লঘুচাপে সাগরে তিন নম্বর সতর্কতা, নদীতে দুই নম্বর

আগের সংবাদ

অমিতাভ বচ্চনের ‘যমজ’কে দেখে হতবাক সবাই

পরের সংবাদ

যৌতুকের এক লাখ টাকা দিতে চেয়েও শেষ রক্ষা হলো না রোজিনার

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২২ , ২:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ৩০, ২০২২ , ৫:৩০ অপরাহ্ণ

যৌতুকের এক লাখ টাকা দিতে চেয়েও শেষ রক্ষা হলো না সাতক্ষীরায় রোজিনা বেগমের (৩৩)। স্বামীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হতে হয় তাকে। যৌতুকের ঘটনা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বামী শফিকুল ইসলাম শ্বাসরোধে হত্যা করে তাকে। যদিও মাত্র দুই বছর আগে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে রোজিনাকে বিয়ে করেছিল শফিকুল।

এর আগে আরও দুই বিয়ে করেন তিনি। তাদের সঙ্গেও যৌতুক সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে তার তালাক হয়ে যায়। মূলত বিয়ের পরই যৌতুকের দাবিতে সব স্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শফিকুল।

স্ত্রী রোজিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় স্বামী শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর। সোমবার (৩০ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সিআইডি এলআইসির এসএসপি মুক্তা ধর বলেন, একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে রবিবার রাতে সিএমপির আকবর শাহ থানাধীন এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ মে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানাধীন চরদাহ সাকিনস্থ জনৈক ছবিলার রহমানের ভাড়া করা বাসার তালাবদ্ধ ঘরে রোজিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ ঘরে গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।ঘটনা সংঘঠিত হওয়ার পর সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে গ্রেফতার শফিকুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি স্বীকার করে যে, এ পর্যন্ত তিনি চারটি বিয়ে করেছেন। ২০০৯ সালে তার নিজ এলাকার জনৈকা কোহিনুর খাতুনকে (১৮) প্রথম বিয়ে করেন। এ সংসার মাত্র দুই মাস স্থায়ী হয়। ২০১১ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন একই থানাধীন ফুলবাড়ী এলাকার জনৈকা শাহিদা খাতুনকে (২১)। এ সংসারের স্থায়িত্ব ছিল এক বছর দুই মাস। তাদের দাম্পত্য জীবনে জান্নাতি (৯) নামে একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। তৃতীয় বিয়ে করেন ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক এলাকায় ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত থাকাকালে রাশেদা বেগমকে (৩১)। তাদের দাম্পত্য জীবনে খাদিজা আক্তার সুমাইয়া (৭) নামে একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে।

এ সংসার বর্তমান থাকাবস্থায় গত ২০২০ সালে চতুর্থ বিয়ে করে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানাধীন নিহত রোজিনা বেগমকে। এ সংসারে কোনো সন্তানাদি নেই।

বিশেষ পুলিশ সুপার আরও বলেন, চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে কালিগঞ্জ থানা এলাকায় বাসা ভাড়া নেয় শফিকুল ইসলাম। তবে বিয়ের পর পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তিনি তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

মুক্তা ধর বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মে বিকেলে ভিকটিমকে যৌতুকের দাবিতে মারপিট করার সংবাদ পেয়ে নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী শফিকুলের দাবি করা যৌতুকের এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। কিন্তু ওই রাতেই শফিকুল ইসলাম ও ভিকটিম রোজিনা বেগমের মধ্যে যৌতুকের বিষয়ে বাগবিতণ্ডা হলে রোজিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়