আইপিএল চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটান্স

আগের সংবাদ

কর্ণফুলীর ঐতিহ্য রক্ষা করুন

পরের সংবাদ

গুয়াহাটিতে ‘নদী’ সম্মেলন : বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে নদীর সদ্ব্যবহারের উদ্যোগ

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২২ , ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ৩০, ২০২২ , ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

গুয়াহাটিতে দুই দিনের ‘নদী’ সম্মেলন সমাপ্ত হলো। তৃতীয় নদী সম্মেলনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদীসহ নদী বিষয়ে নানা আলোচনায় সমস্যার সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেন অতিথিরা। অভিন্ন ৫১ নদীর সদ্ব্যবহার কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় এবারের নদী সম্মেলনে। সেই সঙ্গে প্রাধান্য পায় হারানো নৌপথ উদ্ধার এবং তা আবার চালু করার কর্মপরিকল্পনা। মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সঠিক নদী ব্যবস্থাপনায় এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা সম্ভব। সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপিনস ও ব্রুনেই সরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে যোগাযোগ, সংস্কৃতি, বাণিজ্য, সংরক্ষণ এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে যৌথ মতামতকে উৎসাহিত করতে যৌথ নদী এবং এসব নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা করছেন আগত অতিথিরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গুরুত্ব দিয়েছেন এই নৌপথ এবং নৌপথের অববাহিকায় অবস্থিত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথকে আরো সমৃদ্ধ করার ওপর। ড. মোমেন বলেছেন, যখন রাস্তা ছিল না, রেল ছিল না, আকাশপথে যোগাযোগ ছিল না তখন নৌপথ ছিল একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এই অঞ্চলে এখনো অনেক জায়গা আছে যেখানে সড়ক যোগাযোগ উন্নত নয়, রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আকাশপথেও যাওয়া যায় না। কিন্তু নৌপথ সেখানে এখনো বিদ্যমান। এক সময়ের স্থলবেষ্টিত হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যগুলোর সঙ্গে নৌপথ সংযুক্ত করে কীভাবে যোগাযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা যায় সেটি এখন মূল লক্ষ্য। ফলে এই নদীর দ্বারা সংযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হবে। ড. মোমেনের ভাবনাগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক। এসব বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের (আসিয়ান) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে বাংলাদেশ কাজ করছে। রাজনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের বৃহৎ রপ্তানির গন্তব্যস্থল হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। বাংলাদেশের মোট প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বাণিজ্যের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৮০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৬১ কোটি ডলার এবং আমদানি করে ৭৩০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন নতুন রপ্তানি পণ্য যোগ হচ্ছে তালিকায়। ফলে আসিয়ান বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটি চেষ্টা করছে সরকার। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আকারে অনেক বড় হয়েছে এবং একই সঙ্গে আসিয়ান আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে যাবে। তখন নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য অব্যাহত রাখার জন্য আসিয়ান দেশগুলোর অনেকের সঙ্গে মুক্ত-বাণিজ্য বা অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করি। এক্ষেত্রে নদী সম্মেলনে নদীর সদ্ব্যবহারে যেসব প্রস্তাব উঠে আসছে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়