স্পিকারের সঙ্গে সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলা সেলাকোভিচের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আগের সংবাদ

সাকিবের পাঁচ উইকেট, শ্রীলঙ্কার লিড ১৪১

পরের সংবাদ

শ্বশুরের দোকানে কর্মচারীর ছদ্মবেশে জঙ্গিনেতা আবদুল হাই

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২২ , ৪:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৬, ২০২২ , ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ- বাংলাদেশের (হুজি-বি) প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আবদুল হাই তিন বছর ধরে শ্বশুরের দোকানে কর্মচারীর ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) সকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার গৌরীপুরে শ্বশুরের দোকানে কর্মচারী সেজে ছিলেন আবদুল হাই। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের এই কমান্ডার, বিভিন্ন জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ২০০৬ সালের পর মুফতি আবদুল হাই আত্মগোপনে চলে যান। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। তবে তার পরিবার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করলেও তিনি কুমিল্লার গৌরীপুরে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত গৌরীপুরে শ্বশুরের দোকানে কর্মচারীর ছদ্মবেশে ছিলেন আবদুল হাই। এ সময় মাঝেমধ্যে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতেন। পরে কৌশলে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে ভোটার কার্ড সংগ্রহ করেন। নারায়ণগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে ২০০৯ সালের পর থেকে থাকতে শুরু করেন আবদুল হাই।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আবদুল হাই জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদ্রাসায় ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পড়েছেন। ১৯৮১ সালে দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়তে অবৈধভাবে পাশের দেশে যান।

১৯৮৫ সালের শেষে পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট বানিয়ে তিনি আবার বাংলাদেশে ঢোকেন। এক বছর পর আবার চলে যান পাশের দেশে। পরে সেখান থেকে ভিসা নিয়ে করাচিতে গিয়ে মুফতি টাইটেল নেন। ১৯৮৯ সালে ওই মাদ্রাসায় একাধিক বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি মিরানশাহ বর্ডার দিয়ে আফগানিস্তানে মুজাহিদ হিসেবে ঢোকেন। সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কয়েকজন জঙ্গি মিলে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন।

১৯৯১ সালে আবদুল হাই আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সে বছরই জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘হরকাতুল জিহাদ’ নামে প্রচার শুরু করেন। ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে কক্সবাজারের উখিয়া মাদ্রাসায় চালু করেন জঙ্গি কার্যক্রম প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ১৯৯৬ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এ ক্যাম্প থেকেই ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

এর আগে ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলে বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়। ওই মামলায় ২০২১ সালে ১৪ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এ দুই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মুফতি আবদুল হাই। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিনি।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়