জাতির পিতার উন্নয়ন ভাবনা

আগের সংবাদ

থানায় থানায় দায় ঠেলাঠেলি

পরের সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষায় এডহক নয়, স্থায়ী নীতিকৌশলই আবশ্যক

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২২ , ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৩১, ২০২২ , ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

দেশে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা কোনোকালেই সন্তোষজনক মানের ছিল না। আগে এ খাতে বিনিয়োগ খুব সামান্যই ছিল, তখন প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া শিক্ষার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানই দেশে ছিল না। আশির দশকে কেজি স্কুল, নানা ধারার মাদ্রাসা, বেসরকারি এনজিও এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নব্বইয়ের দশকে ইংরেজি মাধ্যম ইত্যাদি নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশে প্রাথমিক শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত সেটি নিয়ে সেই সময়ের কোনো সরকারই বৈজ্ঞানিক কোনো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেনি। যারা শিক্ষাকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চেয়েছে তারাই এর সুযোগ নিয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের জনগণ, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। নব্বইয়ের পর থেকে দেশে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন ধারা-উপধারায় বিভক্ত হয়ে মৌলিক শিক্ষালাভে জাতির নতুন প্রজন্মকে ভয়ানকভাবে বিভক্ত করেছে। সরকারগুলো গত দেড়-দুই দশকে প্রাথমিক শিক্ষায় জাতীয় বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতি বছর ব্যয় করলেও দেশের প্রাথমিক তথা মৌলিক শিক্ষায় বিভক্তির ধারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, একই সঙ্গে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মানের ব্যবধান ও বৈষম্য যেমন সৃষ্টি হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার সর্বজনীন উদ্দেশ্যও অনেকাংশে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে। এখন এর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব শুধু প্রাথমিক শিক্ষাতেই নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থাতেই প্রতিফলিত হচ্ছে। শিক্ষাদর্শনের মূল কথাই হলো প্রাথমিক তথা বুনিয়াদি শিক্ষা অভিন্ন এবং সমমানের হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের দেশে এখন এক ডজন ধারা-উপধারার শিক্ষার মধ্যে ব্যাপক ধরনের বৈষম্য এবং মানের তারতম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যেখানে দেশের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার ধারণা করা হয়েছিল বাস্তবে সেটি সুদূরপরাহত হয়ে পড়েছে। অথচ দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজারের মতো। এগুলোতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শতভাগই ভর্তি হওয়ার কথা, কিন্তু ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন ধারা-উপধারায় বিভক্ত হওয়ার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। করোনার অতিমারি সংক্রমণে প্রাথমিক শিক্ষায় বিভাজন আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ভয়ানকভাবে হ্রাস পেয়েছে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে শিশুদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ধারা-উপধারার মাদ্রাসা, কেজি স্কুল ও বেসরকারি নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের নানা বিবেচনা থেকেই চলে যাচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী এবং পুরনো কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া জাতীয়করণকৃত বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা হতাশজনক। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হলেও এগুলোর অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং দক্ষ-অভিজ্ঞ শিক্ষকের স্বল্পতা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এসব প্রতিষ্ঠানবিমুখ করেছে। অধিকন্তু অভিভাবকদের উল্লেখযোগ্য অংশ সন্তানদের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে জাতীয়করণকৃত বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ও এখন শিক্ষার্থী হারাতে বসেছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা সচেতন অভিভাবকরা সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার জন্য শহরে চলে আসছেন। বিভিন্ন উপজেলা, জেলা বা রাজধানীতে এই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ভিত্তি করেই অসংখ্য কেজি স্কুল, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাহারি নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে অভিভাবকদের একটি অংশ উন্মুখ হয়ে আছেন কিন্তু মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব গ্রামেও যেমন একচেটিয়াভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, শহরগুলোতেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব পূরণ হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষই এগুলোর দেখভাল যথাযথভাবে করছে না। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েই আমরা জাতীয়ভাবে হাবুডুবু খাচ্ছি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধিদপ্তর দেশের প্রাথমিক শিক্ষার অভ্যন্তরে বিরাজমান শিক্ষার সমস্যা নিরসনে কতটা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে সেটি বড় ধরনের প্রশ্ন। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষক নিয়োগ, বার্ষিক বরাদ্দ ইত্যাদি খাতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সংস্থান করে চলছে। কিন্তু বিদ্যালয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব পালনে, প্রত্যাশা পূরণের ধারেকাছেও যেতে পারছে না। সেটি দেখভাল করার জন্য মাঠ পর্যায়ে যেসব শিক্ষা প্রশাসন রয়েছে তারাও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তৃণমূলের শিক্ষার সমস্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে পারছেন বলে মনে হয় না। বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান, ভাষাজ্ঞান, পঠন-পাঠনের দক্ষতা অর্জন আশানুরূপভাবে হচ্ছে না বলেই শিক্ষা সচেতন অভিভাবকদের হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণেই তাদের সন্তানরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বেশিরভাগ অভিভাবক যারা সন্তানদের লেখাপড়া সম্পর্কে ততটা সচেতন কিংবা দায়িত্ব বোধ করছেন না তাদের সন্তানরাই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছে। অন্যদিকে উপজেলা, জেলা এবং বড় বড় শহরগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিভাবকদের বিবেচনা থেকে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। এমন বাস্তবতায় প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আর সেটি করার জন্য দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ পরিচালনা করতে হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে একসময় এসএসসি উত্তীর্ণ যে কেউ আবেদন করতে পারতেন, এটি খুব সুবিবেচিত ছিল না। সে কারণেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার মান বারবার পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। সর্বশেষ বর্তমানে স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই পদে শিক্ষকতা করে আসছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদানের জন্য এসএসসি কিংবা এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের খুব বেশি আকর্ষণ করতে পারার কথা নয়। এটি জানা সত্ত্বেও বিগত দিনে ব্যাপক সংখ্যক এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার মান দ্রুত অবনতির দিকে ধাবিত হয়। এটি বুঝতে পেরেই সরকার এখন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করেছে। এখানে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে এই তিন ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে জ্ঞান-দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যে দুস্তর ব্যবধান রয়েছে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কর্মক্ষেত্রে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সেটি অনুধাবন করা।
তাছাড়া শিক্ষকদের পিটিআইসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণের যেসব উদ্যোগ সরকার থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগেও তারতম্য যেমন রয়েছে, অনীহাও যথেষ্ট পরিমাণে পরিদৃষ্ট হচ্ছে। বস্তুত প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শিশুদের আনন্দঘন পাঠদান, বিদ্যালয়মুখী করা এবং পাঠ্যপুস্তক ও অধীত বিষয়ে আকৃষ্ট করা খুবই কঠিন কাজ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিষয়টি নীতিনির্ধারণী মহলে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিল, তারপরও কিছু কিছু উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় যোগ দিয়েছেন। প্রয়োজন অধিক সংখ্যক মেধাবীকে এই পেশায় আকৃষ্ট করা। এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদার বিন্যাস ঘটানো। অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র এবং জুনিয়র পদে বিন্যস্ত করা। বেতন স্কেলেও তাদের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধায় সঙ্গতি রক্ষা করা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য যোগ্য, দক্ষ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগদানের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শ্রেণি পাঠদান, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন ঘটানোর জবাবদিহি ব্যবস্থা কার্যকর করা। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবস্থাপনাগত ত্রæটির কারণে শিক্ষার মান অবনমিত হচ্ছে, বিরাট সংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষার্থী শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার প্রবণতাও তাই বেড়ে চলছে। কিন্তু এর কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জনআকাক্সক্ষা পূরণ করতে পারছে না। সে কারণে ক্রমেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো গুরুত্ব হারাচ্ছে। এমনটি ঘটতে দেয়া যায় না। আমাদের লাখ লাখ শিশু শিক্ষার্থী তাদের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাগত ত্রæটি-বিচ্যুতি, দুর্বলতা দূরীকরণ, পঠন-পাঠনের মানসম্মত পরিবেশ সৃষ্টির নীতিকৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।
এটি দেখভাল করার জন্য যে শিক্ষা প্রশাসন রয়েছে সবার আগে সেটিকে ঢেলে সাজাতে হবে, একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষদের আকৃষ্ট করা, শিক্ষকতার পেশাকে প্রাথমিক শিক্ষকরা জাতি গঠনে উজাড় করে দেবেন- সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলধারার মর্যাদায় ফিরে আসতে সক্ষম হবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়