বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবের জামিন আদেশ প্রত্যাহার

আগের সংবাদ

৫১ বছরেও মেলেনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি

পরের সংবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : নতুন শঙ্কায় পোশাকশিল্প!

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২২ , ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৬, ২০২২ , ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তৈরি পোশাক খাত। করোনার প্রাদুর্ভাবে স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশও ফিরে আসে। ফলে বাড়ছে রপ্তানি। প্রতি মাসেই বাড়ে আয়। বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন রপ্তানিকারকরা। প্রত্যাশা করা হচ্ছিল চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকেই আয় ৫০ বিলিয়ন (৫ হাজার কোটি) ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির কারণে শঙ্কায় পড়েছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এমন অবস্থা পোশাক শিল্পে উদ্বেগের সঞ্চার করবে এটাই স্বাভাবিক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে পণ্য রপ্তানি করে ৪ হাজার ৩৩৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। রপ্তানির এ পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পোশাক খাতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা; যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৬ শতাংশ। এ খাতে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করা হয়, যা ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছে। আমাদের জন্য এমন খবর স্বস্তির ছিল। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখানে চরম প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক খাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। যেমন পরিবহন ভাড়া, ইউটিলিটি ট্যারিফ আর কাঁচামালের দাম বাড়ে যাওয়ায় লাগাতার বেড়েই চলেছে উৎপাদন খরচ। কিন্তু সে তুলনায় প্রস্তুতকৃত পণ্যের দাম বাড়ছে অনেক ধীরগতিতে। এ পরিস্থিতিতে ভারসাম্য রক্ষার এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাত। অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকের পথপরিক্রমায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। অনেক প্রতিকূলতা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির পথে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাকশিল্পের কোনো বিকল্প নেই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশ থেকে যে রেমিট্যান্স আসছে তার অন্যতম খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক অর্থ আয় করছে। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এরমধ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য একটি সম্ভাবনাময় এবং উদীয়মান বাজার রাশিয়ার ওপর কয়েকটি দেশ ব্যাপক পরিধিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশেষ করে সুইফট আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেমে রাশিয়ান ব্যাংকগুলোর অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের বাণিজ্যে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পোশাক খাতের এমন চ্যালেঞ্জগুলো শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়গুলো গুরত্ব দিয়ে বিবেচনায় রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়