন্য দায়ি ক্যামিকাল। এ সময় সরকার বলেছিল, ক্যামিক্যাল গুদাম সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। কিন্তু এখনো তা সরিয়ে নেয়া হয়নি। সেখানে এখন ১৫ হাজার ক্যামিক্যাল গুদাম বা বারুদের দোকানের ওপর লাখ লাখ লোক বসবাস করে। সেখানে আবারো যে কোনো মুহুর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রুমিন বলেন, সীতাকুণ্ডের ঘটনার বিষয়ে একটি কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই- ‘সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনা ঘটেনি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। গত রবিবার চট্টগ্রামের বিস্ফোরক পরিদর্শক তোফাজ্জেল হোসেন পরিষ্কার করে বলেছেন, এ ডিপোতে দাহ্য পদার্থ রাখা হয়েছে তা আমাদের জানানো হয়নি। এ ধরনের পণ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন। কিন্তু ডিপোতে সে অবকাঠামো, ব্যবস্থা ছিল না। অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু এদেশে দায়িত্বে অবহেলার জন্য মন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সংস্কৃতি নেই, তাই আমি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি না।

রুমিন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের একজন পরিচালক লে. কর্নেল রেজাউল করিম স্পষ্ট জানিয়েছেন তাদেরকে কেউ জানায়নি এখানে কেমিক্যাল রাখা রয়েছে। তাহলে অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা হতো একেবারে অন্য পদ্ধতিতে। তাতে বিস্ফোরনের ঘটনা অনেকটা কম হতো। সেক্ষেত্রে কন্টেইনার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করতেন এবং এতগুলো মানুষ মারা যেত না। এ মানুষ গুলো মারা গেছে একমাত্র ডিপোর মালিকের চরম উদাসীনতায়। এ ডিপোটি ছিল অনুমোদনহীন, এমনকি যখন আগুন লেগেছে তখন মালিক পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসকে জানান হয়নি এখানে কামিক্যাল আছে।

রুমিন বলেন, এ স্পর্ধা তিনি (মালিক) কেন পেয়েছেন? কেন না তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলে। এমন একটি পদে থেকে কোনো নিয়ম কানুন মানার বিষয় তিনি ভাবতেও পারেননি। এরআগে তাজনীন ফ্যাশনেও অগ্নিকাণ্ডে ২০১২ সালে মারা যায় ১১২ জন। যার মালিক-এমডি ছিল দেলোয়ার হোসেন। যাকে বর্তমানে ঢাকা উত্তরের মৎসজীবী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। সীতাকুণ্ডের ঘটনার দুই দিন পার হলেও সেখানকার মালিকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ তিনি আইন ভঙ্গ করে ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের মত দাহ্য পদার্থ রেখেছিলেন। বিশেষ কোনো অবকাঠামো ছাড়াই তিনি এ ধরনের দাহ্য পদার্থ রেখেছিলেন। তা ফায়ার সার্ভিসকেও তিনি জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। তাহলে এত মানুষ মারা যেত না। আমি এ ডিপোর মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাও সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, যদিও এটাকে আমরা নিছক অগ্নিকাণ্ড বলে মনে করছি, কিন্তু এটা নিছক অগ্নিকাণ্ড নয়। এর পিছনে কোনো নাশকতা রয়েছে কিনা তা সরকার তদন্ত করে দেখবে। যদিও কোনো তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখে না। এ দুর্ঘটনার পরে অনেক প্রশ্ন আসছে। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের মতো একটি জনবহুল এলাকায় কিভাবে এ ধরনের একটি ডিপো থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমরা সাড়ে ৬ লাখ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করি, কিন্তু কেন ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে পারি না। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিজেদের ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করি তখন বিশ্বের দরবারে আমরা প্রসংশিত হই, কিন্তু আগুন নেভাতে গিয়ে যখন এত সংখ্যক ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মারা যান তখন আমারা লজ্জায় মুখ লুকাবো কোথায়? আমরা ফায়ার কর্মীদের হাতে যদি আধুনিক যন্ত্রপাতি তুলে দিতে পারতাম তাহলে গল্পটা প্রসংশিত হতো। তিনি এত মানুষের মৃত্যু ও আহতদের ঘটনার জন্য দায়ি ডিপোর মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবার দাবি জানান। বাবলা এ সময় বলেন, সেখানে ছাত্র, হুজুর ইসকনসহ সব ধরনের মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, এতে আমাদের অসাম্প্রদায়িকতার উদাহরণ প্রকাশ পায়। এজন্য তিনি বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীদের কর্মকাণ্ডের প্রসংশা করেন।

রি-এনআরআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়