গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের পাশে মাঠে থাকবে ১৪ দল

আগের সংবাদ

ডিজিটাল বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে জবাবদিহিতার আওতায় আসবে ই-কমার্স

পরের সংবাদ

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলছে : সিন্ডিকেটের কবলে আর নয়

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ৪, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই দেশটিতে কর্মী যাওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। আগামী এক বছরে ২ লাখ কর্মী পাঠাতে পারবে বলে সরকার আশা করছে। দীর্ঘদিন পর হলেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুন করে বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার খবর ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত জনশক্তি রপ্তানি। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখনো জনশক্তি রপ্তানির প্রধান টার্গেট। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির বাজার দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সরকার নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। অবশেষে সাফল্য আসছে। জনশক্তিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত দেশের অন্যতম বৃহত্তম এ বাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে আবারো সিন্ডিকেট বাণিজ্য শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ মালয়েশিয়া সরকার এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়। এর আগে সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। সেই জট খুলতে গত ডিসেম্বরে পুত্রাজায়ায় দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। জট খুলতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক কয়েক দফা পেছানোর পর গত বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যোগ দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদের আমন্ত্রণে বুধবার ঢাকায় আসেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি সারাভান মুরুগান। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে দুই মন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়াতে আমাদের বিশাল এক শ্রম অভিবাসীরা কাজ করছেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে অবশ্যই আগের ভুলত্রæটি মোকাবিলা করে এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। সে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সহনশীল ব্যয়ের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ করাটাই এখন বড় কর্তব্য। সিন্ডিকেট সমস্যাটি এখানে প্রকট। কেউ কেউ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা বলছেন। তবে অনেকে মনে করেন, অনিয়ম-প্রতারণা বাড়বে। এই অবস্থার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণ ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক সংসদীয় ককাসের ২৪ দফা প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এ খাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকবে না বলে সরকারের একটি মহল মনে করছে। কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে যাতে ব্যয় বেড়ে না যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাতে কেউ নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়