রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : নতুন শঙ্কায় পোশাকশিল্প!

আগের সংবাদ

প্রস্তাবিত ‘বড়নগর ইউনিয়ন’ ১২ বছরেও হয়নি বাস্তবায়ন

পরের সংবাদ

৫১ বছরেও মেলেনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২২ , ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৬, ২০২২ , ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

১৯৭১ সালে দেশে যখন স্বাধীনতাযুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠে তৎকালীন চকবাজারে রায় বাহাদুর এস্টেটের ম্যানেজার অবিনাশ চন্দ্র দাশকে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে পিতার লাশ পেতে অনেক স্থানে খোঁজ নিয়েও লাশ পাননি। অপরাধ ছিল যুদ্ধকালীন সময় পাক হানাদার বাহিনীর গোপন সংবাদ সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। এসব অভিযোগে পাক বাহিনী ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্র্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। হত্যা করার পর তার মৃতদেহটিও নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও তার ছেলেমেয়ে এমনকি আত্মীয়স্বজনের কাছে খোঁজ নিয়ে শুনতে হয় লজ্জাজনক এক ইতিহাস। এত বছর অতিবাহিত হলেও অবিনাশ চন্দ্র দাশের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এমনকি মেলেনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। তবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা স্মারকে ৫৪ নাম্বারে অবিনাশ চন্দ্র দাশের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু এখনো অবিনাশ চন্দ্র দাশের পরিবার শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি মিলেনি। তারা রোগে শোকে জর্জরিত প্রবীণ দুই মেয়ে ও এক ছেলে মৃত্যুর আগে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি নিয়ে মরতে চাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের দাবি রহস্যজনক কারণে তাদের বাবার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। তাই শহীদ অভিনাশের পরিবার এখনো তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশায় ও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। প্রবীণ রোগাকান্ত অবিনাশ চন্দ্র দাশের বড় মেয়ে মিনতি দাশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ জানি না। তবে আমরা সরকারি কোনো সাহায্য চাই না। আমরা চাই আমাদের পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি দেয়া হোক। অন্ততপক্ষে আমার বাবার আত্মাটা শান্তি পাবে।
জানা গেছে, তৎকালীন চকবাজার ইউনিয়নের প্রভাবশালী কাউন্সিলর প্রয়াত ছৈয়দ আহম্মদ খান এবং পরবর্তী কাউন্সিলরাও অবিনাশ দাশের মৃত্যু সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের কর্তা-ব্যক্তিরা এবং তদানীন্তন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত এনামুল হক দানু, মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র, মুকুল কান্তি দাশ, অমিত প্রসাদ মুৎসুদ্দি প্রমুখ ব্যক্তিরা ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সংগঠক ডা. মাহফুজুর রহমান পৃথকভাবে প্রত্যয়ন দিয়েছেন। জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ১৭০ সিরাজউদ্দৌলা রোডের চকবাজার পোস্ট অফিস সংলগ্ন ঈমামগঞ্জ মৌজার বিএস ৫৬৯ দাগের বিষ্ণু মন্দির ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক জায়গাটির মালিক রায় বাহাদুর উপেন্দ্র লাল রায়। এটি রায় বাহাদুর এস্টেট নামে পরিচিত। এখানে ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বিষ্ণু মন্দির ও ৩টি টিনশেড কাঁচা ঘর ছিল। এ এস্টেটের তৎকালীন ম্যানেজার ছিলেন অবিনাশ চন্দ্র দাশ, যাকে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

তনিমা রানী দাশ : বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়