কোর্তোয়া ও ভিনিসিয়াসে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ

আগের সংবাদ

আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপে দেশের অর্থনীতি

পরের সংবাদ

কৃষি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ হোক বাজেটে

রনি সরকার

শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২২ , ৬:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৯, ২০২২ , ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন খাতে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কৃষি খাত। গত দুই বছরে করোনার প্রকোপে যখন জিডিপিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখা সেবা খাতসহ অন্যান্য খাতে ধস নেমেছিল, তখন কৃষি খাতই আমাদের দেশের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখতে পেরেছিল। অতীতে বাংলাদেশ ছিল একটি খাদ্য ঘাটতির দেশ। দেশে প্রতি বছর গড়ে খাদ্য আমদানি করা হতো প্রায় ১৪-২২ লাখ টন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদেশে কৃষির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ১৯৭১-৭২ সালে দেশে খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩০-৩১ লাখ টনে। গত দুই বছরে পৃথিবীর মহান পেশায় নিয়োজিত কৃষক ভাইয়েরা করোনাকে অগ্রাহ্য করে আমাদের জন্য খাদ্যপণ্য উৎপাদন করেছিলেন। যার কারণে বর্তমানে কৃষি খাতে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। ফলে এখন সেই ঘাটতির হার নেমে এসেছে ১৪ শতাংশেরও নিচে। বর্তমানে চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান তৃতীয়। বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে। কিন্তু বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ধানের আবাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বোরো মৌসুমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে ধান সংগ্রহে চাষিদের বেগ পোহাতে হচ্ছে। সম্প্রতি ধানের কিছু জাতে ব্যাপক ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। দেশবাসী এখন পর্যন্ত এ জাতীয় রোগ দূরীকরণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখেনি। ফলে এ বছর চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম হতে পারে।
তাছাড়া পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনে দ্বিতীয়, আলু উৎপাদনে অষ্টম ও গম উৎপাদনে ষষ্ঠ বলে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়। প্রতি বছর দেশে মানুষ বাড়ছে ২০ লাখেরও বেশি। কৃষিজমি কমছে ৮ লাখ হেক্টর। তারপরও জনপ্রতি সরবরাহ কমছে না কৃষিপণ্যের। বরং তা দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয়কে কমিয়ে দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চরম আকার ধারণ করছে। মাথাপিছু আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি ঠিকই কিন্তু সমাজের আয় বৈষম্য এখন বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তাই আসন্ন বাজেটে আয় বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষি খাতে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা, প্রাপ্য মর্যাদা না থাকায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কৃষি আবাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্রামের অনেক মানুষ উৎপাদনবিমুখ হচ্ছে। ফলে দেশের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ না বাড়িয়ে কাগুজি মুদ্রা ছাপালে দেশে মূল্যস্ফীতি হবে। তাই কৃষিকাজে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে উৎসাহিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক যথেষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট হবে দেশের ৫১তম বাজেট। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এতে মোট দেশজ ও উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন বাজেটে জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তাই আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতেই সর্বোচ্চ বরাদ্দ আসা উচিত। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় জিডিপিতে কৃষি খাতের (শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং বন উপখাত) অবদানের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। স্বাধীনতার প্রথম দশকে জিডিপির অর্ধেকের বেশি আসত এ খাত থেকে। কারণ তখন অন্যান্য খাত সেভাবে প্রভাবিত ও প্রসারিত হয়নি। বর্তমানে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনার পরিমাণ অবশ্যই বাড়াতে হবে। একসময় নতুন কৃষিপ্রযুক্তি প্রসারের একমাত্র বাহন ছিল কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী। এখন তাতে যোগ হয়েছে ই-কৃষি। কৃষি সমস্যা সমাধানের জন্য মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে বাড়ি থেকে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন গ্রামের কৃষকরা। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষরা ই-কৃষির ধারণা মোটেও রাখে না, তাই তারা উক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার ফলে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের মাঠে গিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে হবে। অধিদপ্তরে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং তাদের দক্ষ করে তুলতে আবশ্যকীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এমনকি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে এবং কৃষি খাতকে ত্বরান্বিত রাখতে আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দকরণ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
রনি সরকার
শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়