ছাত্রদলের ওপর হামলাকারীরা কেউ পার পাবে না: মোশারফ

আগের সংবাদ

ছাত্রলীগ-যুবলীগকে ‘পাগলা ঘোড়া’ বললেন ভিপি নুর

পরের সংবাদ

আসাম নদী সম্মেলনে বক্তারা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নদীপথে যুক্ত হলে সমৃদ্ধি আসবে

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ৫:১০ অপরাহ্ণ

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র এবং মেকং নদীর তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের গোহাটি শহরে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী নদী সম্মেলন। ভারতের পূর্বমুখী কূটনীতির একটি বড় উদ্যোগ হলো উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং এই তিনটি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যে আরো সহযোগিতা বাড়ানো। শনিবার (২৮ মে) থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রেখেছেন।

সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত স্থান ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম আসাম রাজ্যটি বর্তমানে বিজিপি শাসিত। রাজ্যটিকে উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি সম্মেলনের লক্ষ্য হলেও চীন এখানে অনুপস্থিত, মিয়ানমারকেও দেখা যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশের উপস্থিতি ছিল সরব। ভারতের উপস্থিতি ছিল উচ্চপর্যায়ের।

সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন, থাইল্যান্ডের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার, সিঙ্গাপুর ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের প্রতিনিধিরা।

অনেক বক্তাই বলেছেন, প্রাচীনকালে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল নদীপথ। কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সেইসব নদী। নদীর অববাহিকাও গেছে বদলে। নতুন করে সেই হারিয়ে যাওয়া নদীর গৌরব কিভাবে উদ্ধার করা যায় সেটাই এখন আলোচনার বিষয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর গুরুত্ব দিয়েছেন এই নৌপথ এবং এর অববাহিকায় অবস্থিত দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌপথকে আরও সমৃদ্ধ করার ওপর।

ড. এম এ মোমেন বলেছেন, যখন রাস্তা ছিল না, রেল ছিল না, আকাশপথে যোগাযোগ ছিল না তখন একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল নৌপথ। এই অঞ্চলে এখনো অনেক জায়গা আছে যেখানে সড়ক যোগাযোগ উন্নত নয়, রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আকাশপথেও যাওয়া যায় না। কিন্তু নৌপথ সেখানে এখনো বিদ্যমান। এক সময় স্থলবেষ্টিত হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যগুলো নৌপথে সংযুক্ত করে কিভাবে যোগাযোগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা যায় সেটি এখন মূল লক্ষ্য।

ড. এম এ মোমেন বলেন, নদীর কোন সীমান্ত নেই, কোন ধর্ম নেই, কোনো জাতীয়তা নেই, কোনো বৈষম্য করে না। ফলে এই নদীর দ্বারা সংযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হানা অনেকটা সহজ।

নদী একসময় সভ্যতার অংশ ছিল উল্লেখ করে এম এ মোমেন বলেন, সেই সভ্যতাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে নদী ব্যবস্থাপনা কিভাবে করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কিভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে এ সম্মেলনে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর।

তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যে সমস্ত নৌপথ যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রকল্প, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে যে সমস্ত প্রকল্প, এমনকি মিয়ানমারের কালাদান প্রকল্প ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে সমস্ত সমৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

আশিয়ান-কে সামনে রেখে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য এবং আসিয়ানের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য জাপানের বিভিন্ন সহযোগিতার তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, আগামীতে নদী হবে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকেও পাল্টে দিতে পারে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং সম্মেলনের উদ্যোক্তা এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স এর নির্বাহী পরিচালক সব্যসাচী দত্ত উদ্বোধনী পর্বে নদীকে যোগাযোগের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

উল্লেখ করা যায় যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন এর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ ও বাংলাদেশে নিয়োজিত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দুরাইস্বামী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

সম্মেলন আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ রিজিওনাল স্টাডিস।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়