ডলারের এক দাম থেকে সরে দাঁড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

আগের সংবাদ

মালয়েশিয়ায় খুলল শ্রম বাজার, এক বছরে যাবে ২ লাখ কর্মী

পরের সংবাদ

বিদেশি পর্যটক আনতে ভিসা সহজ করতে হবে: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২২ , ৬:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২, ২০২২ , ৬:০২ অপরাহ্ণ

বিদেশি পর্যটকদের আনতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে মন্তব্য করে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, পর্যটনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে তারপরেই অবকামাঠামোগত উন্নয়ন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ১৭তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘ট্রিপলাভার ঢাকা ট্রাভেল মার্ট-২০২২’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আবু তাহির মো. জাবের, নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারী পর্যটন ও অ্যাভিয়েশন খাতকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। তাই ট্যুরিজমকে মাথায় রেখে ভিসা প্রক্রিয়া যতটা সহজ করা যায়, আমরা তা নিয়ে আলোচনা করছি। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল-ভুটানে কোনো সমুদ্রসৈকত নেই। আমরা যদি তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে পারি, সেক্ষেত্রে অনেক পর্যটক পাব। এ বিষয়ে আমি দ্রুত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক করব। সেখানে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের ডাকব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ক্রুজ শিপ চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব, যাতে দ্রুত ক্রুজশিপ নামাতে পারি। দেশে আসা পর্যটকদের শিপেই যেন ইমিগ্রেশন হয়। তারা যেন সেখান থেকে নিরাপদে নামতে পারেন। এসব নিয়ে আলোচনা করব।

দেশের পর্যটন খাত নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে পদ্মা সেতু হয়েছে, মেট্রোরেল হচ্ছে। আমি যে দেশেই যাই, সেই দেশের মেট্রোরেল দেখার সুযোগ হয়েছে। আমাদের দেশের মেট্রোরেল সব দেশ থেকে উন্নত অত্যাধুনিকভাবে তৈরি করেছে জাপানের ইঞ্জিনিয়াররা। দেশে ডালাসের মতো এলিভেটেড এক্সপ্রেস হচ্ছে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল হচ্ছে, কক্সবাজারের সমুদ্র ছুঁয়ে রানওয়েতে নামবে প্লেন। এ অর্জনগুলো দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও বাংলাদেশে অনেক ঐতিহাসিক মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনা আছে, প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন আছে, হাওর আছে। সব মিলে একটি ট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিউইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান নির্ধারিত সময়েই টরন্টো যাবে। ইতোমধ্যে একবার গিয়েছে। শিগগিরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ফ্লাইট চালু হবে। এ ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আমরা অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি। এটি বর্তমানে বিমানের প্রেস্টিজ ইস্যু।

ট্র্যাভেল মার্টের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর পর্যটন মেলা আয়োজনের এ মহৎ উদ্যোগ সফল হোক, সার্থক হোক। আমি এ মেলার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের পর্যটন ও অ্যাভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে এ মেলা আয়োজনের জন্য মনিটর এবং এ খাতের অভিভাবক ওয়াহিদুল আলমকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম প্রতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হোক। টানা ১৭ বারের মতো এ মেলা আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি বাংলাদেশ মনিটর এবং ওয়াহিদুল আলমকে। আশা করছি কোভিড পরবর্তী সময়ে দেশের ট্যুরিজম খাতকে এগিয়ে নিতে এ পর্যটন মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত ভ্রমণ ও পর্যটন খারে পুনরুজ্জীবনে গতি আনাই আমাদের এই মেলার লক্ষ্য। এর মধ্য দিয়ে আমরা এমন একটা প্ল্যাটফরম প্রদানের চেষ্টা করেছি যেখানে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য ও সেবার প্রচার করতে পারেন এবং ক্রেতারাতােেদর পছন্দের সেবাটি সরাসরি নেয়ার সুযোগ পান। এই মেলাটি ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধ তৈরি করবে।

তিনদিনব্যাপী পর্যটন মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। মেলার প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৪০ টাকা। প্রবেশ কুপনের ওপরে সমাপনী দিনে একটি র‌্যাফেল ড্রর আয়োজন করা হবে। বিজয়ীদের জন্য থাকবে মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, দিল্লি, কলকাতা, কক্সবাজার এবং সিলেটের জন্য রিটার্ন টিকিটসহ আকর্ষণীয় অন্যান্য পুরস্কার।

ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২২ এর টাইটেল স্পন্সর অনলাইন ট্র্যাভেল এজেন্সি ট্রিপলাভার, কো-স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। পার্টনার হিসেবে আয়োজনে সহযোগিতা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলা শেষ হবে শনিবার (৪ জুন)। এবারের মেলায় প্রায় ৫০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ট্র্যাভেল এজেন্সি, অনলাইন ট্র্যাভেল এজেন্সি, স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাও রয়েছে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়