সারা দেশে ছাত্রদলের বিক্ষোভ শনি-রবিবার

আগের সংবাদ

ডাবল হ্যাটট্রিকে ইতালিকে আলভারেজের চ্যালেঞ্জ

পরের সংবাদ

রিয়ালকে হারিয়ে ফাইনালে বার্সা

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২২ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৬, ২০২২ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয় দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। বিশ্ব ফুটবল তারকাদের জনপ্রিয় দুই ক্লাবের জার্সি গায়ে উঠতেই ক্ষণে ক্ষণে জমে উঠেছে লা লিগা। বিশ্বসেরা ফুটবলারদের মধ্যে প্রায় সবাই দুটির যে কোনো একটির জার্সি গায়ে স্প্যানিশ ফুটবলকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বর্তমান সময়ের সেরা দুই ফুটবলার লিওনেল মেসি দীর্ঘদিন বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন। শুধু মেসি নয়, ব্রাজিলিয়ান স্টার নেইমার জুনিয়র, উরুগুয়ের সুয়ারেজও বার্সেলোনার জার্সি গায়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে সি আর সেভেন খ্যাত পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। বর্তমানে রিয়ালের হয়ে সমর্থকদের চাহিদা পূরণ করছেন ফরসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা, ব্রাজিলিয়ান তরুণ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ক্যাসেমিরো, ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড লুকা মদ্রিচ ও বেলজিয়ামের হ্যাজার্ডরা। লা লিগায় রিয়াল-বার্সেলোনার জার্সিতে যে শুধু পুরুষ ফুটবলারদেরই আধিপত্য, তা নয়। দুই ক্লাবেই আছে নারী ফুটবল দল। পুরুষ ফুটবলারদের মতো তারাও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।

উয়েফা পুরুষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে বার্সেলোনাকে দেখা না গেলেও নারী উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই বার্সার রমণীদের আধিপত্য বিস্তার হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত উলফসবার্গের বিপক্ষে দুই লেগেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি থেকে বিদায় নেয়ার মাত্র পাঁচদিন পরই কোপা দেল রে রেইনার সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হাতছাড়া হলেও কোপা দেল রে রেইনার ফাইনাল টিকেট নিশ্চিত করেছে ঠিকই।

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার নিজেদের ঘরের মাঠে ৪-০ গোলের জয় পেয়েছেন বার্সার নারীরা। ম্যাচে শুরু থেকেই বার্সেলোনা ছড়ি ঘুরিয়েছে বেশ। দুবার শট প্রতিহত হয়েছে ক্রসবারে। এরপর রিয়াল গোলরক্ষক মিসাও বেশ কয়েকটি শট প্রতিহত করে বার্সেলোনাকে অপেক্ষায় রেখেছিলেন। তবে ১৯ মিনিটে অবশেষে প্রথম গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। পুতেয়াসের ক্রস থেকে মাদ্রিদের জালে বল জড়ান লেইকে মার্তেনস। প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। তবে কাজে লাগাতে পারেনি একটিও। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দলটি।

বিরতি থেকে ফিরেই অবশ্য গোলের দেখা পেয়ে যায় বার্সা, আসিস্তাত অশোয়ালার দারুণ একটা চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক, আইতানা বোনমাতির ফিরতি চেষ্টায় দ্বিতীয় গোল পায় বার্সা। এর মিনিট চারেক পরই তৃতীয় গোল নিয়ে ম্যাচটা রিয়ালের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায় বার্সা। মার্তেনসের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে বসেন মারিওনা কালদেনতে। ৭৫ মিনিটে অশোয়ালার দারুণ এক গোলে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। ম্যাচটা শেষ করে সেই ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই। তাতেই দলটি পৌঁছে যায় কোপা দে লা রেইনার ফাইনালে। আগামী রবিবার অ্যালেক্সিয়াদের প্রতিপক্ষ স্পোতিং হুয়েলভা।

অন্যদিকে ৬১ বছর পর ইউরোপিয়ান শিরোপা জয় করেছে রোমা। রোমা সর্বশেষ শিরোপা পেয়েছিল ১৯৬১ সালে। ফেয়ার্স কাপের বিপক্ষে জয় পেয়ে শিরোপা হাতে তোলার পর দীর্ঘ সময় পার করে বৃহস্পতিবার শিরোপা জিতেছে তারা। ইউরোপা কনফারেন্স লিগের ফাইনালে বৃহস্পতিবার আলবেনিয়ার তিরানা শহরের এয়ার আলবানিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নেদারল্যান্ডসের ক্লাব ফেইয়েনুর্ড রটারডামের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে রোমা। রোমার হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন নিকোলো জানিওলো। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন তিনি।

জিয়ানলুকা মানচিনি মাঝমাঠের একটু সামনে থেকে ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন ফেইয়েনুর্ডের বক্সের মধ্যে। সেখানে বলটি বুকে রিসিভ করেন নিকোলো জানিওলো। গোলরক্ষক তাকে রুখে দেয়ার জন্য সামনে এগিয়ে এলেও গোল হজম থেকে বাঁচতে পারেনি ফেইয়েনুর্ড। অগ্রসরমান গোলরক্ষক জাস্টিন বিজলোকে পরাস্ত করে বাম পায়ের আলতো টোকায় বল জালে জড়ান জানিওলো। এরপর ফেইয়েনুর্ড সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে রোমাও তাদের লিডকে দ্বিগুণ করতে পারেনি। নির্ধারিত সময় শেষে এই ১-০ গোলের জয়ের সুবাদে ৬১ বছরের ইউরোপিয়ান শিরোপার আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন মরিনহোর শিষ্যরা। প্রথম আসরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ডাচ ক্লাবটিকে। প্রথমে গোল পেলেও অন্যান্য দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল রোমা।

ডাচ ক্লাবটির ৬৭ শতাংশ বলের বিপরীতে মাত্র ৩৩ শতাংশ বলকে নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল রোমা। শটের দিক থেকেও বেশ পিছিয়ে ছিল তারা। সর্বসাকল্যে নয়টি শট নিয়েছিল মরিনহোর শিষ্যরা। যার মধ্যে মাত্র তিনটি ছিল লক্ষ্য ববরাবর। অন্যদিকে ১৩ শটের মধ্যে পাঁচটিকে লক্ষ্যে রেখেছিল ফেইয়েনুর্ড। শুধু রোমার শিরোপাই নয়, ইতিহাস গড়েছেন রোমার কোচ হোসে মরিনহো। এই শিরোপা জয়ের সুবাদে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে মরিনহোই একমাত্র কোচ, যিনি চারটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ইউরোপিয়ান শিরোপা জেতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

চলতি মৌসুম অনেক ক্লাবের সমর্থকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বেশ কিছু দীর্ঘ অপেক্ষার মোচন হয়েছে এই মৌসুমে। ফরাসি ক্লাব নঁতে দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রথমবার ফ্রেঞ্চ কাপ জিতেছে। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল বেতিস দীর্ঘ ১৭ বছর পর কোপা দেল রে’র শিরোপা জয় করেছে। ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলান ১১ বছরের মধ্যে প্রথম লিগ শিরোপার দেখা পেয়েছে। জার্মান কাপ জিতে প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছে জার্মানির ক্লাব আরবি লাইপজিগ। জার্মানির আরেক ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ২২ বছর পর প্রথম দেখা পেয়েছে ইউরোপিয়ান শিরোপার।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়