বল বয় থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলার

আগের সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ জুলাই থেকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

পরের সংবাদ

আইপিএলে ব্যাটে-বলে সেরা যারা

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২২ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ৩০, ২০২২ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৫তম আসরের পর্দা নেমেছে রবিবার। ২০২২ সালের আসরে এসে নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি। সাঞ্জু স্যামসনের রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার গুজরাট টাইটান্স। ট্রফিটা গুজরাটের কাছে গেলেও ব্যক্তিগত পুরস্কারের অধিকাংশই উঠেছে রাজস্থানের খেলোয়াড়দের হাতে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক জস বাটলার ও সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক যুজবেন্দ্র চাহাল দুজনই রাজস্থানের খেলোয়াড়। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটাও উঠেছে বাটলারের হাতেই।

আহমেদাবাদে আইপিএল ফাইনালে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ হয়েছেন গুজরাটের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। বল হাতে তিন উইকেট নেয়ার পর এই ভারতীয় অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে করেছেন ৩৪ রান। দলের জয়ে বড় অবদান রাখায় এই পুরস্কারটা তার প্রাপ্যই ছিল।

স্বপ্নের মতো একটি আইপিএল আসর কাটিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের ইংলিশ ওপেনার জস ব্যাটলার। ফাইনালে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক ২০২২ সালের টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারকারটা যে বাটলারই পাচ্ছেন তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। দল চ্যাম্পিয়ন না হতে পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে যে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়। সর্বোচ্চ রানের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ছয়, চার ও শতকের রেকর্ডটিও তারই। ৪৫টি ছক্কা, ৮৩টি চার ও চারটি শতক হাঁকিয়েছেন এই ইংলিশ ব্যাটার। ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অব দ্য সিজন’, ‘গেম চেঞ্জার অব দা সিজন’, ‘পাওয়ার প্লে অব দ্য সিজন’ এই তিনটি পুরস্কারও উঠেছে ইংলিশ ব্যাটার জস বাটলারের হাতে।

ব্যাট হাতে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে আসরে সর্বোচ্চ রান করে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ জিতেছেন রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার জস বাটলার। ১৭ ম্যাচে ৪টি করে শতক ও অর্ধশতকে ৫৭.৫৩ গড়ে ৮৬৩ রান করেছেন তিনি। তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৪৯.০৫। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন। প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন বাটলার। রান সংগ্রহের দিক থেকে তার ধারের কাছেও কেউ নেই।

বাটলারের থেকে প্রায় আড়াইশ রান কম নিয়ে দুই নম্বরে আছেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ১৫ ম্যাচে ২টি শতক ও ৪টি অর্ধশতকে ৫১.৩৩ গড়ে ৬১৬ রান করেন এই ভারতীয় ব্যাটার। স্ট্রাইকরেট ছিল ১৩৫.৩৮। তিন নম্বরে আছেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসের আরেক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক। ১৫ ম্যাচে ১টি শতক ও ৩টি অর্ধশতকে ৩৬.২৮ গড়ে ৫০৮ রান করেছেন তিনি। এই প্রোটিয়া ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৮.৯৭। ডি ককের ৭০ বলে অপরাজিত ১৪০ রানের ইনিংসটিই এবারের আসরে কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ১৫ ম্যাচে ৪৮৭ রান নিয়ে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় চারে গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া এবং ১৬ ম্যাচে ৪৮৩ নিয়ে পাঁচ নম্বরে থেকে আসর শেষ করেছেন তারই সতীর্থ শুভমান গিল।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এবারের আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি যুজবেন্দ্র চাহাল

বল হাতেও সেরা রাজস্থানের বোলার। সেরা পাঁচে থাকা থাকা বোলারদের মধ্যে তিনজন বোলারই স্পিনার। অবাক হওয়ার বিষয় তাদের দুইজন লেগস্পিনার ও একজন চায়নাম্যান। বাকি দুইজন হচ্ছেন পেসার। বল হাতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়ে ‘পার্পল ক্যাপ’ পেয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের ভারতীয় লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল।

আসরে ১৭ ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় এক নম্বরে থেকে শেষ করেছেন চাহাল। তার ব্যক্তিগত সেরা বোলিং ৪০ রানে ৪ উইকেট। ইকোনমি ছিল ৭.৭৫। ১৬ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর শ্রীলঙ্কান লেগস্পিনার হাসারাঙ্গা ডি সিলভা। সেরা বোলিং ৫/১৮। ইকোনমি ৭.৫৪। ১৩ ম্যাচে ২৩ উইকেট শিকার করে তিন নম্বরে পাঞ্জাব কিংসের পেসার কাগিসো রাবাদা। সেরা বোলিং ৪/৩৩। এই প্রোটিয়া পেসারের ইকোনমি ছিল ৮.৪৫। এছাড়া ১৪ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পেসার উমরান মালিক চার আর সমান ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের স্পিনার কুলদ্বীপ যাদব পাঁচ নম্বরে থেকে আসর শেষ করেছেন।

আইপিএলে সর্বোচ্চ ৫টি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন দিল্লি ক্যাপিট্যালসের অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে প্যাট কামিন্সের ১৪ বলের অর্ধশতকটি আসরের দ্রুততম অর্ধশতক। এলিমিনেটর ম্যাচে লখনৌর বিপক্ষে ৪৯ বলে আসরের দ্রুততম শতক হাঁকিয়েছেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর রজত পাতিদার। সেরা গড় গুজরাট টাইটান্সের ডেভিড মিলারের। এই প্রোটিয়া ব্যাটার ৬৮.৭১ গড়ে ৪৮১ রান করেছেন।

এবারের আসরের ফেয়ার-প্লে অ্যাওয়ার্ডটা যৌথভাবে পেয়েছে ফাইনালের দুটি দল গুজরাট টাইটান্স ও রাজস্থান রয়্যালস। ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ হয়েছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের উমরান মালিক। ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ হয়েছেন বেঙ্গালুরুর দিনেশ কার্তিক। ‘ফাস্টেস্ট ডেলিভারি অব দ্য সিজন’ গুজরাটের কিউই পেসার লুকি ফার্গুসন। ফাইনালে ১৫৭.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেই এই পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন। ‘ক্যাচ অব দ্য সিজন’ পুরস্কারটি উঠেছে এভিন লুইসের হাতে।

চমক জাগানো ২০২২ সালের আসর অনুষ্ঠিত হয় ১০টি দল নিয়ে। ১০ দলের আইপিএলে নতুন দুটি দল ছিল গুজরাট টাইটান্স ও লখনৌ সুপার জায়ান্টস। দুটি দলই নিশ্চিত করে প্লে-অফ। সবাইকে অবাক করে দিয়ে অভিষেকেই হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গুজরাট। চ্যাম্পিয়ন হয়ে গুজরাট প্রাইজমানি হিসেবে পেয়েছে ২০ কোটি রুপি এবং রানার্স আপ রাজস্থান রয়্যালস পেয়েছে সাড়ে ১২ কোটি রুপি।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়