মূল্যস্ফীতি ও বিদেশী মুদ্রা বিনিময় হারের দুই চ্যালেঞ্জে ব্যাংকিং খাত: গভর্নর

আগের সংবাদ

ঈদকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখার আহ্বান এফবিসিসিআইর

পরের সংবাদ

মিরপুরে স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ৬:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ৬:৫২ অপরাহ্ণ

দেশবরেণ্য সাংবাদিক, কলাম লেখক ও গীতিকার আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৮ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রী সেলিমা আফরোজ চৌধুরীর কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।

বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে মরদেহ কবরস্থানে নেওয়া হয়। দাফনকালে মিরপুর-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আগা খান মিন্টু, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এদিন বিকেল ৪টায় প্রেস ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক নেতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা জানাজায় অংশ নেন।

বিমানবন্দরে গাফফার চৌধুরীর কফিন। ছবি: সংগৃহীত

সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ কৃত্তিমানের মরদেহ এসে পৌঁছে। সেখান থেকে মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়ার সময় তার অমর সৃষ্টি একুশের সেই গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি… সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয়। এরপর পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শহীদ বেদীতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরাদেহ রাখা হয়। সেখানে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানান শত শত মানুষ। বিশ্বজনীন বাঙালি, অমর একুশের গানের রচয়িতা, প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। সবার শ্রদ্ধার্ঘ্যে ও ভালোবাসার ফুলে ছেয়ে গেছে তার কফিন।

বিমানবন্দরে অমর একুশের গানের শব্দস্রষ্টা গাফফার চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: সংগৃহীত
এ সময় মরদেহে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জে. এস এম সালাউদ্দিন ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কবির আহমেদ। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বরেণ্য সাহিত্যিক ও প্রখ্যাত কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা। ছবি: ভোরের কাগজ

বিকেল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল চারটায় গাফফার চৌধুরীর মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনা হয়। শ্রদ্ধা শেষে সেখানে জানাজা সম্পন্ন হয়।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিকেলে আনা হয় জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আব্দুল গাফফার চৌধুরীর কফিন। ছবি: ভোরের কাগজ
গত ১৯ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাফফার চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৮ বছর। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

গত ২০ মে পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনু‌ষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক শহীদ আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামে। ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। স্কুলে পড়ার সময় কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত কংগ্রেস হিতৈষী পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।

১৯৪৯ সালে তার প্রথম গল্প ছাপা হয় সওগাত পত্রিকায়। পরে দৈনিক ইনসাফ, দৈনিক সংবাদ, মাসিক সওগাত, মাসিক নকীব পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জয় বাংলা, যুগান্তর ও আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেন।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেসকো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

শনিবার (২৮ মে) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সরকারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়